বাংলাদেশ, রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০, ২৮ আষাঢ়, ১৪২৭

এতিম শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী ইফতারের আয়োজন

তাওহীদ হাসান

এতিম শিশুদের নিয়ে প্রতিবছরের মতই এবারো করা হয়েছে ইফতারের বিশেষ আয়োজন। করোনা বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতিবছরের ন্যায় এবার রাজধানী সহ সারা দেশে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন ভিত্তিক ইফতারের আয়োজন একেবারেই হচ্ছেনা। সে মুহূর্তে অসহায়, গরিব এতিম শিশুদের পাশে প্রতিবছরের মত দাড়িয়েছন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জান।

শুক্রুবার (১ মে) ব্রাহ্মনবাড়িয়ার ‘শিশু পরিবার’ এতিমাখানায় এ আয়োজন করা হয়। এ এতিম খানায় প্রায় দেড় শতর মত এতিম শিশু থাকে এবং লেখাপড়া করে।  করোনাকালীন এই ক্রান্তি লগ্নে দেশে সব ধরনের আয়োজনই কম। এতে সারা দেশের অনেক এতিম, অসহায়, গরিব মাদ্রাসায় ছাত্র নানা ধরনের সমস্যায় আছে। সেই সময়ে এই ধরনের আয়োজন এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলেছে। আঠারো বছর পর্যন্ত মেয়ে এতিমরা এখানে থাকেন ও লেখাপড়া করে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জান যখন ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন থেকেই এই এতিম খানায় যাওয়া আসা শুরু করেন। এতিম শিশুদের নিজের সন্তানের মতই খোঁজ খবর নিতেন। মাঝে মধ্যেই নিজ উদ্যোগে পাঠিয়ে থাকেন উপহার সামগ্রী, প্রতিবছর আয়োজন করেন ইফতারের, এবারেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অনেক জায়গাতেই এতিমরা সুবিধা ও অধিকার বঞ্চিত হয়ে থাকে।  সেখানে পুলিশের এই কর্মকর্তার এতিম শিশুদের প্রতি এমন মনোভাব সত্যি প্রশংসিত।  জনাব মনিরুজ্জান জানান, “দেবশিশুদের এই ‘শিশু পরিবার’- এতিমখানাটি আমি আমার সেকেন্ড হোম মনে করি। সব সময় আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে সময় কাটাতে ভালো লাগে”।  স্থানীয়াভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশের এই কর্মকর্তা এ এতিম খানায় ‘জীবন স্মৃতি পাঠাগার’ নামে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। নিয়মিত দিয়ে থাকেন বই, এছাড়াও এই এতিমখানা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পর অনেক এতিমদের চাকরি ও পরবর্তী পড়াশুনার ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকেন। সব মিলিয়ে এতিমদের সাথে আত্মার সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, কর্মজীবনে বিশেষ অবদানের জন্য রেকর্ড সংখ্যক বার পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম ও পিপিএম পাওয়া এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, পুলিশের এই কর্মকর্তা রাষ্ট্র যন্ত্রের কাছে যেমন তিনি নিষ্ঠাবান অফিসার, পাশাপাশি সমাজ সংস্কার, দরিদ্র মানূষকে সেবা ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। নিজ জন্মস্থান যশোরের ঝিকারগাছায় তাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, তিনি যার অন্যতম প্রাণভোমরা। এছাড়া বস্তিবাসী ও পথশিশুদের জন্য কাজ করা সংগঠন এভারগ্রীন জুম বাংলাদেশ স্কুলে তার ভুমিকা অনবদ্য। স্বপ্নবান এ মানুষটি দরিদ্র পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেন, দেখান। নিজ গ্রামে তার বাবা মা ও অকাল প্রয়াত শিশু সন্তানের নামে গড়ে তুলেছেন “সালেহা কবীর জীবন ফাউন্ডেশন”।  যশোরের ঝিকরগাছা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় এ ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যেই দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থিদের উচ্চ শিক্ষা বিস্তার ও সহায়তা, মেধা বৃত্তি, চিকিৎসা, খেলাধুলা, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বধনা ও অবহেলিত মানুষের কল্যানে নানামুখী উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের মনে দাগ কেটেছে। ভবিষ্যতে নিজের গ্রামে আধুনিক সুবিধা সহ লাইব্রেরী, মুক্তিযোদ্ধা কর্নার, নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ক্ষুদ্র- কুটির শিল্প, হস্ত শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন ও নিয়ন্ত্রনে এই অনন্য মানসিকতার অফিসারের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। গনমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক সেবামুখী পুলিশিং ব্যবস্থা প্রণয়নে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। শুধু দেশেই নয় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তিনি একজন সুখ্যাত পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত। ইন্টারপোল ও জাতিসংঘের পিসকিপিং মিশনে অসামান্য অবদানের জন্য দুইবার পেয়েছেন জাতিসংঘ শান্তিপদক। এছাড়াও জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ সিলেকশন টিমের সদস্য হিসাবেও দায়ীত্ব পালন করেছেন অত্যন্ত সুনাম ও কৃতিত্বের সাথে। অত্যন্ত সৎ, দক্ষ, মেধাবী ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে তাকে বাংলাদেশ পুলিশের একজন মডেল হিসেবে অনেকেই মনে করেন। তাঁর এতিম ও মানব সেবার কাজও সারা দেশে ছড়িয়ে  পড়ুক, এমন আশাই সংশ্লিষ্টদের।

  বাংলাদেশ পুলিশের একজন মডেল হিসেবে অনেকেই মনে করেন। তাঁর এতিম ও মানব সেবার কাজও সারা দেশে ছড়িয়ে  পড়ুক, এমন আশাই সংশ্লিষ্টদের।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply