এম. আলী হোসেন
আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া সংসদীয় আসন ১৩-এ এবার ত্রয়োদশ নির্বাচনে ত্রিমূখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। যতই দিন যাচ্ছে কিংবা নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী সমীকরণ ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লাকে প্রতিযোগিতায় রেখে মোমবাতিও ঝিলিক মারতে পারে।
আওয়ামী লীগের দুই বাঘা বাঘা নেতা আতাউর রহমান কায়সার ও আখতারুজ্জামান চৌধুরীকে বাবুকে ইতোপূর্বে অনুস্টিত সংসদ নির্বাচনে পরাজিত করে সরোয়ার জামাল নিজাম দেশজুড়ে পরিচিত পেয়েছিলেন। তখন থেকে কেন্দ্র ও স্থানীয়ভাবে সরোয়ার জামান নিজাম বিএনপির নির্ভরযোগ্য অনিবার্য নেতায় পরিণত হন।এ আসনে বিএনপির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাও রয়েছে।
আওয়ামী লীগের পলিসি ম্যাকিং নেতারা এ জনপদে বর্তমানে না থাকলেও তারা যথাযথ সময়ে ঠিকই সাধারণ ভোটারদের একটা নির্দেশনা দেবে। এটা হতে পারে কেন্দ্র বা স্থানীয়ভাবেও।সেটার উপর হঠাৎ নির্বাচনী হাওয়া ঘুরে যেতে পারে এখানে। বিএনপি জামাতের পাশাপাশি ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এস এম শাহজাহান মোমবাতি মার্কা নিয়ে সর্তকভাবে বিজয়ের নেশায় হাঁটছে।
কিছু কিছু দলকানা লোকেরা হই-হুল্লোর করলেও অধিকাংশ সাধারণ ভোটার এবার বুঝে শুনে ভোট দেবে।হিন্দু ও বৌদ্ধ ভোটারা এবার সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় আছে। কওমীরা তাদের মনোনিত প্রার্থী না থাকায় এখনো কোন দিকে হেলে পড়েনি এখনো।
হাটহাজারী,পটিয়া মাদ্রাসার আলেম ও তবলিক মৌলভিদের নির্দেশনা মেনে কওমিরা কিছুটা ভোটে প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে সুন্নী আলেম ওলেমাগণ ভেতরে ভেতরে ও কোথাও কোথাও প্রকাশ্য মোমবাতিতে আস্থা রাখছে।
জাতীয় পার্ট জিএম কাদের সমর্থিত আবদুর রব চৌধুরী (লাঙ্গল) ও ববি হাজ্জাদের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)’র প্রার্থী মোহাম্মদ এমরানও (সিংহ) আছে এখানে। দুইজনেই একাধিকবার এই আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। বিজিত হয়ে হাসিমুখে বরণ নেবার ইতিহাস রয়েছে তাদের। এখানকার অলিগলিও চেনা আছে তাঁদের। শেষ পর্যন্ত তারাও বিজয়ী ও বিজিত প্রার্থীদের মোক্ষম সময়ে নিশ্চিতভাবে কাজে আসবে বলে ধারণা করছে সচেতনমহল।
১০ দলের জোট মনোনিত প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ ইমরান জামাত মনোনিত ভোট কৌশলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে সমর্থন করে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন । ইনসিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মুহাম্মদ রেজাউল মোস্তাফার নড়াছড়াও নেই। এলাকার শ’ শ’ মানুষ ইনসিয়াত বিপ্লবের নামও শুনেনি। অথচ ইনসিয়াত বিপ্লব মানবতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলে জানা গেছে।
সরোয়ার জামাল নিজাম এমপি হলে মন্ত্রীও হবেন ।এত সফলতা সহ্য করতে পারছে বিএনপির অন্য সমর্থকেরা। যারা নমিনেশন চেয়েও পাননি ও যারা ১৬ বছর সুখে দুঃখে সরোয়ার জামাল নিজামকে আন্দোলন সংগ্রামে পাননি এমন দাবীদার ভোটারগণ বিএনপি’র সমর্থক হলেও সরোয়ার জামাল নিজাম এমপি – মন্ত্রী হোক এটা তারা চান না। বহু জনের সাথে ভিন্ন কৌশলে কথা বলে লুকিয়ে রাখা এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সরোয়ার জামাল নিজাম বিদ্রোহীদের মন জয় করতে না পারলে মোমবাতির আলো আরো জ্বলে উঠতে পারে। আওয়ামী লীগের ভোটারগণও বিএনপি জামাতের বিপরীতে শুধুমাত্র এই আসনে মোমবাতি বেছে নিতে পারে বলে একটি সুত্রে জানা গেছে।
খালেদা জিয়া জীবিত অবস্থায় জামাতকে বেঈমান ও মুনাফেক বলেছেন আবার তারেক জিয়া বলেছেন শিরিকি দল, বলেছেন বেহস্ত দেবার নামে ভোট চাওয়া শিরিক করার মতোই। ।এই দুই কারণে নিজাম বিরোধীরা জামাতকে আমলে নিতে পারছেন না।তা ছাড়া প্রায়ই সারাদেশে বিএনপি জামাতের মধ্যে নির্বাচনী দ্বন্ধ ও তীব্র প্রতিযোগিতা হচ্ছে।অন্যদিকে পীর ভক্ত ও মাজারের প্রতি শ্রদ্ধা -সম্মান আছে তাদের পছন্দ মোমবাতি।
এখন লায়ন হেলাল ও আলী আব্বাস গ্রুপ, আওয়ামী লীগের বিশাল সাধারণ ভোট ও হিন্দু ভোটারেরা এবার চুড়ান্ত বিজয়ে মেজর ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। এই মুহর্তে ধানের শীষ এগিয়ে আছে, ভোট বাড়ছে দাঁড়িপাল্লার ও গতি পাচ্ছে মোমবাতি। দেখা যাক, শেষে কি হয় ?


