বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিম গাছের উপকারিতা ও গুণাগুণ

নবীন চৌধুরী

প্রাচীনকাল হতে, মানুষ রোগ আরোগ্যের জন্যে ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে আসছে। কোন উদ্ভিদের রোগ নিরাময় ক্ষমতা থাকলে তাকে ভেষজ উদ্ভিদ বলে। এছাড়া উদ্ভিদ মানুষের জীবনে উপকার হিসেবেই কাজ করে আসছে। যেমন নিম গাছ, নিম গাছের সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত আছে। বাংলায় যেমন নিম বা নিম গাছ, হিন্দি ও উর্দুতে নিম এবং সংস্কৃতে নিম নামে পরিচিত, বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাজাডিরাকটা ইনডিকা মেলিয়েসি গোত্রের।
নিম গাছের উপকারিতা- খ্রিষ্টপূর্ব আনুমানিক ৪০০ সালে বৈদিক যুগে নিম জীবাণু ধ্বংসকারী হিসেবে প্রয়োগ হতো। ক্ষয় রোগ, ক্রিমি প্রভৃতি রোগে নিমের উপকারিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। দুষিত বায়ু বা অন্য কোন কীটের উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে এর ভুমিকা আছে।
নিম গাছের গুণাগুণ- নিমের ছাল অজীর্ণ রোগে ৪/৫ গ্রাম নিমের ছাল ১কাপ গরম জলে রাতে ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে উপকার পাওয়া যায়। যে কোন বয়সে স্বপ্নদোষে নিমের ছালের রস ২৫/৩০ ফোটা কাঁচা দইসহ সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়। গায়ে চুলকানি বা শরীরে সর্বদা চুলকায় সে ক্ষেত্রে শুকনা নিম পাতা তেলে ভেজে ভাতের সঙ্গে খেলে সপ্তাহ মধ্যে এ অসুবিধা থাকে না। গুড়ো কৃমি- ৫/৭টি নিম পাতার গুড়ো করে খেলে ফলদায়ক হয়। নিম ফুল- রাতকানা রোগে নিমের ফুল ভেজে খেলে এ অসুবিধা থাকে না। দীর্ঘদিনের ক্ষতে নিমের ছাল জা¦ল দিয়ে কাথ করে খেলে ক্ষতের আরোগ্য হয়।
বেশি বমি হলে ৫/৭ ফোঁটা নিম পাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে বমিভাব থাকে না।
৩/৪টি নিম পাতা ও ১ গ্রাম কাচাঁ হলুদ এক সঙ্গে বেটে খালি পেটে খেলে প্রস্রাব ও সেই সঙ্গে চুলকানি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যে সমস্ত বহুমূত্র রোগীর গায়ের ঘা সারতে চায় না সে ক্ষেত্রে নিমের বাটা
এ থেকে দেড়গ্রাম মাত্রায় দুধের সঙ্গে খেলে উপকার পাওয়া যায়।এক গ্রাম নিমের ছাল, অর্ধ গ্রাম কাঁচা হলুদ ও একগ্রাম আমলকির গুড়ো সকালে খালি পেটে সপ্তাহ খেলে যকৃতের ব্যথা উপশম হয়।
মোট কথা নিম গাছ যে বাড়ির আঙ্গিনায় থাকে রোগ বালাই কম থাকে বলে ধারনা করা হয়।

আরো খবর

Leave a Reply

Close