ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জারটেক সিডিএ আবাসিক এলাকায় চলমান একটি মেলাকে ঘিরে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য। বাহ্যিকভাবে পারিবারিক বিনোদনের আবরণে পরিচালিত এই মেলার ভেতরে গড়ে উঠেছে প্রকাশ্য জুয়ার আসর—যেখানে প্রশাসনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও চলছে অবাধ কার্যক্রম।

গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তা পত্রিকার একটি অনুসন্ধানী টিম ছদ্মবেশে মেলায় প্রবেশ করে। প্রবেশের শুরুতেই চোখে পড়ে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি, যারা মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন বলে দাবি করা হয়। তবে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পরই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভিন্ন এক চিত্র।

মেলার অভ্যন্তরে একটি নির্দিষ্ট অংশে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনুসন্ধানী টিম ধীরে ধীরে ভিড়ের ভেতরে প্রবেশ করে এবং দেখতে পায়—সেখানে সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে জুয়ার আসর। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ, এমনকি শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

জুয়ার টেবিলে পুরস্কার হিসেবে রাখা হয়েছে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের সিগারেট, আকর্ষণীয় পণ্যসামগ্রী এবং নগদ অর্থ—যা অংশগ্রহণকারীদের আরও বেশি আকৃষ্ট করছে। পুরো কার্যক্রমটি এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যেন এটি মেলার একটি ‘স্বাভাবিক’ অংশ।

পরিচয় গোপন রেখে অনুসন্ধানী টিম খেলার পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, ‘ইকবাল’ নামের এক ব্যক্তি এই জুয়ার আসরের মূল হোতা। পরে সরাসরি ইকবালের সঙ্গে কথা হলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, মেলা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তিনি এই কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এমনকি প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে সব কিছু ‘ম্যানেজ’ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় পরিসরে জুয়ার আসর বসানোর পেছনে কারা রয়েছে? শুধুই কি একজন ইকবাল, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো চক্র?

মেলা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি, যা সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে।

এদিকে কর্ণফুলী থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহিনুর আলম বলেন, “মেলা সম্পর্কে আমরা অবগত এবং সেখানে পুলিশ সদস্যরা ডিউটিতে রয়েছেন। মেলার অনুমতি দিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। তবে জুয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না—আমি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—পুলিশের সরাসরি উপস্থিতিতে কীভাবে এত বড় পরিসরে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তা অজানা থাকা কতটা গ্রহণযোগ্য?

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতা কিংবা সম্ভাব্য যোগসাজশের ইঙ্গিত বহন করে। বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

মেলার আড়ালে এই জুয়ার আসর যেন শুধু একটি খেলা নয়—বরং এটি সামাজিক অবক্ষয়ের এক নীরব বিস্তার, যা এখনই নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ