বাংলাদেশ, শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সময়ের ভাবনা: সকলের অধিকার নিশ্চিত হউক

আবছার উদ্দিন অলি
আমরা কেউ আইনের উর্ধে নয়। আইন সবার জন্য সমান। যেখানে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ মানবধিকার কাউন্সিল কাজ করে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানিক রূপ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্টের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান দারিদ্র বিমোচন, আবাসন সমস্যাসহ দেশের উন্নয়নের জন্য আমাদেরকে একযোগে কাজ করতে হবে। নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা ভোটারদের ধারে ধারে যায় প্রতিশ্রুতি দেয় ভোট যুদ্ধে জয়ী হয়ে সবকিছু ভূলে যায়, এমনকি ভূলে যায় জনগণের চাওয়া পাওয়া। আমরা মুখে যা বলি, তা বিশ্বাস করতে হবে মানতে হবে, আমাদের সচেতন হতে হবে। অপরাধী যত বড় শক্তিশালী হোক তা মোকাবেলা করার সাহস শক্তি আমাদের রয়েছে। দেশ চলে যাচ্ছে, দেশ চলে যাচ্ছে, বলে আওয়াজ তুললে হবে না, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। মনমানষিকতা আমাদের সুন্দর করতে হবে। সুন্দর মনের মানুষ হতে পারলে রাষ্ট্র সমাজ দেশ জাতি উপকৃত হবে। এগিয়ে যাবে সুন্দর আলোর মন্তব্যে। আইনি সহায়তা, দুর্বল মানুষের উপর অত্যাচার, ভূমি দখল, নারী নির্যাতন ও অসহায় দরিদ্র জনগন এর উপর অমানবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্ছার, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা মানবাধিকার কর্মীর প্রকৃত কাজ। যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, এডিস নিক্ষেপ, বাল্য বিবাহ, স্বামী-স্ত্রী তালাক, যৌন হয়রানি, নারী পুরুষের বৈষম্য, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল কাজ করে যাচ্ছে। যৌতুক দেয়া ও নেয়া সমান অপরাধ। আমাদের সমাজে এখনো যৌতুকের জন্য অনেক পিতামাতা অভিবাবক তার বিবাহ যোগ্য কণ্যাটি বিয়ে দিতে পারছেনা। প্রচলিত যৌতুকের কারনে অর্থলোভী পুরুষ ও তার পরিবার এই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যৌতুকের জন্য মানষিক, শারীরিক, অর্থনৈতিক নির্যাতন ও সহিংসতা চলে। এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে ভুক্তভোগীকে অকাল মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। অনেক সময় আত্মহত্যায় বাধ্য করে। খুনের মত ঘটনাও ঘটে চলেছে। নারীদের যৌতুকের জন্য খুন করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়। প্রভাবশারী পরিবার গুলো ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রশাসন হাত করে চলে। এই ভয়াবহ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া আমাদের কামনা।
বাংলাদেশে যেহেতু কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে এবং আয়ের সাথে ব্যয়ের সামজ্জস্য ঠিক রাখা যায় না, সেহেতু ঘরের শিশুটি যে সময় পড়া লেখা করার কথা, সে সময় তাকে অর্থ অর্জনের জন্য কর্মস্থলে পাঠানো হয়। কখনো টেম্পুর হেলপার, চায়ের দোকানের গ্লাস বয়, গৃহের কাজের জন্য শিশুদের ব্যবহার করা হয়, তখনি ঘটে নির্যাতন আগুন ছেকা। এই ছাড়া সমাজের নর পশুধারী বখাটে, মাদকাসক্তের কবল থেকেও রেহায় পায় না অনেক শিশু কন্যা। নরপশু মুখোশধারী আলেম থেকেও রেহায় পায়নি ৪বৎসরের শিশু কন্যা। গরীব পিতা-মাতা এতিম শিশু কন্যাটি পেটের তাগিদে অন্যের অধিনে গৃহ পরিচারিকা হিসেবে কাজ করতে যায়। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের নারীরাও কোন অংশে কম নয়। গ্রামের ফসলের বীজ সংরক্ষণ থেকে বর্তমানে চাকুরী ব্যবসা শিক্ষার দিক দিয়েও নারীরা অনেক এগিয়ে আছে। ইসলামের জন্য যুদ্ধও স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ ও নারীদের অনেক ভূমিকা। গার্মেন্টস শিল্পকে এগিয়ে নিয়েছে এক মাত্র নারী শ্রমিকের সক্রিয় কর্মের জন্য। এই শিল্পের মাধ্যমে রাষ্ট্র পাচ্ছে সিংহ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
তারপরও দেখা যায় এই বৃহত্তম নারী শ্রমিকরা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শ্রমিকের আয়ের ক্ষেত্রে ব্যয়ের ব্যবধান অনেক। মাস শেষে ঘর ভাড়া। সংসার খরচ, অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক চাহিদা চিকিৎসা সহ কাটিয়ে আনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। মৌলিক চাহিদা মেটাতে না পারলে এদের ব্যক্তি পরিবার অসহায় হয়ে পড়বে। স¤প্রতি ঘটনা কে উল্লেখ করে বলা যায় বিগত দিনে শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে জীবনের ঝুকি নিয়ে জীবন যাপন করছে। শ্রমিকের নিরাপত্তার অভাবে শ্রমিক দক্ষ শ্রমিক অকালে প্রাণ হারাতে হচ্ছে এই সম্পদ শ্রমিকদের সঠিক নিরাপত্তার জন্য খুবই জরুরী। অন্য কর্মজীবি নারীদের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়রানী বা বৈষম্যতা ব্যাপক দেখা যায়। ব্যক্তি ও সমাজ সচেতনতা, অপরাধ প্রবণতা, অপপ্রচার, সাইবার ক্রাইম, কিশোর অপরাধ, একটি সুন্দর সুখী সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র সংগঠনের জন্য ব্যক্তি ও সমাজ সচেতনাতা খুবই জরুরী। ব্যক্তি সমাজ সচেতন হলে রাষ্ট্রের চেহারা বদলে যায় উন্নয়ন দ্রুত তরান্বিত হয়। দেশে আত্ম সামাজিক প্রেমাপাট পরিবর্তন ঘটে এর ব্যত্বয় ঘটলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অপপ্রচারের ফলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। আসল অপরাধীর আড়ালে থেকে যায়। সাইবার ক্রাইম এখন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। প্রেমের সম্পর্ক থাকার পর যখন সম্পর্ক ছিন্ন হয় তখন গোপনীয় ভাবে ডেটিং করার যাবতীয় দৃশ্য সেই সঙ্গে নগ্ন দৃশ্য উপস্থাপন করে সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য অবলম্বন করে ছেলেরা এ কাজে কতিপয় নামধারী বান্ধবী জড়িত থাকে। স্কুল কলেজে পোশাক পরে সাইবার ক্যাপেতে গিয়ে ছেলে মেয়েরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ফাকি দিয়ে নগ্ন ছবি দেখে, এতে করে নৈতিক চরিত্র অবক্ষয় ঘটে।
আমাদের সমাজে ইদানিং কিশোর অপরাধীর মাত্রা বেড়ে চলেছে। কিশোর খুন চাঁদাবাজি, মাস্তানি, ছিনতাই, রাহাজানি, ককটেল, এসিড নিক্ষেপ, ভাংচুর ইত্যাদি কাজে জড়িত রয়েছে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রন করতে পারছেনা আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী। আমাদের দেশের কতিপয় ব্যক্তি ও প্রশাসনিক লোকদের কারণে মাদকের যত্রতত্র ব্যবহার বিস্তার লাভ করেছে। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের চোখের সামনে মাদক ব্যবসায়ী ও পাচার, সেবনকারী ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ তারা দেখেও না দেখার ভান করে। এতে দেশের যুব সমাজ তথা ছাত্র/ছাত্রী, শ্রমিক কর্মজীবি শ্রেণীর মানুষ অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে। যাতে করে দেশের মননশীল মেধার অংকুরে বিনাশ হয়ে যাচ্ছে। যার কারনে দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অপরাধ প্রবনতা বেড়ে যাচ্ছে। এই অভিশাপ থেকে দেশ ও জাতীকে রক্ষায় সর্বস্থরের জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই দেশের কল্যান বয়ে আনবে।
জগতের সব মানুষ পরিবেশ বান্ধব, কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের ছায়াতলে বাস করছে। প্রথমত: প্রাকৃতিক পরিবেশের কথাই ধরা যাক, যেভাবে আমাদের দেশের পাহাড় নিধন তথা পাহাড় কাটা চলছে, তাতে করে পরিবেশ ভার সাম্যহীন হয়ে পড়ছে। কতিপয় অবচেতন মানুষ যারা আমাদের সমাজে ঘৃনিত ব্যক্তি তারাই পাহাড় কেটে ভূমি দখল করে মিল কারখানা তৈরী এবং অনেকে দরিদ্র শ্রেনীল লোকদের অর্থের বিনিময়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাহাড়ের উপর বসতি ব্যবস্থা করে। এর ফলে পাহাড় ধ্বসে প্রতি বছর মানব সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। যা মানবাধিকার লংঘনের একটি উদাহরন। অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্যোগে খাদ্যদ্রব্য ফরমালিন মিশ্রিত করে মানবদেহে বিষ ক্রিয়া প্রয়োগ করে চলেছে এটি এসিড নিক্ষেপের চেয়ে ভয়াবহ ফরমালিন মিশ্রিত খাবার খেয়ে আমাদের আগামী প্রজন্ম মৃত্যুর মুখোমুখি যুদ্ধ করছে। ফরমালিন মিশ্রিত ভেজালখাদ্য খেয়ে কিডনি, লিভার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, জন্ডিস সহ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষ। সমাজে এরা গুটি কয়েকজন ছদ্মবেশী ভদ্র লোক এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। চট্টগ্রামের কয়েকটি বাজারে ফরমালিন চিহ্নিত করন মেশিন বসানো হয়েছে। সে গুলো ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাজার থেকে ফরমালিন মিশ্রিত খাবার ক্রয় বয়কট করতে হবে। বাজারের মাছ, মাংস, শাক, সবজি, সব কিছুই ফরমালিন তাই এগুলো ক্রয় করে ফরমালিন আছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে। চট্টগ্রামের অন্য সব বাজারে ফরমালিন চিহ্নিত করন মেশিন জরুরী ভিত্তিতে স্থাপন করতে হবে। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। একটি চক্র পেঁয়াজ, চাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানা রকম পায়তারা করছে। বিভ্রান্ত করছে দেশবাসীকে। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শ্রেষ্ঠ ইবাদত।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply