সমাজ পরিবর্তনে নারীরাই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে : শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান
পটিয়ার সাংসদ আলহাজ¦ সামশুল হক চৌধুরী বলেছেন, পটিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। হাজার বছরের ঐতিহ্য ও শিক্ষা সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এ পটিয়া নানা কারণে পিছিয়ে পড়লেও জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে আমি বিগত ৯ বছর ধরে এর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য নিরলস প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্চি। যে জাতি যত শিক্ষিত সেই জাতি ততই উন্নত এ ব্রত নিয়ে আমি প্রথমেই পটিয়ার শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতির উর্ধ্বে নিয়ে এর আমুল পরিবর্তনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত করার জন্য পটিয়ায় শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে সুশিক্ষিত জাতি গঠনের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীতি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি পটিয়ার আবদুরর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে এ অঞ্চলের একমাত্র সরকারি বিদ্যাাপীঠ হিসেবে তুলে বলেন, এটি সুশিক্ষিত জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তার আশ^াস দিয়ে বলেন, নারীরা এগিয়ে গেলে সমাজ পরিবর্তন হতে বাধ্য। যার প্রমাণ বর্তমান সরকার। তিনি সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকার সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের প্রাধান্য প্রদান সহ ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষের কথা তুলে বলেন, এ সরকার আগামীতেও নারীদেরকে যথাযথ স্থানে অধিষ্ঠিত করার মাধ্যমে সুশিক্ষিত জাতি গঠনে বদ্ধ পরিকর।
তিনি গতকাল পটিয়ায় আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
পুনর্মিলনী উৎসব কমিটির আহবায়ক ফাতেমা বেগমের সভাপতিত্বে ও যুগ্ন আহবায়ক শর্মিলা দাশ এবং ফারজানা চৌধুরী জেকির সঞ্চালনায় এতে উদ্বোধক ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রাম এর চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন পটিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী টিপু, জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সামশুল আলম মাষ্টার, পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন, শশাংকমালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি বিমল মিত্র, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলন কান্তি দাশ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব বেগম নুর জাহান, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পুনর্মিলন উদ্যাপন পরিষদ দপ্তর আহবায়ক শিরিন আকতার, যুগ্ন আহবায়ক আকলিমা বেগম, অর্থ-আহবায়ক তামান্না জাহান।
শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর সাহেদা ইসলাম বলেন, নারীদেরকে বাদ দিয়ে কখনো উন্নত রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। এদেশের মূল জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ। প্রতিযোগিতাময় বিশে^ নারীরা সুযোগ পেলেই যে কোন কাজে যে সফলতার স্বাক্ষর রাখছে তার দৃষ্টান্ত অনেক। তাই নারীদেরকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। তিনি উন্নত রাষ্ট্রগুলোর চিন্তাধারার কথা তুলে বলেন, তারা নারীর ক্ষমতায়নে শতভাগ আন্তরিক। আমাদের দেশেও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী সহ বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছে নারীরা। এক্ষেত্রে নারীরা সফলতার স্বাক্ষর রাখছে বিধায় নারীদেরকে এগিয়ে নিলে সমাজ এগিয়ে যাবে।
এতে মূল অনুষ্ঠানের কর্মসূচীর মধ্যে ছিল দিনব্যাপী সকাল ৯ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পর্যায়ক্রমে স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, দুই পর্বে বিভক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণ ও প্রীতিভোজ। পুনর্মিলনী উৎসবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বরেন্য শিল্পী সন্দীপন, অজয় চক্রবর্ত্তী, রূপনা চৌধুরী, স্কুল ছাত্রী প্রিয়াংকা দাশ, ইলমা বিনতে বখতেয়ার ও নৃত্যাঞ্চলের শিল্পীবৃন্দ।

শেয়ার করুনঃ