অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ

আনন্দ বাজারে এক ডিলে দুই পাখি মাদক আর জুয়া !

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

 

 

 

শিকারি যদি ভালো হয়, তাহলে এক ডিলে দুই শিকার করা কোন ব্যাপার না। তার উপর যদি থাকে আওয়ামী লীগ নামধারী পাতি নেতার সাইন বোর্ডও ! আর এই দুই শিকারি হলো এলাকার বখাটে ও  নানান অপকর্মের হোতা  রাসেদ আর জুয়েল। জুয়েল মাদকের মাঝি  কিংবা কারবারী অন্য জন হলো জুয়া খেলার আসর জমানোর কারিগর । এই দুই খাতে  মাস শেষে আসে মোটা অংকের টাকা । টাকা কামাতে সাগরে জাল পাতা লাগে না তার দ্বিগুন আয় হয় বন্দর থানা আনন্দ বাজার সংলগ্ন রেল বিটের নির্জন জায়গা পুকুরের কোণা থেকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর বন্দর থানাধীন আনন্দ বাজার টু বেড়ীবাঁধ রোড রেল বিটের ১০০ মিটার ভেতরে নির্জন পুকুর পাড়ের কোণা। এখানে চলে জুয়েলের মাদক ব্যবসা আর রাশেদের রমরমা জুয়ার আসর । এ যেন এক ডিলে দুই পাখি শিকারের মত। মাঝে মাঝে এক ডিলে তিন পাখিও শিকার করে তারা , মাসের প্রথম দিকে মাদক বিক্রি ও জুুয়ার পাশাপাশি মেয়ে দিয়ে আনন্দ ফুর্তির নামে চলে ছোট খাটো দুই তিনটা জমজমাট পার্টিও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক এলাকাবাসি জানায়, সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয় মাদক বেচা কেনা । জুয়ার পরিপূর্ণ আসর চলে ভোর ৪ টা পর্যন্ত, রাত যত গভীর হয় ততই বেড়ে যায় নেশাখোর ছেলে ও চোর ছিনতাই ঝাপটা বাজদের আনা গোনা। আসরে আসেন এলাকার পাতি নেতারাও। স্পর্ট থেকে পান মাসোহারা প্রশাসন তো আছেই ! এলাকার এক জেলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানায়, আরে ভাই আনন্দ বাজারে  মাদক ,জুয়া, নারী নিয়ে আনন্দ ফুর্তি যদি না চলে তাহলে আনন্দ বাজারের নামটাই ব্যথা হয়ে যাবে।

একাজ গুলো এখানে যারা করে, তাদের প্রচণ্ড দাপট আছে  ও অদৃশ্য শক্তিও  । তাদের উপর কথা বলার এখানে কেউ নেই। তাদের হাতও অনেক লম্বা, এমন কী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনের নাকের ডগা পর্যন্ত। এ ব্যপারে ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ে রাসেদ ও তার কর্মচারীকে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে রাসেদ জানায় ব্যস্ত আছি, আমি রাসেদ না,  আমি নয়ন জুয়েল বাইরে। কর্মচারি বলেন, এত কথা বলার দরকার নেই একটা বিকাশ নাম্বার দেন । এই দুই জুটির কারনে নষ্টের পথে চলেছে এলাকায় বসবাসরত যুব সমাজ ও স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়ে, নষ্ট হচ্ছে সমাজ। দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ ।এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে মুঠো ফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বন্দর থানার ওসি জানান, মাদক ও জুুয়ার বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে এখনি আইন গত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ব্যাপারে ৩৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর সাথে কয়েকবার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেয়া যায়নি।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply