বিশ্বে মাত্র ৪০ জনের শরীরে ‘গোল্ডেন ব্লাড’ গ্রুপের রক্ত রয়েছে!

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৮)

নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ধারীদের বিপদের সময় রক্ত খুঁজে পেতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় আত্মীয়-পরিজনদের। যেমন, এবি নেগেটিভ (AB-), ও নেগেটিভ (O-), বি নেগেটিভ (B-) ইত্যাদি।কিন্তু এমন কোন রক্তের গ্রুপের কথা কি জানেন, যে গ্রুপের মানুষের সংখ্যা গোটা পৃথিবীতে সর্বসাকুল্যে পঞ্চাশেরও কম। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও এটিই বিশ্বের বিরলতম রক্তের গ্রুপ। রক্তের এই গ্রুপ ‘গোল্ডেন ব্লাড’ নামে পরিচিত।

এই রক্তের আরএইচ সিস্টেমে ৬১ অ্যান্টিজেনের অস্তিত্ব ছিল না। এই রক্তের নাম দেওয়া হয় ‘আরএইচ-নাল’।  সাধারণত, রক্তের কোষগুলোতে ৩৪২টি অ্যান্টিজেন থাকে। এই অ্যান্টিজেনগুলো একত্রিত হয়ে রক্তের গ্রুপ নির্ধারিত হয়।এই অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতে মানুষের রক্তকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। সেগুলো হল, ‘এ’, ‘বি’, ‘এবি’ আর ‘ও’। প্রত্যেকটি রক্তের গ্রুপ আবার দু ভাগে বিভক্ত ‘পজেটিভ’ এবং ‘নেগেটিভ’। অর্থাত্, সব মিলিয়ে মানুষের শরীরে মোট আট রকমের রক্ত পাওয়া যায়। সেগুলো হল, ‘এ পজেটিভ’, ‘এ নেগেটিভ’, ‘বি পজেটিভ’, ‘বি নেগেটিভ’, ‘ও পজেটিভ’, ‘ও নেগেটিভ’, ‘এবি পজেটিভ’ ও ‘এবি নেগেটিভ’।১৯৬১ সালে প্রথম এই গ্রুপের রক্তের সন্ধান পাওয়া যায়। তার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বে মাত্র ৪০ জন মানুষের মধ্যে ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এই ধরনের রক্ত বিরল হওয়ার কারণে এই গ্রুপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গোল্ডেন ব্লাড’। এই ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর অধিকারীদের মধ্যে ৯ জন নিয়মিত রক্ত দান করেন।বর্তমানে গোটা বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি (৭.৬ বিলিয়নের বেশি)। জানা গিয়েছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মধ্যে গত ৫৭ বছরে এমন ৪০ জনকে পাওয়া গেছে, যাদের শরীরে এই বিরল গ্রুপের রক্ত রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, গোল্ডেন ব্লাডের অধিকারীরা যে কোনও গ্রুপের মানুষকে রক্ত দিতে পারেন তবে সবার থেকে রক্ত নিতে পারেন না। তাই চিকিৎসকদের মতে, বিরল এই ব্লাড গ্রুপের অধিকারী যে সব মানুষ রয়েছেন, তাদের খুব সাবধানে জীবন যাপন করা জরুরি।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password