বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক মহামারী করোনা যুদ্ধে সরকারের স্বাস্থ্যসেবায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকগন

অভিজিৎ দে রিপন
বিশ্ব জুড়ে মহামারী করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ এর সাথে চলছে নীরব যুদ্ধ । বাংলাদেশে গত ৮ই মার্চ ইতালী ফেরত প্রবাসীর প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকার প্রথমে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল নির্ধারণ করে।করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত চীন, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত প্রবাসী দেশে ফিরে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ায় সারা দেশেই রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলায়ও সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের তালিকায় যুক্ত করা হয়। করোনা সংকট মোকাবেলায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী দেশগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছে তখন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর বিভিন্ন অভিযোগের আঙুল উঠে।করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ঝুঁকি এড়াতে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, চেম্বার ও ডেন্টাল চেম্বারে চিকিৎসাসেবা সীমিত করে কতৃপক্ষ ও চিকিৎসকগন। অল্প সংখ্যাক ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দিলেও পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) প্রতিরোধমূলক পোশাক, মাস্ক,বিশেষ ধরনের চশমা, গ্লাভস,হেলমেট,যা জীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে সুরক্ষা দেয় এর অভাবে অনেক চিকিৎসক নিজেদেরকে গুটিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় । অনেকে পুরোপুরি চেম্বার বন্ধ করে দেন। ফলে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়।নন-কোভিড বা সাধারণ রোগীরা বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, চেম্বার ও দন্তরুগীরা ডেন্টাল চেম্বারে চিকিৎসা না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে বা এক চেম্বার থেকে অন্য চেম্বারে ছুটে যাচ্ছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্র মারা যায়। নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে নয় মাসের গর্ভবতী এক নারী আটোরিকশাতেই মারা যায়। গত ৯ মে বাংলাদেশ সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মারা যান। চট্টগ্রামে একজন আওয়ামীলীগ নেতা বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও আইসিইউ এর অভাবে যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় মারা যায়। আইসিইউ খুজতে খুজতে মারা গেল একজন অন্তসর্তা নারী ।এছাড়াও হাসপাতালের ভর্তি হতে না পেরে হাসপাতালের বারান্দায় সন্তান প্রসবের কয়েকটি ঘটনাও ঘটে। চিকিৎসার অভাবে রুগী মারা যাওয়ার বিষয় গুলো সামাজিক যোগাযোগ ও সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়। এবং সাধারণ জনগণের ক্ষোভ প্রকাশ করে। স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও দেশের চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷
নোভেল করোনাভাইরাস কোভিট -১৯ এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রদুর্ভাব ও সংক্রমণ রোধে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। জরুরী সেবা হিসেবে ডাক্তার-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থকর্মী এবং ঔষধের ফার্মেসিগুলো লকডাউনের বাহিরে রাখা হয়। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যখন চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ মারা যাওয়ার খবর প্রকাশ পাচ্ছে তখন করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুকি মাথায় নিয়ে অসহায় মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন যুগযুগ ধরে শহর-নগর থেকে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল পর্যন্ত সেবা দিয়ে আসা চিরচেনা ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকগন। তারা পারেনি নিজেদেরকে গুটিয়ে নিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায় বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্রাভেট চেম্বারে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে সাধারণ রোগীরা এখন ননগ্রেজুয়েট ডাক্তারদের শরণাপন্ন হয়ে সেবা নিচ্ছেন। জাতির ক্রান্তিলগ্নে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরশা হয়ে উঠেছে ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকগন। তারা চেম্বারে আসা রোগীদের উপসর্গ দেখে সাধারণ রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং পাশাপাশি করোনার উপসর্গ সন্দেহ হলে সরকারি উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এবং করোনা আতঙ্ক দূর ও প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের ইনোভেশনস ইন পভার্টি অ্যাকশনের (আইপিএ) গবেষণায় দেখা যায়, এই করোনা দুর্যোগময় মুহূর্তে করোনার উপসর্গ দেখা দিলেও প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রথমে সেবা নিচ্ছেন ফার্মেসিতে বসা এই অনানুষ্ঠানিক চিকিৎসকদের (রহভড়ৎসধষ যবধষঃযপধৎব ঢ়ৎড়ারফবৎ) কাছে। (সুত্রঃ প্রথম আলো,১৯ মে)
প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতিতে মৃত্যুঁ ঝুকি নিয়ে যেসব ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকগন বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে তারা করোনায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকির পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জীবনকেও ঝুঁকিতে রেখেছেন। করোনা মোকাবিলায় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকগনের দিকে নজর রাখছে না। বরাবরের মত অবহেলিত ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসক সমাজ। অথচ স্বাধীনও যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের ভেঙ্গে পড়া স্বাস্থ্যখাতকে পুনঃগঠনে স্বাধীন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা, বাংলার স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মাত্র সাড়ে তিন বছরের সরকারে দেশের হাসপাতালসমুহে ডাক্তার, র্নাস নিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়ে দেশের চিকিৎসাসেবাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। ১৯৭৩ সালে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে পূর্বে ১৯১৪-১৯৬৪ সালের লাইসেন্সশিয়েট অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (এল.এম.এফ) মেম্বার অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (এম.এম.এফ) চিকিৎসকগণের কারিকুলাম অনুসারে বাংলাদেশে মধ্যম মানের ডি.এম.এফ চিকিৎসক তৈরী করার জন্য সরকারী ম্যাটস (গঅঝঞ) তৈরী করেছিলেন। পূর্বের এল.এম.এফ, এম.এম.এফ সনদধারী চিকিৎসকগণকে কনডেন্সে এম.বি.বি.এস কোর্স করিয়ে স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে পদোন্নতির মাধ্যমে মহকুমা হাসপাতাল ও প্রশাসনে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এবং ১৯৮০ সালে তৎকালীন সরকার দন্ত চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন ও গুরুত্ব অনুধাবন করে ননগ্রেজুয়েট দন্ত চিকিৎসকদের মহান জাতীয় সংসদে রেজিষ্ট্রেশন প্রদানের আইন পাশ করেন। এর প্রেক্ষিতে ১৯৮২ সালে পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল ২৭৯ জন ননগ্রেজুয়েট দন্ত চিকিৎসককে রেজিষ্ট্রেশনও প্রদান করেন। পরবর্তীতে পরিক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ননগ্রেজুয়েট দন্ত চিকিৎসকদের ১৯৯০ ও ১৯৯৭ সালে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে ননগ্রেজুয়েট দন্ত চিকিৎসকগন সকল শর্তাদি পূরণ করে আবেদন পত্র দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুইবার পরিক্ষার জন্য ডাকা হলে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে অদৃশ্য কারণে পরর্বতীতে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরিক্ষা স্থগিত করা হয়। যা বৃহত্তর ননগ্রেজুয়েট দন্ত চিকিৎসক জনগোষ্টিকে হতাশ করে। কিন্তু ননগ্রেজুয়েট দন্ত চিকিৎসকগণের মান উন্নয়ন ও দাবী আদায় না হলেও সাধারণ জনগোষ্টির চিকিৎসা সেবা অব্যহত রেখে সাধারণ জনগোষ্টির সুখ দুঃখের সাথে থাকার পাশাপাশি সরকারের ঘোষিত স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
অত্যান্ত দুঃখের বিষয় বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এ্যাক্ট -১৯৮০ বাতিল করে প্রণীত বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এ্যাক্ট ২০১০ এ কোন ক্যাটাগরিতে ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত না করে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এ্যাক্ট-২০১০ প্রণীত হয়। এবং বলা হয় চিকিৎসা ও দন্ত চিকিৎসা বিদ্যায় ন্যূনতম স্নাতক এমবিবিএস/ বিডিএস ডিগ্রিধারীগণ ডাক্তার উপাধি ব্যবহার করতে পারবেনা। যার ফলে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয় এই চিকিৎসক সমাজকে। নানান অভিযোগ অবহেলার মধ্যেও গ্রেজুয়েট চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুগ যুগ ধরে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকগন। উল্লেখ্য এই চিকিৎসক সমাজ বিভিন্ন ইনিস্টিউট থেকে বিভিন্ন মেয়াদে কোর্স ও ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। বৈশ্বিক মহামারীর এই সময়ে ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকগন চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে আছেন উভয়সংকটে। একদিকে সামাজিক দায়বদ্ধতা অন্যদিকে করোনা সংক্রমণের ভয়। এই চিকিৎসকদের নেই বিশেষ প্রশিক্ষণ বা প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম। বেশির ভাগ চিকিৎসক করোনা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ছাড়াই রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। সেবা দিতে গিয়ে অনেক ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন ও মৃত্যু বরণ করেছেন। ২১ মে সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেম নামের একজন পল্লী চিকিৎসক মারা গেছেন। সুত্রঃ দৈনিক সমকাল। ৩০ মে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে টাঙ্গাইলে প্রশান্ত কুমার চন্দ নামে এক পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। সুত্রঃ আর টিভি নিউজ।১জুন চাঁদপুর শহরতলির বাবুরহাট বাজারের পল্লী চিকিৎসক আশুতোষ আচার্যী সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। সুত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব। গত ০৪ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক পল্লী চিকিৎসক মোঃ শহীদউল্যা মৃত্যু বরণ করেন। সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক। চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন পল্লী চিকিৎসক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ (৬৫) এর মৃত্যু হয়েছে। সুত্রঃ সারাবাংলা। এই জাতীয় দুর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা রুগীদের চিকিৎসাসেবায় পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের চিকিৎসক সমাজ। অদৃশ্য নীরব ঘাতক এই ভাইরাসের সাথে জীবন পণ করে মানুষের জন্য লড়ে যাচ্ছেন তারা।যারা মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন সেসব চিকিৎসকদের প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা এবং সেবা দিতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের আত্মার সদ্গতি কামনা ও আক্রান্তদের সুস্থতা কামনা করছি।
দেশে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে কোভিট-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা চিকিৎসা দিয়েছেন এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছেন সেই সব চিকিৎসক, সেবিকা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকার বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবে বলে জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য, যারা প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ইন্সুরেন্সের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু এই করোনা মহামারিতে শহর-নগর থেকে গ্রামের প্রত্যান্ত অঞ্চল পর্যর্ন্ত জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসকগন ও দন্ত চিকিৎসকগন সরকারী কোন সুযোগ সুবিধার আওতায় নেই। এবং থাকার কথাও নয়। অনিবন্ধিত এই চিকিৎসক সমাজ যুগ যুগ ধরে নিবন্ধনের দাবীতে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েও অদৃশ্য কারণে ঝুলে আছে। দেশে স্বাস্থ্য সেবায় চিকিৎসক এখনো অপ্রতুল যা বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়। বৈশ্বিক মানদন্ড অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ১০ জন চিকিৎসক, ৩০ নার্স অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশে এর অবস্থান প্রর্যাপ্ত নয়।এই সময়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকদের ভূমিকা গুরুত্বসহকারে নেওয়া প্রয়োজন । বৈশ্বিক মহামারী করোনা যুদ্ধে সরকারের স্বাস্থ্যসেবায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসকগন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হতে পারে দুঃসময়ের বন্ধু। কারণ স্বাভাবিক সময়েও এই চিকিৎসক সমাজ যেকোনো অসুস্থতায় নিম্ম আয়ের মানুষের আস্থর জায়গা করে নিয়েছেন। সরকারি সহযোগী পেলে রোগীদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা অব্যাহত রাখা, করোনা উপসর্গসহ রোগীদের চিহ্নিত করে তাদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা ও গুজব প্রতিরোধ করায় স্বাস্থ্যসেবক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।এই চিকিৎসক সমাজ গ্রামগঞ্জে যেখানে ভালো ক্লিনিক বা হাসপাতাল নেই,গ্রেজুয়েট চিকিৎসক নেই, সেখানে যুগ যুগ ধরে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখে সমাজের সর্বস্তরে এই নিবিড় ভরসার সম্পর্ক তাদের আজও জনপ্রিয় করে রেখেছে।
স্বাধীন বাংলার স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মানে বর্তমান জনবান্ধব ও স্বাস্থ্যবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বশান্তির অগ্রদুত, মাদার অব হিউমিনিটি, মানবতার আশ্রয়দাতা, বিশ্ব ক্ষমতাধর রাষ্ট্র নায়কের দৃষ্টান্ত গনতন্ত্রের মানস কন্যা, জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্ন পুরণে যথাযথ মানসম্পন্ন আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য সেবা আন্তর্জাতিক ভাবে সাফল্যও প্রশংসিত। সরকারের এ অর্জনে সমস্ত পেশাজীবি চিকিৎসকদের সাথে ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসকদেরও রয়েছে অনন্য অবদান। বৃহত্তর এ ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসক জনগোষ্টির ভাগ্য উন্নয়ন ও জীবন যাত্রার মান চেয়ে আছে মানবতার মা খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ ও কার্যকারিতার উপর। ননগ্রেজুয়েট চিকিৎসকদের নিবন্ধনের আওতায় এনে সরকারের গৃহিত কর্মপরিকল্পনা দ্র“ত বাস্তবায়িত না হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা ক্ষেত্রে পড়বে দারুন প্রভাব ও বেকারত্বের চাপ। অন্যথায় হারিয়ে যাওয়া পাঠ্য বইয়ের রচনা “গ্রাম ডাক্তার”র মত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অবহেলা, বিভিন্ন হয়রানির স্বীকার হয়ে কোন এক সময় হারিয়ে যাবে এই চিকিৎসক সমাজ।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply