অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

ওদের লাগাম টেনে ধরতে হবে

 মাহমুদুল হক আনসারী

 

 

 

স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বাধীন মাতৃভূমি, স্বাধীন দেশের পতাকা আর মানচিত্র । বাংলাদেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশ স্বাধীন হয়েছে। শুধুমাত্র একটি শ্রেণী বা একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। শাসকদলের নাম ভাঙিয়ে নানা রঙের প্লাটফর্ম তৈরী করে রাতারাতি যারা ক্ষমতার চেয়ার ব্যবহার করে লুটপাট করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে তাদের সম্পর্কে বলার জন্য লিখতে কলম ধরছি। লিখতে বলতে অনেকটা অনিহার জন্ম হয়েছিল। অন্যায় অনাচার জুলুম নির্যাতনের বিরোদ্ধে আর কতই বা লিখা যায়, এসব অপরাধ কর্মের  তো শেষ নেই। প্রতিদিন অহরহ জুলুম ব্যভিচারের খবর সংবাদপত্র জোড়েই পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম বাঁশখালী পৌরসভার একজন নাগরিক জয়নাল আবেদীন লেখককে বলেছেন, তার এলাকা পৌরসভা জলদীর সামান্য একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের স্বল্প সময়ে উত্তানের গল্প। নাম তার আজগর হোসেন, শিক্ষার কোনো একাডেমিক লেখাপড়া নেই। পেশায় একজন কাঠুরিয়াল, পাহাড় থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করা ছিল তার আয় রোজগারের অন্যতম পথ। সে কাঠুরিয়াল আজগর হোসেন শাসক দলের মুজিব কোর্ট গায়ে পড়ে যুবলীগের কর্মীর খাতায় নাম লিখে স্থানীয় এমপির ছত্র ছায়ায় সন্ত্রাসী ভূমিকা পালন করে অস্ত্র ও পেশী শক্তির জোরে কাউন্সিলরের পথ ছিনিয়ে নেয়, তার ভেষভূষে সব কিছুতেই পরিবর্তন। তার রাজাকার পিতাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খাতায় মন্ত্রণালয়ে নাম লিপিবদ্ধ করতে  লাখ লাখ টাকা খরচ করেছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাপোর্ট না থাকায় এবং তার পিতা রাজাকার থাকায় সে কাজে আজগর হোসেন সফল হয়নি। কিন্তু সে হাল ছাড়েনি, কাউন্সিলর হওয়ার সুবাধে সে তার স্ত্রীকে বিনা পরীক্ষায় অর্থের জোরে প্রাইমারী স্কুলের চাকুরী পাইয়ে দেয়। ঐ মহিলার কোনো যোগ্যতা না থাকলেও সেখানেও স্থানীয় এমপি চাকরী পাওয়ার জন্য তদবীর করে সফল করে দেয়। আজগর মেম্বার সেখানেও সফল হয়। তারপর সে সরকারী খাস জমি দখল, নিরীহ মানুষের বাড়ি ভিটা জবর দখল সরকারী অনুদান আত্মসাত করে বর্তমানে আজগর মেম্বার কোটি কোটি টাকার অবৈধ মালিক হয়েছে। তার ঘর বাড়ি দালান বিল্ডিং, বাড়ীর আশপাশ সকল নিরীহ মানুষদের বাড়িভিটা জমি দখল করে সে এক বিরাট সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করেছে। তার এ কাজের সহায়ক হয়েছে স্থানীয় পৌর মেয়র ও এমপি। মুজিব কোর্ট ব্যবহার করে শহর ও গ্রামে যারা আওয়ামীলীগ ও শাসক দলকে বেকায়দায় ফেলেছে  নামধারী ভূয়া ওইসব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের এখনিই সময়। এ ধরনের ভূঁয়া শাসকদলের নাম পদবি ব্যবহারকারী ভূমিদস্যু, চালচোর, রিলীফচোর ডাকাতদের চিহ্নিত করে দলকে শুদ্ধ করার এখনিই সময় বলে মনে করছে সাধারণ জনগণ। নতুন করে হেলেনা জাহাঙ্গীর, শাহেদ করিম আর যেনো তৈরী না হয়। শাসকদলকে সেটায় করতে হবে। আর যেনো কেউ দলকে ব্যবহার করে কালো কোট পরিধান করে দুর্নীতি, লুটতরাজ, ভূমিদস্যু করে সরকারী সম্পদ আত্মসাত করতে না পারে। বর্তমান শাসক দলকে সে পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দেখতে চায় জনগণ। গোঠা দেশে নামধারী শাসক দলের তথাকথিত ভূঁইপোড় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চায় শান্তিপ্রিয় জনগণ। তাহলে হয়তো দেশবাসী শাসকদলের প্রতি আস্থা বিশ্বাস আরো বৃদ্ধি পাবে। সরকারের সুফল, উন্নয়ন কল্যাণ অগ্রগতির প্রশংসা করবে দেশবাসী। দুনিয়াব্যাপী সরকারের সফলতা বৃদ্ধি পাবে আরো। আসুন শাসকদলের ভূঁইপোড় নেতাদের দুর্নীতি আর জুলুম থেকে জনগণকে মুক্তি দেয়ার সংকল্প করি।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply