১৫ জুন ২০২৪ / ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / রাত ৪:১৫/ শনিবার
জুন ১৫, ২০২৪ ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ

কাতারের আমীর ২২শে এপ্রিল ঢাকা আসছেন

     

ঢাকা অফিস

কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে দোহার গ্রিন সিগন্যালও মিলেছে। জরুরি কোনো বৈশ্বিক পরিস্থিতির উদ্ভব না হলে আগামী ২২শে এপ্রিল আমীর ঢাকার মাটিতে পা রাখবেন বলে নিশ্চিত করেছে দোহা। বলা হয়েছে, সফরটি হবে দু’দিনের। এই সফরে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।  সফরকালে যথাযথ প্রটোকল অনুসরণ করে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাষ্ট্রীয় অতিথির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। সেখানে জ্বালানি, জনশক্তি রপ্তানি, ব্যবসা ও বাণিজ্য বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বিদ্যমান এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্টের জরুরি সংশোধন, সামুদ্রিক পরিবহন সেবা চুক্তি, দ্বৈত কর প্রত্যাহার, শুল্ক খাত, উচ্চশিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যৌথ বাণিজ্য পরিষদ ও যৌথ কমিশন গঠন। তাছাড়া বন্দি প্রত্যর্পণের বিষয়েও একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। স্মরণ করা যায়, ২০০৫ সালে (বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে) কাতারের তৎকালীন আমীর হামাদ বিন খলিফা আল থানি বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।

সে হিসেবে প্রায় দুই দশক পর কাতারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরটি হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আরব লীগ, বিশেষ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জিসিসিভুক্ত অনেক দেশ যখন কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করছিলো তখন রিয়াদের চাপ সত্ত্বেও ঢাকা ভ্রাতৃপ্রতীম দুই দেশের দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন মুসলিম উম্মার ঐক্যের স্বার্থে উভয়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশেষত: গালফ রিজিওনে কাতারকে একঘরে করার সেই কঠিন দিনগুলোতে শক্তভাবে দোহার পাশে ছিল ঢাকা। দ্বন্দ্ব নিরসন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও কাতারের বহু আবদার রক্ষা করেছে বাংলাদেশ। সেসব কারণে আমীর বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানা কর্মসূচি তথা ব্যস্ততার মাঝেও ঢাকা আসার ফুরসত খুঁজছিলেন বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের কাছে কাতার এখন কি চায়?

সেগুনবাগিচার দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বলছেন- সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের তৃতীয় দেশ হিসেবে কাতার চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এ সংক্রান্ত দোহার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও রয়েছে। যা ঢাকাকে খানিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বিদ্যমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে দোহার প্রস্তাবটি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে ঢাকা। নিশ্চিতভাবে আমীরের সফরে প্রস্তাবটির ওপর তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হবে। সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হলে পরবর্তী কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও আসতে পারে। সেগুনবাগিচা বলছে, গত মার্চে ঢাকা-দোহা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আমীরের সফরে সেই সহযোগিতার বাস্তব রূপরেখা কি হবে? তা নিয়ে কথা হবে। সমঝোতা মতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কাতারে কাজ করার কথা। তাছাড়া দেশটির নৌ-বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার আওতায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা কাতারে কাজ করছেন। সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সফরে মোটাদাগে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়া আরও পোক্ত হবে বলে ধারণা মিলেছে।

 

About The Author

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply