কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক নৌপথে যাতায়াত ও পরিবহণ দুর্ভোগ দূর হবে

অবশেষে নদীপথে নাব্যতা আনতে খনন করা হচ্ছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী নদীর সংযুক্ত ও কাপ্তাই হ্রদের অংশ তিনটি নদী কাচালং, রাইক্ষ্যং ও শলক।স্বাধীনতার পর এই প্রথম বৃহৎ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে একনেক।
‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী এবং সংযুক্ত নদীসমূহের যথাক্ষমে কাচালং, রাইক্ষ্যং ও শলকে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এ প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট ৩টি খাল খনন করলে এই অঞ্চলের কি কি সুবিধা সেই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাবনা দেবার পর একনেক এই বৃহৎ প্রকল্পের অনুমোদন মেলে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির অধীনে ওই তিনটি নদীর নৌপথ খনন করা হবে। ১৯৬০ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর এবারই প্রথমবারের মতো হ্রদকেন্দ্রিক ওই তিনটি নদীর নৌপথ খনন হতে যাচ্ছে। এর ফলে নদীপথে চলাচলে দুর্ভোগ কমবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় গৃহীত এ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পে নদী খননের পাশাপাশি

নদীপাড়ের ভাঙনরোধ, নদীর পাড় রক্ষা, খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রকল্পটির অধীনে কাপ্তাই হ্রদের পরিবেশগত অবস্থা জানতে জরিপ কাজ পরিচালিত হবে। তারা জানান, প্রকল্পে নদী খননের কাজে রয়েছে কাচালং নদীর ৪৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার, রাইক্ষ্যং নদীর ১০ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং শলক নদীর ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটারসহ মোট ৬৫ কিলোমিটার নৌপথ খনন। এছাড়া জেলার ১০ উপজেলার ১০টি খালের মোট ২৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার নৌপথ খননের পাশাপাশি ৪০টি স্থানে মোট ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। চলিত মাসে  কাজ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন নাগাদ তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর থেকে কিংবা স্বাধীনতার পর থেকে ওই সব নদীপথের খনন হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক নৌপথে যাতায়াত ও পরিবহণ দুর্ভোগ দূর হবে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ