বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২১৭) কর্ণেল ড. অলি আহমদ সমীপে

মাননীয়,

সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী, এলডিপির সভাপতি কর্ণেল ড. অলি আহমদ সমীপে

কর্ণেল ড. অলি ভাইজানরে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া আপনার দলের ভিশন ও মিশন কায়েমের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া মহা- সুখেই আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া টানা বৃ্ষ্টির ভরা দূর্ভোগ সহ্য করিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেল বারে মাননীয়  ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা  লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, বলিয়াই লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে, 

আপনি হইলেন, এইদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অকুতোভয় সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বীরবিক্রম উপাধি প্রাপ্ত দেশের আলোচিত ও আলোকিত হাতে গুনা কয়েক ব্যাক্তির মধ্যে অন্যতম আপনি ।বিএনপির প্রথম সারির সাবেক কেন্দ্রিয় নেতা ও বিএনপি সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী এবং বর্তমানে নিজের গড়া সংগঠন এলডিপির কেন্দ্রিয় সভাপতি আপনি।চট্টগ্রামে সব দলের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বাদে সমসাময়িককালে আপনিই সিনিয়র এখন ।খালেদা ও হাসিনাকে সমালোচনা করিয়া গোটা দেশের মধ্যে আপনার মতো বুকের ফাটা আর কাহারো নাই বলিয়া দেশবাসী বলিয়া থাকে।আওয়ামীলীগ  ক্ষমতায় থাকিলেও সেই তিন চট্টগ্রামের বাঘা বাঘা নেতা কায়সার, বাবু, মহিউদ্দিন চৌধুরী বাঁচিয়া নাই। আবদুল্লাহ আল নোমান ও আমির খসরু বাঁচিয়া থাকিলেও তাহারা তারেক জিয়ার উপরে কথা বলিলে দলেও ঠাই পাইবে না।ফলে বেকায়দায় আছেন তাঁহারা ।ফলে চুপ হইয়া চাহিয়া থাকা ছাড়া তাঁহাদের আর কী করার আছে? চট্টগ্রাম ও গোটা দেশকে লইয়া আপনি ছাড়া ভাবিবার আর যোগ্য ব্যাক্তি কে বা কাহারা তাহাও বুঝা যাইতেছে না। যাক, সেই সব কথা।

ভাইজানরে,

হালে আপনি ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ গঠন করিয়া ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আওয়াজ তুলিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলিলেন। জামাত প্রসঙ্গে কৌশলী বক্তব্য দিয়া কী বুঝাইতে চাইলেন সেই বিষয়ে বিজ্ঞ রাজনীতিবিদেরাও মুখে কুলুপ দিয়াছে।আপনি বলিলেন, ৭১ এর জামাত ও বর্তমান জামাত এক নয়।বাক্যটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিবার কারণে জনমনে নানান কথা বিরাজ করিতেছে।কেউ কেউ বলিতেছে ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাকের গড়নার জামাতকে কাছে আপনি টানিতে এই কথা বলিয়াছেন।আবার অনেকে ভিন্ন কথা বলিতেছে।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলিলেন অলীর বক্তব্যের সত্যতা বুঝিবার জন্য অপেক্ষা করিতে হইবে।রাজনীতিবিদের কাছে এখানে খটকা লাগিয়াছে, কেন কাদের সাহেব জটপট কিছু বলিলেন না ? কেন সময় লাগিবে? আপাাতত দৃষ্টিতে সচেতনমহল মনে করিয়াছিলেন মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপনার এইসব কর্মকাণ্ডে খুশী হইতে পারিবে না।কিন্তু তিনি ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ গঠনের পর বিচলিত না হইয়া আপনাকে ধন্যবাদ জানাইয়াছেন।দুই বৃহৎ দলের দুই নেতার অর্থাৎ কাদের ও ফখরুলের বক্তবো সচেতনমহল স্পষ্ট কিছুই বুঝিতে পারেননি।ফলে রাজনীতির পানি কোনদিকে গড়ায় তাহা বুঝা যাইতেছে না।তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বাংলাদেশের স্টাইলে নির্বাচন হইয়াছে বলিয়া আওয়ামী লীগেরা বলাবলি করিতেছে শুনিয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয় বেশীরভাগ মানুষ আমলেও লইতেছে না।

আজ আর না।আপনার মঙ্গল  ও সুস্বাস্হ্য কামনায় । ইতি আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া

নিবেদক

গ্রন্হনা ম. আ. হ

আগামী সংখ্যায় সজীব ওয়াজেদ জয় সমীপে ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা (২১৮) সম্প্রচার করা হইবে।

আরো খবর

Leave a Reply