বাংলাদেশ, রবিবার, ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পরকিয়া একটি অশনি সংকেত

কাজী অমিত হাসান

পরকীয়া প্রেম হলো একটি ব্যাধির মত।যা একবার হলে এর থেকে বের হয়ে আসা অনেক কঠিন। অবশ্য পরকীয়া প্রেমকে কাঠালের আঠার সাথেও তুলনা করা যায়।তবে এর ঝাঝ অতি মারাত্মকও বটে। আচ্ছা,পরকীয়া প্রেম কি? সাধারণত বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষ বা মহিলার প্রেম বা যৌন মিলনকে পরকীয়া প্রেম বলে।(মূলত পরকীয়া প্রেমের অন্যতম প্রধান কারনেই হলো যৌনসঙ্গম) তবে বর্তমানে পরকীয়ার প্রেমের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।যদিও পরকীয়া প্রেমে নারীদের জনপ্রিয়তা এখনো বৃদ্ধি পায় নাই পুরুষের মত।বর্তমানে ২৫ শতাংশ পুরুষ ও ১৭ শতাংশ নারী পরকীয়া প্রেমে জড়িত আছে।(সূত্র: শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়) আচ্ছা,পরকীয়া প্রেমের মূল কারণ কি? স্বামী ও স্ত্রীর প্রতি সংসার জীবনের প্রতি অনাগ্রহ, তিক্ততা ও একঘেয়েমি চলে আসা।শারীরিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর অক্ষমতা বা অপূর্ণতা।আর এই অক্ষমতা ও অপূর্ণতার জন্যই রোমাঞ্চকর, প্রিয়তা ও পরকীয়া প্রেমের সূত্রপাত। মূলত মনের তৃপ্তি মেটানোর জন্যই পরকীয়া প্রেমের প্রতি আসক্ত হওয়া। পুরুষের ক্ষেত্রে পরকীয়া প্রেমের জন্য অল্প ও যুবতী নারীরাই কাম্য।আর মহিলাদের ক্ষেত্রে মধ্যে বয়সী পুরুষ(যার বয়স ৩০-৪৮ পর্যন্ত) পরকীয়া প্রেম বহুলভাবে পরিলক্ষিত হয়। পরকীয়া প্রেমের ফলে সংসার জীবন,পরিবার ও সমাজে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসে। যেমনঃ একটি ছেলে বা পুরুষ যখন পরকীয়া প্রেম করে তখন তার বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ আনা হয়।ছেলের চরিত্র ভালো না।ছি ছি লজ্জার কথা, ঘরে বউ রেখে অন্য নারীদের সাথে পরকীয়া প্রেম।তখন তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।তাকে পরিবার ও সামাজিক দিক থেকে চাপ দেওয়া হয়।এমনকি আইনের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। ছেলেটি কেন পরকীয়া করলো তার কোনো যাচাই করা হলো না।( পরিবারের মধ্যে কোনো কলহ সৃষ্টি হলো কি না? স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক কেমন। স্ত্রী তার স্বামীর চাহিদা মিটাতে পারছে কি না? স্ত্রী স্বামীর সাথে কিরুপ আচরণ করছে।) এখানে এর কোনো কারণ উল্লেখিত হবে না। আর যখন একজন স্ত্রী পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়।তখন হাজারো কারণ ফুটে উঠে। স্বামী তার স্ত্রীকে ঠিকমত কেয়ার করছে না।স্ত্রীকে ঠিকমত সময় দিচ্ছে না।সম্ভবত ছেলে এখন নেশা করে অথবা মেয়েটি কোনো ফাদে পড়েছে।সব দোষ ছেলেটার আর নয় কেন মেয়েটি পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হবে।পরিবার ও সমাজ থেকে ছেলেটিকেই দোষারোপ করা হয়।তাকে বলা হবে যে, স্ত্রীকে গ্রহণ করে নাও।আর এখন থেকে স্ত্রীকে ঠিকমতো সময় দিবে।তার দিকে খেয়াল রাখবে।আর ছেলেটিকে গাদার মত সব-কিছু মেনে নিতে হবে। এখন এইগুলো আমাদের সমাজের বাস্তব প্রতিচ্ছব।হ্যা, এমনটাই হচ্ছে।এই রকম হজারো দৃষ্টান্তমূলক উদাহারণ আছে।আর এগুলো চলতেই থাকবে। পরিশেষে বলি যে,আমরা লিঙ্গানন্তরের উপর বিচার না করে, কেন পরকীয়া প্রেম হচ্ছে,এর উৎঘটন করতে হবে। পরকীয়া প্রেমের ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে হাজারো পরিবার। পরিবার বিচ্ছেদ হচ্ছে সুখের দাম্পত্য জীবন। পরকীয়া প্রেম হলো আমাদের সমাজের একটি অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে হবে।এর জন্য আমাদেরকে সচেতন হতে হবে।আর পরকীয়া প্রেম হলেই যে পুরুষকেই দোষারোপ করব।এই বেদবাক্যকে বিকৃতি করতে হবে।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো যে,পরকীয়া রোধ করতে হলে আমাদের নিজেদেরকে সচেতন হতে হবে।একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। একজন ভুল পথে গেলে তাকে সঠিক পথ দেখাতে হবে। তাহলেই পরকীয়া রোগ থেকে আমরা সুষ্ঠু ও সাবলীল সমাজ গড়ে তুলতে পারব।

আরো খবর

Leave a Reply