বাংলাদেশ, শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, খুন, অপহরণ বন্ধের দাবীতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা’র সন্ধান ও মুক্তি চাই। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্বিচারে খুন, গ্রেফতার, অপহরণ ও শারিরীক নির্যাতনসহ অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে এবং আটক ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীতে আজ ১০ ডিসেম্বর বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ৪টি গণতান্ত্রিক সংগঠন। গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ চট্টগ্রাম নগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যৌথ উদ্যোগে এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিকাল সাড়ে ৩ ঘটিকায় ডিসি হিল সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রেসক্লাব এলাকা প্রদক্ষিণ করে চেরাগী মোড় সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পিসিপি’র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ত্রিরত্ন চাকমা সভাপতিত্বে ও নগর সম্পাদক অমিত চাকমার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পিসিপি’র চবি শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক মিটন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্টি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম-এর মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল চাকমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি রেশমী মারমা। বক্তারা বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশের একের পর এক গনবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের রাজনৈতিক সমস্যাকে সমাধান না করে জুম্ম ধ্বংসের নীলনক্সা বাস্তবায়ন করছে। এমনকি র‌্যাব বাহিনী মোতায়েন করে জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন তীব্র আকার ধারণ করছে। বক্তারা বলেন, মানবাধিকার দিবসে রাঙামাটি কাউখালীতে মধ্য ভোররাতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তরুন চাকমাকে বেআইনীভাবে আটক করে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
বক্তারা আরো বলেন, ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা নিখোঁজ ৯ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও রাষ্ট্র সন্ধান ও মুক্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউপিডিএফ নেতা-কর্মীদের বিনা বিচারে ক্রসফায়ার করে মারা হয়েছে। আর নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে অন্তরীণ রাখা হয়েছে এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া নেতা-কর্মীদের জেল গেট থেকে মামলা দেখিয়ে পুনরায় গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, পর্যটনের নামে বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়িতে চাক ও মারমা জাতিসত্তাদের ভূমি কেড়ে নিয়ে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে। তহজিংডং পাহাড়ের পরিবেশ ধ্বংস করে ইট-ভাটা নির্মাণে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বক্তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধসহ নিখোঁজ ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা সন্ধান ও মুক্তি দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পৃষ্ঠপোষকতায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য
১। ইউপিডিএফ নেতা-কর্মী সমর্থকদের (২০১৮ সালে) মোট ৫৯ জন এবং ২০১৯ সালে মোট ৭১জনকে গ্রেফতার করেছে।
২। নির্যাতন : রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও তার মদদপুষ্টদের কর্তৃক বিনাবিচারে ক্রসফায়ার ও হত্যা করেছে ৭ জন।
৩। অপহরণ : মুখোশ ও সংস্কার কর্তৃক (২০১৭-১৮) সাল পর্যন্ত মোট ১০৫জন এবং ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪১ জন অপহরণের শিকার হয়েছে।
৪। ২০১৮-১৯ সালে (মুখোশ ও সংস্কার কর্তৃক) মোট খুন হন ৩৭ জন।
৫। বর্তমানে মিথ্যা মামলায় খাগড়াছড়িতে মোট ১৪ জন এবং রাঙ্গামাটিতে ৪৪ জন কারাগারে অন্তরীন রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply