নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করা চট্টগ্রামের একঝাঁক ‘ত্যাগী’ ও ‘পরীক্ষিত’ নেতা এখন দলের যথাযথ মূল্যায়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। বিশেষ করে, যারা বিগত দুঃসময়ে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়েও আদর্শচ্যুত হননি, তারা এখন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে দেশ সেবার সুযোগ খুঁজছেন। এই তালিকায় আলোচনা কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক আলমগীর নূর।
আলমগীর নূর চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ সওদাগর ছিলেন জাগদল তথা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি (১৯৭৯)। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বয়ং তাদের বাসভবনে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন। পিতার হাত ধরেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত আলমগীর নূর বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং ‘তারেক রহমান রাজনৈতিক দর্শন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আলমগীর নূর অসংখ্য রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন এবং বারবার কারাবরণ করেছেন। ১/১১-এর পটভূমি থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে তাকে ভয়াবহ আইনি লড়াই ও কারানির্ভর জীবন কাটাতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় কারান্তরীণ থাকায় তার সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে। এমনকি ২০০৭, ২০১১, ২০১৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে গুমের চেষ্টা ও অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। গত ১৬/১৭ বছর পতিত ও পলাতক স্বৈরাচার বিরোধী রাজপথে আন্দোলন তার ছিলো সাহসি ভূমিকা।
চট্টগ্রাম মহানগরের কে.সি. দে রোডস্থ আলমগীর নূরের পৈত্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিয়া হোটেল’ চট্টগ্রামের রাজনীতির ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি চট্টগ্রাম বিএনপির উৎপত্তিস্থল ও দুর্গ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এই প্রতিষ্ঠানটিও বারবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আলমগীর নূর। এই আসনের স্থায়ী বাসিন্দা আলমগীর নূরকে সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান নগরীর সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। একজন পরিবেশবাদী সংগঠক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিকল্পিত নগরী গড়ার ক্ষেত্রে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তিনি ‘দৈনিক মানবকণ্ঠ’-এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা জানান, “আলমগীর নূর কেবল একজন নেতাই নন, তিনি দুঃসময়ে কর্মীদের অভিভাবক ছিলেন। মনোনয়নবঞ্চিত হয়েও তিনি দলের প্রার্থীর পক্ষে জানপ্রাণ লড়িয়েছেন। তাকে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে তা হবে ত্যাগী নেতাদের প্রতি দলের সঠিক মূল্যায়ন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বাংলাদেশে প্রশাসন ও উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে চট্টগ্রামের এই পরীক্ষিত নেতাদের অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের সমন্বয় ঘটানো বিএনপির জন্য একটি বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। যারা দুঃসময়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করেছেন, তাদের সঠিক স্থানে পদায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
আলমগীর নূর সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্যারিয়ার এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সিডিএ’র মতো প্রতিষ্ঠানে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। এখন দেখার বিষয়, দল ও সরকার এই ত্যাগী নেতার দীর্ঘদিনের লড়াইকে কীভাবে মূল্যায়ন করে।



