বাংলাদেশ, রবিবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ৩রা ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পরিচালক মুছা, রাসেল ও ফয়সাল কে আটক :  সিইপিজেডস্থ  “রূপসা কিং গ্রুপ”থেকে অনৈতিক লেনদেন-৮কোটি ৪২লাখ টাকা জব্ধ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ১৫জানুয়ারী

নগরীর সিইপিজেড এলাকার চৌধুরী মার্কেটে অভিযান চালিয়েরূপসা কিং গ্রুপনামে একটি মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে নগদ কোটি ৪২লাখ টাকা জব্দ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি  বিকেল থেকে ইপিজেড থানা পুলিশের সহায়তায় উক্ত প্রতিষ্ঠানে অভিযান শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত ছিলঅভিযোগ রয়েছে, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলোরূপসা কিং গ্রুপ

এ প্রতিষ্ঠানটি ইপিজেডের পোশাক শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা জমা রাখতো।কে বা কারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যাপক আত্মসাতের অভিযোগ দিলে সে প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম চট্টগ্রাম পুলিশের সহায়তায় এই তল্লাশী অভিযান চালায়।রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিইপিজেড মোড়স্থ চৌধুরী মার্কেটের ঐ অফিস থেকে নগদ ৮ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির কয়েক হাজার গ্রাহক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ঘেরাও করে রাখে ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ‘রূপসা কিং গ্রুপ’ এর ৩ কর্মকর্তাকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।সুত্র জানায়, ইপিজেড সহ পতেঙ্গা শিল্প অঞ্চলের হাজার হাজার নারী পুরুষকে অধিক মুনাফার লোভে ফেলে সমিতির নামে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ জমা রাখাদের মধ্যে বড় একটা অংশই নারী শ্রমিক। তাদের উপার্জিত অর্থের একটা অংশ সেখানে জমা রাখে।

সিএমপির কমিশনার মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, ‘ডিএমপি ডিবির একটি দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযান শুরু করে ইপিজেড এলাকায়। একটি সমবায় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ধরনের একটি অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। এর ভিত্তিতে অভিযান চলছে।ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, গ্রাহকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিএমপির ডিবি রূপসা মাল্টিপারপাসে অভিযান পরিচালনা করছে। সেখানে বিপুল নগদ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছে ডিবি।

সমিতিতে টাকা রেখেছে এমন কয়েকজন সদস্য জানায়, রূপসা কিং গ্রুপের নামের প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লায়ন মজিবুর রহমান কোম্পানি এবং ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুছা হাওলাদার। রূপসা কিং গ্রুপ এ অভিযানের খবর পেয়ে সেখানে ভীড় করে গ্রাহকরা। তারা কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করে ঢুকতে না পেরে বাইরে বিক্ষোভ করে তাদের জমা টাকা ফেরত চায়। অফিস ঘেরাও করে। ঘটনাস্থলে র‌্যাব ও শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও ছিলে বলে জানা গেছে। অভিযানে ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুছা হাওলাদার,ম্যানেজার ও পরিচালক মোঃ রাসেল হাওলাদার এবংব্যাঞ্চ ম্যানেজার –পরিচালক মোঃফয়সাল কে আইন শৃংখলাবাহিনী আটক করে নিয়ে গেছেন বলে উপস্থিত গ্রাহকরা সংবাদ মাধ্যম কে জানান।

এদিকে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা জানিয়েছেন ,এধরনের অনৈতিক লেনদেন আশ-পাশে আরো হচ্ছে,যা বন্ধ হওয়া জরুরী। 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply