বাংলাদেশ, বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লামার উন্নয়ন অগ্রগিতির দিনলিপি

:

মো.কামরুজ্জামান

উন্নয়ন ও নেতৃত্বে সংশ্ষ্টিদের উদারতায় লামাবাসীর গণসন্তুষ্টির বহি:প্রকাশ ঘটেছিলো ২০১৪ সালে। এর আগে প্রায় দু’দশক যাবৎ বান্দরবান জেলা পরিষদে এই উপজেলার কোন প্রতিনিধিত্ব ছিলো না(!)।২০১৪ সালের শেষ দিকে লামা উপজেলা থেকে(বর্তমান মেয়র মো: জহিরুল ইসলাম ও মুক্তিযোদ্ধা কণ্যা ফাতেমা পারুল) দু’জনকে সদস্য মনোনীত করা হয়। সে সময় জেলা পরিষদ সদস্যদেরকে এক গণসংবর্ধনা দেয় এলাকাবাসী। অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষের সমাবেশ; সেদিন লামা শহরে তীলঠাঁই ছিলোনা।

২০১৫ সালের শেষদিকে (ডিসেম্বর মাসে) এবং ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে লামার স্থানীয় রাজনীতি/নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে।যার ফলশ্রুতিতে সকল সেক্টরে এলাকায় উন্নয়নের গতি বেগবান হতে থাকে।এইসব উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বঝায় থাকতে পারে কেবল আদর্শবান নেতৃত্বদ্বারা।

লামা শহর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন রাস্তা-ঘাট, সড়কবাতি স্থাপনসহ নানাবিধ উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।এরই মধ্যে লামা মাতামুহুরী কলেজ ডিগ্রি ও সরকারি করণ, পৌর মার্কেটে লামা ইসলামী ব্যাংক শাখা স্থাপন, পৌর বাস টার্মিনাল, লামা প্লাজা (মার্কেট)ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় লামার কাঙ্খিত মান প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।লামা পৌর শহরে এখন বেশ কয়েকটি বহুতল শপিংমল দাঁড়িয়ে আছে।

সাড়ে তিন থেকে চার দশক আগে এসব জায়গা ময়লা আবর্জনা পরিপূর্ন গর্ত ছিলো।এর মধ্যে (বনফুল সিনেমা হল) বর্তমান আলী মার্কেট, জেলা পরিষদ গেষ্ট হাউজ।কাঠ-বাঁশের সারিসারি চা-ভাতের দোকান সেলুন, কামার দোকান, বেকারী-দোকানগুলো এখন ছোট বড় পাকা মার্কেট। নিউ মার্কেট, মনে রেখো, লামা প্লাজা, পৌর মার্কেট ইত্যাদি শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে চলছে ।
১৯৮০ সালে বর্তমান জনতা ব্যাংক ছিলো সেমিপাকা দ্বিতল অবকাঠামো এবং পানবাজার গলিমুখে কাঠের দ্বিতল ভবন ছিলো।যেখানে লামা-আলীকদম প্রেসক্লাব-এর আনুষ্ঠানিকতা শরু হয়েছিলো।বাজারঘাট গলিতে দু’পাশে ভাতের হোটেল, উত্তর পাশে রোকেয়া বোর্ডিং, (বর্তমানে বিলুপ্ত)কোহিনুর বোর্ডিংটি সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে এখনো বিদ্যমান।

শহীদ আবদুল হামিদ সড়কমুখি লামা বাজারের গলিটির তখন ভিন্ন মাত্রার আভিজাত্য ছিলো।ব্যাবসার প্রসিদ্ধস্থান ছিলো সেটি।মুদিমাল থেকে শুরু করে, কাপড়ের দোকান, টেইলার্স চায়ের দোকান, ধান ভাঙ্গানোর কল(রাইসমিল)সবই ছিলো।১৯৮৪ সালে (চাম্পাতলী গজালিয়া) টিটি এন্ড ডিসি থেকে মহকুমা সদর স্থানান্তর হয়ে (বর্তমান উপজেলা প্রশান)এপারে আসলে বাজারের প্রসারতা লাভ করতে থাকে।
বাজার মার্মা পাড়া থেকে উত্তর দিকে জঙ্গলাকীর্ণ জায়গাটি খালি রেখে ১৯৮১ সালে বাঁশ-কাঠের ঘরে প্রতিষ্ঠা পায়, লামা বনফুল সিনেমা হল।এর মাঝের জায়গাটির কিয়দাংশে সেনাবাহিনীর গাড়ি পার্ক ছিলো।কিছুদিন পর প্রদর্শণী-৮১ (যাত্রার প্যান্ডেল)এর জন্য জায়গাটি পরিস্কার করা হয় এবং যাত্রা শেষে পরের বছরগুলোতে ফুটবল চর্চার মাঠ হিসেবে এটি ব্যাবহার হতে থাকে।
সেই মাঠে বর্তমান পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংও কোচার হিসেবে দৌড়ে বেড়িয়েছেন।ওই সময় নদীর পাড় ঘেঁষে কয়েকটি বাসাবাড়ি ছিলো যা এখনো বিদ্যমান। এর পর টাউন হল নির্মিত হয়।লামা প্রেসক্লাবসহ ক্রমে দোকান-বসতি গড়ে উঠতে থাকে।এর অপরপ্রান্তে উপজেলা প্রশাসন, কিছুদিন পর কোর্ট মসজিদ, পালিটোল ইত্যাদি  নির্মিত হয়।
২০০২ সালে পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর, শহরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে থাকে।২০০৮ সালে মধুঝিরি-নুনার ঝিরির মধ্যবর্তীস্থানে লামা পৌর ভবন নির্মিত হয়ে বস্তুগত উন্নয়নে আরেকধাপ এগিয়ে যায় লামা শহর। এরই মধ্যে দেশের রাজনীতির পালাবদলের হাওয়ায় বদলাতে থাকে সব কিছু।
২০১০ সাল থেকে ডিজিটাল ছোঁয়া লাগেতে থাকে। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোনসহ প্রযক্তির ছোঁয়ায়  নানাবিধ ডিজিটাল সুযোগ সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে পরিবর্তন দেখা দেয়।এলাকার রাস্তা-ঘাট ব্রিজ-কালভার্ট, শহর  ক্রমোন্নতি হতে থাকে ।২০১৪ সালে বর্তমান সরকারের (লাগাতার) ২য় মেয়াদে পৌর শহরসহ আশ-পাশের এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার শুরু হয়।যা হালনাগাদ চলমান রয়েছে।

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply