জানুয়ারি ২৩, ২০২২ ২:১২ পূর্বাহ্ণ

ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা ( ৩১২ ) ওবায়দুল কাদের সমীপে

মাননীয়,

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু  মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সমীপে

শ্রদ্ধেয় কাদের ভাইজানরে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন। আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া  দেশ ও দলের জন্য ভিশন ও মিশন কায়েমের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া মহা- সুখেই আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া  দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেল বারে বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা  লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম বলিয়াই লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন এবং ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

কাদের ভাইজানরে,

আপনি হইলেন, এশিয়ার লৌহ মানবখ্যাত  বাঙ্গালীর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পর পর দুইবার সাধারণ সম্পাদক। এই দলটি এখন বাংলাদেশে ক্ষমতায়।এই ক্ষমতাসীন দলের রেল, যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী আপনি। আপনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতিও। সাংবাদিকতা করিয়াছেন দীর্ঘদিন।

কাদের ভাইজানরে,

দলে সাংগঠনিক কমিটিগুলোতে এইসব লোকগুলো কেন? হাইব্রীড, দুই নম্বর ব্যবসায়ী, ইয়াবা ও আইস পাচারকারী এই জাতীয় লোকগুলো কিভাবে দলের কমিটির পদ-পদবী পায় ? আগে  জামাত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ফ্রন্ট কিংবা বিএনপি সাপোর্ট করিত এমন মানুষগুলো কীভাবে আওয়ামী লীগের মূল কমিটিতে ‘ইন’ হয় ? খন্দকার মোশতাকের আত্মীয় স্বজন, খন্দকার মোশতাকের এপিএসের এক ঝিয়ের জামাইতো একটি উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান ও  মোস্তাক জাতীয় লোকগুলোও এখন আপনার আওয়ামী লীগের কমিটিতে ঢুকিয়া পড়িয়াছে। শুনিতেছি, সারাদেশে শুদ্ধি অভিযান চালাইবেন। এই অভিযানে ছাত্র জীবনে যারা ছাত্র রাজনীতি করিত, যুবক জীবনে যুবলীগ এমন ব্যক্তিদের খুঁজিয়া সাংগঠনিক কমিটিতে ‘ইন’ করুন। আপনি বলিলেন মেধাবী না আসিলে অন্যরা চেয়ার দখল করিবে, এতটুকু যখন বলিলেন তাহলে মেধাবীরা আসিবার ফর্মূলা তৈরী করিয়া দিন।

কাদের ভাইজানরে,

বহু কমিটিতে এক ব্যক্তি, স্থানীয় ইউপি/উপজেলা চেয়ারম্যান, আবার থানা কিংবা জেলা কমিটিতেও রহিয়াছে। এক ব্যক্তির এত পদ কেন? দলীয় চেয়ারম্যান হইলে থানা কিংবা ইউনিয়ন বা জেলা কমিটিতে আর কি দরকার আছে? এইভাবে থানা/জেলা কমিটির দায়িত্ব থাকিলে ইউপি/উপজেলা চেয়ারম্যান হইবার প্রয়োজন আছে বলিয়া অভিজ্ঞ লোকেরা মনে করিতেছে না। এক ব্যক্তির এক পদ হইলে অনেক ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করিতে পারিবেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করিয়া প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করিয়া আপনি নির্দেশ দিলে অনেক ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হইবে এবং আওয়ামী লীগ তৃণমূল থেকে আরো মজবুত হইবে।

কাদের ভাইজানরে,

টাকা দিয়া কিছু কিছু এলাকায় পদ বিক্রি করিয়াছে আপনার দলের এমপি ও এমপি”র লোকেরা । ত্যাগী নেতারা টাকা পাইবে কোথায় ? ফলে অবৈধ ব্যবসায়ী ও হাইব্রীডরা টাকা দিয়া পদ কিনিয়া এখন বড় নেতা  হয়েছে! এরা দলকে লইয়া ছিনিমিনি খেলিতেছে।  ফলে আওয়ামী লীগ ঘাটে ঘাটে নেতৃত্ব শুন্য হইতেছে।এমনো খবর পাইতেছি, তিনি আগে ছিলেন বিএনপির সভাপতি এখন টাকা দিয়া হইলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি। টাকার পরিমাণ কত কীভাবে দিয়াছে এইসব খবর আপনার তৃণমূল কর্মীরা বুঝিতে না পারিলেও দলবদল কাহিনী ঠিকই বুঝিতে পারিতেছে। বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগ কর্মীদের যাহারা লাঞ্চিত করিয়াছে তাহারা এখন হাইব্রীড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সম্পাদক। ত্যাগী ও অরজিনাল আওয়ামী লীগ কর্মীরা এইসব তালবাহানা দেখিয়া আহাজারী করিতেছে। তাহাদের সান্তনা দিবার, দলে ধরিয়া রাখিবার, তাহাদের পাশে থাকিবার এখন শেখ হাসিনা ও আপনি ছাড়া আর কেউ নাই বলিয়া তাহারা বিশ্বাস করিতেছে। তাহাদের জন্য পদ ও পথ খুলিয়া দিন। এইবার ইউপি নির্বাচনে শতাধিক এমপি ও মন্ত্রী প্রতীক বাণিজ্য করিয়াছে, ফলে তাদের এলাকায় ফল বিপর্যয় হয়েছে। এদের চিহ্নিত করিয়া মহান নেত্রী শেখ হাসিনাকে বলিয়া জবাবদিহি করিবেন নইলে যাহা হইবার তাহা হইবে।

আজ আর না । আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনায় ইতি আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া

গ্রন্থনা ম. আ. হ

আগামী সংখ্যায় মেয়র রেজাউল করিম সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম  (৩১৩)  সম্প্রচার করা হইবে। গত সংখ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা সম্প্রচার করা হইয়াছে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply