সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ

ওরা থাকেন শহরে কিন্তু গণপ্রতিনিধি হতে চান গ্রামের !

 এম. আলী হোসেন

 

 

বাংলাদেশের কোন সংসদ সদস্য (এমপি) গ্রামে থাকেন না। অথচ তারাই গ্রামের মানুষের ভোটে কিংবা অন্য কৌশলে এমপি হয়ে যান।গ্রামের মানুষের প্রতিনিধিত্বও করেন।সংসদ চলাকালে ঢাকায় থাকবেন অন্যথায় এলাকায়। মন্ত্রীরা যেহেতু সচিবালয়ে অফিস করেন, একনেক বৈটক হয় ঢাকায় তাই মন্ত্রীরা বেশীর ভাগ সময় রাজধানীতে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। মন্ত্রীবর্গ ঢাকায় থাকা মানেই নিজ এলাকা কিংবা গোটা দেশের জন্য কাজ করা।

একইভাবে গ্রামগ্রঞ্জের অবহেলিত মানুষের যারা প্রতিনিধি  বা চেয়ারম্যান হন তাদেরই সিংহভাগ নিকটতম শহরেই থাকেন। এমনকি মেম্বারগণও !  ফলে গ্রামের মানুষজন স্বাভাবিকভাবে গণপ্রতিনিধিদের শতভাগ সেবা পান না। নেই কোন এই সংক্রান্ত বিধি বিধানও। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গণপ্রতিনিধিদের আবাসস্থলের খবর নিতে গিয়ে উপরোক্ত তথ্য ফুঠে উঠেছে।

এমন কি দুর্গত অঞ্চল , দ্বীপ কিংবা উপকূলীয় এলাকার জনপ্রতিনিধিও নিজ গ্রাম কিংবা ইউনিয়ন সদরেও থাকেন না। সন্দীপ অঞ্চলের সাংসদও থাকেন রাজধানীতে ।

উপকূলীয় এলাকা বাশঁখালী,কুতুবদিয়া, আনোয়ারা ও হাতিয়া অঞ্চলের ইউপি চেয়ারম্যানেরাও থাকেন শহরে।  সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, পটিয়া অঞ্চলের একজন চেয়ারম্যানও গ্রামে থাকেন না। অথচ গ্রামের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সরকারী সকল সুবিধা তারা নিয়ে থাকেন।

আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গণপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাবাভিকভাবেই বেসামাল থাকে।  নিত্যদিনের সাধারণ অনেক সেবা থেকে নাগরিকগণ বঞ্চিতও হন। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কখনো চিন্তা করছে বলে জানা নেই। সংসদ সদস্যরা এ বিষয় নিয়ে সংসদেও কখনো কেউ আলোচনাও করেননি। দেশের চিন্তাশীল ব্যাক্তিবর্গ,  রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজকর্মীদের ধারণা গ্রামের প্রতিনিধি গ্রামে থাকলেই সাধারণ মানুষ ব্যাপক উপকৃত হতো। বিশেষ বিশেষ কারণে মাঝে মধ্যে তারা উপজেলা অথবা জেলা সদরে আসবেন তাও জনগণের কাজে। অথচ যুগ যুগ ধরে চলে আসছে তার বিপরীত চিত্র। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে নিয়ম চালু করতে পারেন। পারেন গ্রামেই যারা থাকবেন এই ব্যাক্তিদের নিয়েই গণপতিনিধি তৈরি করার কাঠামোও ।

শহরে থাকলে কেমন করে গ্রামের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই প্রশ্ন থেকেই যায়। গ্রামের প্রতিনিধিদের ছেলে মেয়েরা শহরেই পড়ালেখা করে । এমনকি দেশের বাইরেও। ফলে গ্রামীণ মানুষগুলো গণপ্রতিনিধিদের দৃষ্ঠিতে অবহেলা তাচ্ছিল্যের শিকার হয়। গ্রামের অনেক সচেতন মানুষ অনেক কাছ থেকেই এসব লক্ষ্য করেছেন। গণপ্রতিনিধির ছেলেমেয়েরা যেহেতু শহরে কিংবা দেশেই পড়ালেখা করেন না সেকারণে গ্রা্মের স্কুল মাদ্রসা ও কলেজগুলোতে গণপ্রতিনিধিদের সুনজর থাকে না। অথচ এসব প্রতিনিধিরাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নেয় নানান কৌশলে। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলাদলি, নেতৃত্বের দ্বন্ধ ও মামলা মকাদ্দমা লেগেই আছে।

সামনে ইউপি নির্বাচন আসছে।  নির্বাচনের আগে গ্রাম প্রতিনিধিদের যোগ্যতা নির্ধারণে গ্রামেই যাদের বসবাস এমন মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি করলে দেশের আপামর জনগণ লাভবান হবে। জনগণ লাভবান হলেই লাভ হবে সমাজ ও রাষ্ট্রের । বিষয়টি যত আগে ভাবা হবে ততই দেশের মানুষের কল্যাণ হবে বলে সচেতন দেশবাসী মনে করেন।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply