চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ওয়ার সিমেট্রি, চট্রগ্রাম কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ওয়ালী খাঁ মসজিদ। নগরীতে বাস করেন কিন্ত এ স্থাপনা গুলোর নাম শুনেনি এমন মানুষ কিন্তু খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কারন উপরে উল্লেখিত স্থাপনা গুলোর মধ্যে কয়েকটির সাথে নিজের প্রয়োজনেই পরিচিত হতে হয়েছে অনেককে। যেমন চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্রগ্রাম কলেজ এবং হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ। প্রতিদিন যেমন পুরো চট্রগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চিকিৎসা সেবা পেতে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন অসংখ্য মানুষ তেমনি চট্রগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজে জ্ঞান অর্জনে আসেন হাজারো শিক্ষার্থী। চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের দক্ষিণ -পশ্চিম কোণে পাহাড়ি রাস্তায় কিছুটা ঢালু আর কিছুটা সমতল ভুমিতে গড়ে উঠেছে ওয়ার সিমেট্রি। পঞ্চাশের দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীরা এ সমাধি প্রতিষ্টা করে। ওয়ার সিমেট্রি মতো ওয়ালী খাঁ মসজিদ নির্মাণ নিয়েও অনেক ইতিহাস আছে। এখন থেকে ৩০০বছর পূর্বে মোঘল ফৌজদার ওয়ালী বেগ খাঁন ১৮শতক জায়গার উর এই মসজিদটি নির্মান করেন। এই মসজিদের নামকে ঘিরে এখানকার একটি মোড়ের নামকরন ওলি খাঁ মোড় নামে পরিচিত।

এই এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৮১.৪৭% মানুষ শিক্ষিত। এটি মূলত বনিকদের কেনাবেচার কেন্দ্র হিসাবে গড়ে ওঠে, যা আজও শহরের অন্যতম ব্যস্ত বানিজ্যিক ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস আর ঐতিহ্য স্নৃতি বিজড়িত এসব স্থাপনাগুলো চট্রগ্রাম নগরীর ১৬নং চকবাজার ওয়ার্ডে অবস্থিত।

চকবাজার ওয়ার্ডের আয়তন ২.০৪ বর্গকিমি। জনসংখ্যা ৫৩২০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৮১৫৩ জন এবং মহিলা ২৫০৫৬ জন। চকবাজার মোট ১০১৫৬টি পরিবারের বসবাস করেন।

চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর এই চকবাজার ওয়ার্ডটি ঘুরে যে সব তথ্য ও চিত্র দেখা যায় চকবাজারের নামকরন অবৈধ উপায়ে স্বার্থক করতে যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে দখলদাররা। চকবাজারের রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে তারা বসিয়েছে ভাম্যমান বাজার। যার কারনে প্রায়শই লেগে থাকে যানজট,পথচারীরা রাস্তার ফুটপাত দিয়ে হেটে যেতেও বিঘ্নত ঘটে। চকবাজারের লালচাঁন্দ রোড এবং থানা রোডেই বিকেল নামলেই দখলদাররা ভ্রাম্যমান বাজার বসেন। পথচারী আর যানবাহন চলাচল রাস্তাই যেনো একাকার। গোলজার মোড়, কেয়ারী ইলিশিয়াম শপিংমল সামনে,প্যারেড ময়দানের দক্ষিণ পাশে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের সামনে, ওলি খাঁ মোড় চকবাজার চট্রশ্বরী রোড এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ভ্যান বসিয়ে স্থাপনা তৈরি করছে। খ্যাতির ভার চকবাজারের মাথা উঁচু করলেও দখলদাররা নেমেছেন তা নুইয়ে দিতে। এই ওয়ার্ডের আরও একটি সমস্যা জলবদ্ধতা। নাগরিক হিসাবে এলাকাবাসী ভবিষ্যৎ কাউন্সিলর কাছে দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

এলাকাবাসী মাদক, ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া,সন্ত্রাস চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চান। এলাকাবাসী শান্তি শৃঙ্খলার উন্নয়ন চান।সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও এর কয়েকদিন পর তারা আবার ফুটপাত শুধু ফুটপাত নয়, তারা যেনো আবার চলে আসে রাস্তায়। আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৬নাম্বার চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে সরেজমিনে পূর্ব বাংলা প্রতিনিধির অনুসন্ধানে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে, তারা হলেন চট্রগ্রাম মহানগন বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে এম সালাউদ্দিন কাউসার লাভু, , চকবাজার ওয়ার্ড বিএনপি’র আহব্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম, মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ন সম্পাদক নুরুল আলম শিপু, ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সাধারন সম্পাদকএম এ হালিম বাবলু,সাবেক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী, ওয়ার্ড জামায়েত ইসলামী নেতা মিনহাজুল চৌধুরী রানা,ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক আনিসুজ্জামান সাইমন, চট্রগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি পরিদর্শক ও নগর যুবদলের সাবেক সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ।

এ ছাড়াও মোঃ রিয়াজউদ্দিন সাত্তার (মামুন), আব্দুর রহমান, জাবেদ জুবায়ের, আব্দুর রহমান রাফি, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইলিয়াছ সহ একাধিক জন রয়েছেন। তারা ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহল্লায় চকবাজারের মুল ফটকে ব্যানার, পেষ্টুন লাগিয়ে জনসাধারনকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষনা করছেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া অনুষ্টানে উপস্থিত থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীতা ঘোষনা করছেন।
মিনহাজুল চৌধুরী রানা বলেন, গত সাংসদ নির্বাচনে ১১দলকে সমর্থন জানিয়েছেন, চট্রগ্রাম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে আমার কেন্দ্রতে আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে দাঁড়ি পাল্লাকে ২৭১ ভৌটে বিজয়ী করেছিলাম ।আমার সংগঠন জামায়েত ইসলামী থেকে আমাকে যদি সমর্থন করে, যারা আমার অত্র ওয়ার্ডের আমার ভাইয়েরা নিজেদের অর্থায়নে আমাকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী দেখতে চাই বলে ব্যানার, পেষ্টুন লাগিয়েছে তাদের ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে নির্বাচন অংশ গ্রহন করবো। চকবাজারেই আমার জন্মগ্রহন,চকবাজার আমার বাপ-দাদার ভিটা, আমার আত্নীয় স্বজন, বলতে গেলে পুরো চকবাজার ওয়ার্ড়ে সবাই আমার আত্নার আত্নীয়।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ