১৫ জুন ২০২৪ / ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / রাত ৩:১৬/ শনিবার
জুন ১৫, ২০২৪ ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে করণীয়

     

বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে একজন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এই রোগ এখন মহামারী রূপ নিচ্ছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি  বুধবার  সারা দেশে ‘ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস ২০২৪ ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করা এই দিবস পালনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এই রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে ১৯৫৬ সালের এ দিনে ডা: মো: ইব্রাহিমের উদ্যোগে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশ্বে বর্তমানে ডায়াবেটিক রোগী প্রায় ৫৪ কোটি। বছরে মারা যাচ্ছে ১৫ লাখ মানুষ। ২০৪৫ সালের মধ্যে রোগীর সংখ্যা ৭৮ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে ৭৯ শতাংশই হবেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের মানুষ। বেশির ভাগ লোক জানে না যে, তার ডায়াবেটিস রোগ আছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে এক কোটি ৩১ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। আগামী চার বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ১০০ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যাদের ৬০ শতাংশ পরবর্তী সময়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। পৃথিবীতে বর্তমানে সবচেয়ে উচ্চহারে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশ, ভারত ও চীনে। মূলত সচেতনতার অভাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য ডায়াবেটিস রোগী হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি, চোখ ও মাড়ির রোগে আক্রান্ত হন। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করা ছাড়াও নানা শারীরিক জটিলতার শিকার হন, এমনকি মারাও যান।

অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, নগরায়ন ও পরিবর্তিত জীবনযাত্রা প্রণালীর কারণে ডায়াবেটিস বাড়ছে।
ডায়াবেটিসের ইতিহাস সুপ্রাচীন। সর্বপ্রথম ডায়াবেটিসের ধারণা পাওয়া যায়, ১৮৬২ সালে মিসরের প্রাচীন নগরী থিবসের একটি পিরামিডের ভেতর থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৫০ সালের প্যারিপাস গাছের ছালে একটি রোগ বিবরণী আবিষ্কার করেন। এই রোগ বিবরণীতে সর্বপ্রথম বহুমূত্র রোগের উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক প্রাচীন গ্রিসের হিপোক্রেটিস কর্তৃক আবিষ্কৃত ইউনানী চিকিৎসাপদ্ধতিতে ডায়াবেটিসের ধারণা ছিল। তখন এটিকে বলা হতো ুরধ নবঃবফ যার অর্থ হচ্ছে সুমিষ্ট মূত্র নিঃসরণ।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ : ডায়াবেটিস রোগীরা যে সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন তা হলো বারবার প্রস্রাব করা। ফলে শরীরে তরল কমে যায় এবং বেশি বেশি পানি তৃষ্ণা পায়। অপরদিকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের দেহে ‘কোষীয় অনাহার’ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে দেহ মস্তিষ্ককে ক্ষুধা লেগেছে বলে মেসেজ দেয়। এজন্য ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষুধা লেগেই থাকে। প্রচুর খাওয়া সত্ত্বেও তাদের ওজন কমে যায়। সারাক্ষণ ক্লান্তি ঘিরে রাখে। কোথাও ক্ষত তৈরি হলে সহজে সারতে চায় না। বিভিন্ন চর্মরোগের আক্রমণ বেড়ে যায়। আস্তে আস্তে যৌন ক্ষমতা হ্রাস পায় ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের।

হোমিও প্রতিকার : অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক রোগীর পুরা লক্ষণ নির্বাচন করে ধাতুগত চিকিৎসা দিতে পারলে ডায়াবেটিসে নিরাময় সম্ভব।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ওজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওজন বেশি থাকলে তা খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে কমানো আবশ্যক। চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় যুক্ত করতে হবে। একটি খাদ্য তালিকা মেনে চললে সব থেকে ভালো হয়। কোনো ব্যক্তি যদি ইনসুলিন কিংবা অন্যান্য অষুধ নিয়মিত গ্রহণ করতে থাকে, তাহলে খাবার নিয়মিত খেতে হবে। কেননা কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে তার প্রতিক্রিয়া মারাত্মক হতে পারে।

সুষ্ঠু এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বর্তমানে ডায়াবেটিস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এজন্য সবার মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। কারণ সচেতনতাই আমাদের এই বিভীষিকা থেকে দূরে রাখতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সচেতন ও নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর এককভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, সরকার উদ্যোগ নেবে পাশাপাশি সব প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হবে। এখন যে হিসাব রয়েছে তাতে দেশে যে পরিমাণ মানুষ মারা যাচ্ছে তার ৭০ শতাংশই অসংক্রামক রোগে মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ ডায়াবেটিস। এ রোগে আক্রান্তের এক নম্বর কারণ হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস। দুই নম্বর কায়িক শ্রম বা হাঁটাহাঁটি করা। তিন নম্বর ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানতে হবে। ঝুঁকি অনুসারে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

লেখক : কলামিস্ট; প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
ই-মেল: drmazed96@gmail.com

About The Author

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply