নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাবি’র এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসন।
আজ ১৮ জুলাই মঙ্গলবার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ মিলনায়াতনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরিফের লেখাপড়ার খরচের দায়িত্ব নেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমিন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) রনজন কুমার ঘোষ, দাউদকান্দি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ খোরশেদ আলম, এটিএন নিউজের নিউজ রুম এডিটর বাশার খান।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ শিবলীজ্জামান ও বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ টিপু সুলতান।
উল্লেখ্য যে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরিফ হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ২২ নং পশ্চিম মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শায়েস্তানগর গ্রামে। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএÑ৫ অর্জনকারী এই মেধাবী আরিফ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার বাবা বিগতদিন আরিফের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন। কিছু দিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত কারণে আরিফের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে আরিফের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যেতে পারছিলেন তিনি। এতে করে আরিফের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এরপর ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব গ্রেটার দাউদকান্দি (ডুসাদ)’র’ মাধ্যমে সমাজকল্যাণমূলক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণাভিত্তিক সংগঠন ‘মাটি’র সঙ্গে যোগাযোগ হয় আরিফের। পরে ‘মাটি’র কর্তৃপক্ষ দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আরিফের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমিন। এখন থেকে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে আরিফকে প্রতি মাসে লেখাপড়া খরচ বাবদ ৩০০০ টাকা করে দেয়া হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান, তার মাস্টার্স পাস করা পর্যন্ত এই সহযোগিতায় অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় বই কেনা ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচবাবদ এককালীন নগদ টাকাও প্রদান করা হবে। প্রাথমিকভাবে অনুষ্ঠানে বই কেনা বাবদ নগদ ১০ হাজার ও আগামী ৬ মাসের খরচ ১৮ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মেধাবী আরিফ বলেন, ‘চোখে আলো নেই। তবুও এটা আমার লেখাপড়ার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নিজের আত্ম-বিশ্বাস ও বাবার সহযোগিতায় এতদূর এসেছি। কিন্তু বাবা অস্স্থু হয়ে পড়ায় আমার লেখাপড়া ও অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে মনে হচ্ছিল। কিন্তু দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমি যেন আবার আলো দেখতে শুরু করেছি। তাই উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ’। অনুষ্ঠানে দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার যৌথভাবে জানান, ‘আজকের পর থেকে অর্থের অভাবে দাউদকান্দির কোনো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হবে না। আমরা তাদের পাশে আছি-থাকবো’।
সর্বশেষ সংবাদ
- এমবাপ্পেকে বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা সরকারের
- বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম ,ভরিতে কত?
- স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা আলভীর জামিন
- শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকছেন সাকিব আল হাসান
- আগস্ট মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ দিনের ছুটি
- জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ডলার
- ১২ কেজির এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা
- Gamification trends at bedste casino uden om rofus
- Gamification trends at bedste casino uden om rofus
- ৪.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইতালির নেপলস



