জানুয়ারি ২৩, ২০২২ ২:১২ পূর্বাহ্ণ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (৩১১) শেখ হাসিনা সমীপে

 মাননীয়,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে,

শ্রদ্ধেয় হাসিনা আপারে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন। আশা করি আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া ভিশন ও মিশন কায়েমের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া মহা- সুখেই আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া  তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে হিমসিম খাইয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গত সপ্তাহে আপনার মাথা মোটা শিক্ষা মুরাদ হাসান ’ সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার পর এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম বলিয়াই লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার পরও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন এবং ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

আপারে,

আপনি হইলেন, এশিয়ার লৌহমানব পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী ও বাঙ্গালীর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে এই দেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো বিশাল দলের প্রতীক নৌকাকে শক্ত হাতে হাল ধরার দক্ষ নেত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি । আপনার দক্ষ নেতৃত্বে দল ও দেশ চলিতেছে। দেশ ও দলের জন্য কাজ করা একই সাথে এটা আপনার মতো গোটা পৃথিবীতে কয়জনেরই বা আছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলিয়া থাকেন আপনার একক সাহস ও বুদ্ধিতে নৌকা ঠিকভাবে চলিতেছে। খন্দকার মুস্তাকের দল যে  ওৎ ফাতিয়া বসিয়া নাই তাহা মোটেই ভুলিয়া যাইবেন না। মনে রাখিবেন, কুকুরের লেজ ১২ বছর চোঙ্গায় রাখিলেও সময় মতো বাঁকা হইয়া যায়। ১৫ আগষ্ট  ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা দুটো একই সুত্রে গাঁথা।

আপারে,

আপনার পিতা ও বাঙ্গালী জাতির ধন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর বাবু -কায়সার ও ইদ্রিস বিকমের জন্মভুমি আনোয়ারা। এই জনপদে এখন  একজন সফল ও জাতীয় সংঘ পদক প্রাপ্ত পূর্ণ মন্ত্রী ও একজন বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি রহিয়াছেন। শাহ মোহসেন আউলিয়ার পূণ্যভুমি এই অঞ্চলটি। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর কেন্দ্রীয় নেতাসহ বাবু- কায়সার ও ইদ্রিস বিকমকে  সাথে লইয়া এই এলাকার দূর্গত অঞ্চলে ত্রাণ লইয়া আসিয়াছিলেন আপনি । যাহা এখানাকার মানুষ এখনো স্মরণ করিয়া আপনাদের গুনগান গাহিয়া থাকে। অথচ ওই সময় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ঘৃর্ণি দূর্গত অঞ্চল রায়পুর ইউনিয়নে বেগম জিয়ার আগে আসিবার কথা থাকিলেও তিনি আসিলেন পরে। হেলিকপ্টারে তিনি ভিসিট করিয়া ত্রাণ পাঠাইলেন হেলিকপ্টারে।হেলিকপ্টার থেকে নিচে পেলে দিলেন চালের বস্তা।ওই চালের বস্তা মাথায় পড়িয়া মারা গেল একজন নিরহ মানুষ। ওই কথাও মানুষ এখনো ভুলিয়া যায় নাই। এইসব কথা বলিবার অর্থ হইল,  ১৯৯১পরে এইদেশে বেশ কয়েকবার বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় হইয়াছে। গেলবার রোঁয়ানোর আঘাতে পুরো রায়পুর ইউনিয়ন অরক্ষিত হইয়া পড়িয়াছে। আপনার পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ  এই অঞ্চলের সংসদ সদস্য ও ভুমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তাৎক্ষনিকভাবে দূর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াইলেন।ওই সময় দুইমন্ত্রী বাঁধ নিমার্ণে ৩ শত কোটি টাকা ব্যয় করিয়া এই অঞ্চলকে রক্ষা করিবেন বলিয়া আশ্বাস দিয়াছিলেন। যাহা আপনি একনেকে পাশ করিয়া আপনার ও মন্ত্রীদের মূখ উজ্জ্বল করিয়াছেন। এইজন্য এই অঞ্চলে আপনার জনপ্রিয় বাড়িয়া গিয়াছে।

আপনারে,

অতি মহামারী করোনাকালে আপনি সৎ সাহস লইয়া অনেক কর্মসূচী দিয়াছেন ও বাস্তবায়ন করিয়াছেন। যদিও বিরুদ্ধী বাদীরা অনেক সমালোচনা করিতেছে। দেশে টিকা বানানোর সুযোগ দিয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়াছেন। দেশের সকল মানুষকে টিকা দিতে হইবে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যাক্তিদের সবার আগে টিকা দিবার জন্য সমাজ সচেতন লোকেরা বলিতেছে। কারন এই ব্যাক্তিদের কিছু হইলে পুরো পরিবারটাই অন্ধকারে নিপতিত হইবে। শুনিতেছি,  এনআইডি না থাকিবার কারণে অনেক টিকা নিতে পারিতেছে না। দুইবার ভোটার আছে এমন মানুষগুলো এক জায়গায় ভোটার রাখিয়া অন্য জায়গা বাতিল করিবার আবেদন করিয়া কোন সুরাহা না পাইয়া টিকা দিতে পারিতেছে না। এনআইডি সংক্রান্ত সকল জটিলতা দূর করিবার কঠোর নির্দেশ দিলে অসংখ্য মানুষ উপকৃত হইবে। এনআইডি ছাড়া ভুমি সেবা দিবার ঘোষনা ভুমিমন্ত্রী দিয়াছেন। এই কারণে অনেক মানুষের দীর্ঘদিনের জমিয়া থাকা সমস্যার সমাধান হইতেছে বলিয়া শুনিতেছি।

 

আজ আর না। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনায় আপনারই  গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠাণ্ডা মিয়া ইতি আপনারই বিশ্বস্ত গ্রাম বাংলার  অখ্যাত   ঠাণ্ডা মিয়া
আগামী সংখ্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (৩১২) সম্প্রচার করা হইবে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply