১৫ জুন ২০২৪ / ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / রাত ৩:৪৭/ শনিবার
জুন ১৫, ২০২৪ ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ

আনোয়ারার বৈরাগে আশ্রিত সেলিমের খুঁজে পুলিশ

     

আহমদ কবির

বৈরাগের রহস্য পুরুষ সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে খুঁজতে পুলিশ মাঠে নেমেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।উর্ধ্বতন পুলিশের নির্দেশে গত ১৮মার্চ বৈরাগ গ্রামে তদন্তে আসে একদল পুলিশ। রাঙ্গাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সোলেমানের নেতৃত্বে পুলিশের তদন্ত দল প্রথমে স্থানীয় ইমাম হোসেনের বাড়িতে যায়। পরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে জিজ্ঞাসা করেন সেলিম নামের কাউকে চিনেন কিনা। এসময় এলাকার লোকজন বলেন, সেলিম দীর্ঘদিন ধরে বৈরাগ গ্রামের বাসিন্দা ইমাম হোসেনের বাড়িতে থাকেন।কিন্তু তারবাড়ি, ঠিকানা, তিনি কি করেন তার স্ত্রী পুত্র কোথায় থাকেন বৈরাগে আছে কিনা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেনি।তাছাড়া এই সেলিম কিভাবে বৈরাগ গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার হয়েছে তাও কেই বলতে পারেনি।হঠাৎপুলিশের উপস্থিতি দেখে উৎসুক জনতার ভিড় জমতে থাকে। এই সময় জনতার ভিড় সামলাতে পুলিশকে হিমসিম খেতে হয়।এদিকে পুলিশের রেড নোটিশ জারির পর অনেকটা গা ঢাকা দিয়ে আছে সেলিম। একই অবস্থা আশ্রয় দাতা ইমাম হোসেনেরও।তিনি পুলিশের সামনে সাংবাদিক ধরে অশ্রাব্য গালাগাল ও হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।পুলিশও স্বীকার করেছেন বিষয়টি।স্থানীয়রা অভিযোগে জানায়, দীর্ঘ ২৮ বছরের অধিককাল ধরে এই সেলিম বৈরাগ গ্রামে রহস্যজনক ভাবে বসবাস করছে।কিন্তু কেউ তার পরিচয় জানেনা।বাড়ি কোথায় স্ত্রী পুত্র আছে কিনা তাও তিনি কাউকে বলেননি।তিনি থাকেন ইমামের আশ্রয়ে। তবে তিনি তার ভোটার আইডিতে পরিচয় দিয়েছেন বৈরাগ গ্রাম। তার স্ত্রীর নামও আছে পরিচিতি কার্ডে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈরাগ গ্রামে তার কেউ নেই।আছে আশ্রয়দাতা ইমাম হেসেন।  থাকেনও তার বাড়িতে।তা ছাড়া এই সেলিম ইমাম হোসেনের হয়ে বেশ কয়েকটি মামলায় থানা পুলিশ ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই মিথ্যা সাক্ষ্য’র কারনে স্থানীয় আবদুল আলিম তালুকদারসহ বেশ কয়েকজনকে জেল হাজতে পর্যন্ত জেতে হয়েছে।তার মিথ্যা সাক্ষির কারনে দীর্ঘদিন হয়রানীর শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে জানায় এয়াকুব প্রকাশ বালি।

স্থানীয়রা জানায়, ইমাম হোসেন ও সেলিমের অত্যাচারে, মিথ্যা মামলায় জেলজুলুমের কারনে এক প্রকার অতিষ্ট হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এই দুইজনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় অভিযোগ দিবে ভুক্তভোগিরা।এরপর স্থানীয়রা উর্ধ্বতন পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে বিষয়টি  সবিস্তারে জানায়।ফলে এই লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনোয়ারা থানা পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।উর্ধ্বতন পুলিশের নির্দেশ পেয়ে বৈরাগের রহস্য পুরুষ সেলিমকে খুঁজতে মাঠে নামে থানা পুলিশ।তাকে পেয়েও যায় পুলিশ।কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।উল্টো সাংবাদিক এবংঅভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তার।

স্থানীয়রা আরো জানায়, সেলিম ও তার আশ্রয় দাতার চাল চলন আচার আচরন রহস্যজনক।তা ছাড়া আশ্রয় দাতার বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।এই দুইজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে বলে জানায় স্থানীয়রা।আনোয়ারা থানার রাঙ্গাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোঃ সোলেমান জানায়, উর্ধ্বতন পুলিশের নির্দেশে তাকে তদন্ত ভার দেয়া হয়েছে।সবে মাত্র তদন্ত শুরু হয়েছে, একটু অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি।এদিকে সেলিম পুলিশের ভয়ে বেশ কয়েকদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে আবার এলাকায় ফিরে আসে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

About The Author

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply