গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের বাঘের সদ্য জন্ম নেয়া এক মাস বয়সী ৩টি বাঘ শাবক দেখা গেছে।  তারা কখনও মায়ের উপরে উঠছে, আবার কখনও হালুম বলে নিজেদের জাতের জানান দিচ্ছে।

তবে মা বাঘটি বাচ্চাদের অত্যাচারে অতিষ্ট না হয়ে তাদের কাছে টেনে নিয়ে মাঝে মধ্যে শরীরে আচড় টেনে দিয়ে আদর করতে দেখা গেছে।

ওই পার্কের সাফারী জোনে দ্বিতীয় বারের মত একটি মা বাঘিনী গত ৮ আগষ্ট তিনটি শাবকের জন্ম দেয়।  তিনটি শাবকের মধ্যে রয়েছে একটি সাদা ।  এর আগে ওই মা বাঘিনীটিই গত বছরে আরো তিনটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল বলে জানা যায়।

সব মিলিয়ে সাফারী পার্কে বর্তমানে মোট বাঘের সংখ্যা ১২টিতে পৌছেছে।  এর মধ্যে চারটি পুরুষ ও ৮টি স্ত্রী বাঘ।   তবে সাফারী পার্কে সাদা বাঘের জন্ম হওয়া এটিই প্রথম ঘটনা, এর আগে ১৯জুলাই চট্রগ্রামের চিড়িয়াখানায় প্রথমবারের মত সাদা বাঘের জন্ম হয়েছিল।

শেখ মুজিব সাফারী পার্কের বণ্যপ্রাণী পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান,গত ৮ আগষ্ট একটি মা বাঘিনী তিনটি শাবকের জন্ম দেয় এর মধ্যে রয়েছে একটি সাদা প্রজাতির বাঘ।  তবে শাবকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পার্ক কর্তৃপক্ষ এক মাস পর এ ঘটনা প্রকাশ করে।  জন্মের পর থেকেই মা ও তার শাবকরা সুস্থ রয়েছে।  তারা নিয়মিত মায়ের দুধ পান করছে আর শাবকদের দুধ পানের কথা বিবেচনা করে মা বাঘিনীকে অতিরিক্ত খাবার দেয়া হচ্ছে।  তবে সাদা বাঘের জন্ম হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান,এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়, জিনগত কারনে বাঘের রঙ সাদা হয়ে থাকে।

যেহেতু মা বাঘিনী শেখ মুজিব সাফারী পার্কের বাঘের কিউরেটর নুরুন্ননী জানান, শাবকদের কখনও চোখের আড়াল হতে দেয় না মা বাঘিনীটি।  তবে অচেনা কাউকেই দেখলেই রেগে যায় সে।  আগামী এক বৎসর লোকচক্ষুর আড়ালেই রাখা হবে শাবকদের।  তবে ছয় মাস পর্যন্ত শাবকরা মায়ের দুধ পান করবে।  এরপর থেকে তাদের মাংস দেয়া হেেনর কারনে পার্কে বিভিন্ন প্রাণীর বাচ্চা দেয়ার ঘটনা ঘটছে।  এরই ধারাবাহিকতায় একটি মা বাঘিনী একটি সাদা শাবক সহ তিনটি শাবকের জন্ম দিয়েছে।  জন্মের পর থেকে মা সহ শাবকরা সুস্থ রয়েছে।

এ ব্যাপারে শেখ মুজিব সাফারী পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, পার্ক কর্তৃপক্ষের নিবিড় পর্যবেক্ষনে এখানে বিভিন্ন প্রানীদের নিয়মিত বাচ্চাদানের ঘটনা ঘঠছে।  বর্তমানে শাবকের জন্ম দেয়া মা ও তাঁর শাবকরা সুস্থ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ