বলা হয়ে থাকে মা, মাটি মাতৃভূমি স্বর্গের চেয়েও দামি। ইসলাম ধর্ম অনুসারে বলা হয়ে থাকে আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের সাথে কিছুই যাবে না,পাবো তো শুধু সাড়ে তিন হাত মাটি।সে মাটি নিয়ে চলছে রমরমা ব্যবসা। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর কে ক্ষমতার বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে নির্বিচারে মাটি কেটে উজাড় করা হচ্ছে। ফলে ঝুঁকিতে পড়ছে বেড়িবাঁধ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিনরাত আবু জাহেলদের বিধ্বংসী কার্যক্রম চলছে নির্দ্বিধায় নিঃসংকোচে।এসবের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত অধিদপ্তরের কেউ বিষয়টি জানে না বলে জানিয়েছেন। তাদের অভিমত তাদের কার্যক্রম অফিস আর নিজ বাসভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং তারা এই ব্যাপারে অবগত নয়। অথচ দিনরাত পালা করে ভারি ও মাঝারি স্কেভেটর, ট্রাক সংযোগে মাটি কেটে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে বেড়িবাঁধের মাটি হালকা হয়ে যাচ্ছে। বেড়িবাঁধের খুবই নিকটবর্তী স্থান থেকে গভীরভাবে মাটি কাটার ফলে সুউচ্চ লোকালয় রক্ষাকারী বেড়িবাঁধ আস্তে আস্তে নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এই বিষয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে এলাকাবাসী বলছে, এগুলো উপর মহলের যোগসাজশে হচ্ছে। আর উপর মহলের লোকেরা নতুন টাকার সুগন্ধে চোখ বুজে সুভাষ নিচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া রায়ছড়ার ৮ নং ওয়ার্ডের সুন্দরী পাড়া (প্রঃ সুন্দী পাড়া)সংলগ্ন চর এলাকায় চিংড়ি বাঁধ সংস্কারের দোহাই দিয়ে অবৈধভাবে চলছে মাটি কাটার রমরমা মহােৎসব। এই মাটি কাটার সিন্ডিকেটের মূলে আছেন সিএনজি কামাল ও দাত্ত কামালের মত প্রভাবশালী লোক। কেউ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
২০ জানুয়ারি বিকেলে স্থানীয়দের অভিযোগে সরজমিনে দেখতে গেলে আমরা মাটি কাটার সত্যতা পাই। শুধু মাটি কেটে ক্ষান্ত হয়নি তারা বরং আশেপাশের পুরনো পুকুর ডোবা জলাশয় ভরাট করছে, যা আইন বহির্ভূত কার্যক্রম।যত্রতত্র মাঠি ভরাটের কারনে বর্ষাকালে পানির স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে।একদিকে সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মাটি কেটে ফেলা হচ্ছে, অপরদিকে পুরানো জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। এতে বর্ষাকালে বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে পানি লোকালয়ে চলে আসার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছেফলে বিপন্ন হবে জনবসতি বিপন্ন হবে জীবন।তারা এসব করেও ক্ষান্ত হয়নি বরং তারা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মাটি কাটার জায়গা গুলো নিজেদের প্রভাব খাঁটিয়ে ইজারা দিচ্ছে এবং নতুন নতুন চরাঞ্চল সিন্ডিকেটের কব্জায় চলে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কামাল প্রকাশ সিএনজি কামাল বলেন,মাছের ঘোনা করার জন্য মাটি কাঁটা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন,মাটি কাঁটার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন। পুলিশ এসে নিয়মিত তদন্ত করে যায়। এ ব্যাপারে আমরা বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই নাসিরুদ্দিন এবং এস আই জামালের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, এ বিষয়ে উনারা কিছুই জানেন না। আমরা এ বিষয়ে বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি সাইফুল্লাহ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাটি কাটার বিষয়ে আমরা কখনো অনুমতি দিইনি। আপনারা এসিল্যান্ড মহোদয়কে অভিহিত করেন। যদি আপনারা এলাকার এলাকাবাসীসহ এসিল্যান্ড মহোদয়কে অভিহিত করেন,আমরা এ বিষয়ে এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিব। এলাকাবাসীকে এ ব্যাপারে অবহিত করলে এলাকাবাসী প্রাণনাশের ভয়ে মুখ খুলতে চাইছে না।তারা বলছে তারা কেউ বলির পাঁঠা হতে চায় না।


