অভি পাল:
“ভিটেমাটি হারিয়ে এমন জরাজীর্ণ ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জীবনযাপন করা যে কতটা কষ্টের, তা সরজমিনে না এলে অনুভব করা সম্ভব হতো না। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারকেও আমরা অসহায় ছেড়ে দেব না। সরকারের পক্ষ থেকে কেবল সাময়িক ত্রাণ দিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ হবে না; আপনাদের মতামত ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ, স্থায়ী ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপনাদের মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠিকানা গড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে।”— চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী ও কার্যকর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনকালে বন্যাদুর্গতদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সরজমিনে পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে যান জেলা প্রশাসক এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাদের বর্তমান করুণ মানবিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন। জানা গেছে, টানা ৭ থেকে ১০ দিন পানি জমে থাকায় উক্ত এলাকার মাটির তৈরি ঘরগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধসে পড়ে। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবার চরম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ও জরাজীর্ণ ঘরে বাস করছেন, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। দুর্গত পরিবারগুলোর কষ্ট দেখে গভীর আবেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক পরিদর্শনের সময় প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ও তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
দুর্গতদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে নিখুঁত, মানসম্মত ও বাস্তবসম্মত করতে জেলা প্রশাসক ব্যাপক উদ্যোগ নেন। পরিবারে সদস্য সংখ্যা, তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ঘরের নকশা এবং কোন ধরনের উপকরণ দিয়ে ঘর তৈরি করলে সুবিধা হবে—সে বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত সংগ্রহ করেন তিনি। একই সাথে ঘর নির্মাণের সম্ভাব্য খরচ, উপকরণের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত হিসাব বুঝে নেন এবং নতুন ঘরগুলো দুর্গতদের জন্য কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক হবে সে বিষয়েও নিশ্চিত হন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পুনর্বাসনের সার্বিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন উল্লেখযোগ্য।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ