মাননীয়,
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সমীপে
শ্রদ্ধেয় মিলন ভাইজানে,
গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন। আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া ভালোই আছেন। আমিও বাংলাদেশের এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ভাবিয়াই নানান রকম চিন্তা করিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি।
গেলবার চট্টগ্রামের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন সমীপে গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম বলিয়াই আপনাকে লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।
ভাইজানরে,
আপনি হইলেন, এই দেশের শিক্ষামন্ত্রী । এর আগেও আপনি শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন । শিক্ষামন্ত্রীর কাছ হইতে দেশবাসী সবসময় আশাব্যঞ্জক ও শিক্ষামূলক কর্তা বার্তা শুনিতে প্রত্যাশা করিয়া থাকেন। আওয়ামী লীগ আমলের শিক্ষা মন্ত্রী দিপু মনি একবার বলিয়াছিলেন আগামী পরীক্ষা হইবে না। এই কথা বলিবার পর ছাত্র -ছাত্রীরা আর পড়া টেবিলে বসিতে আগ্রহ হারাইয়া ফেলে। অভিভাবকেরা শত চেষ্টা করিয়াও পড়ার টেবিলে বসাইতে পারেন নাই। পড়ুয়ারা সাফ জবাব দিত পড়িয়া সময় নষ্ট করিয়া কী হইবে পরীক্ষা তো হইবে না। অদুরদর্শী ও বাচাল শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে দেশবাসী দিপু মনিকে চিহ্নিত করিয়াছিল। বিষয়টি আপনার খেয়াল রাখা উচিত।
ভাইজানরে,
আপনার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলিলেেন ‘আগামী প্রজন্মের ক্যারিকুলামে থাকবে তাদের স্কুল পরিষ্কার করা, তাদের নিজেদের জামা কাপড় পরিষ্কার করা তাদের এলাকার রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা তাদের স্কুল ক্যারিকুলামে থাকবে যেমন এমন সিটিজেন হয়ে বড় হয় যে সিটিজনরা সুুন্দর ও পরিষ্কার পরিচছন্ন বাংলাদেশ গড়বে। এই সিটিজনেরা বিশ্ব মঞ্চে নেতৃত্ব দেবে।’
নৈতিকতা, শানিত বিবেক, সৃজনশীলতা, উদারতা, সহমর্মিতা, ভ্রাভৃত্ববোধ, ন্যায় -অন্যায়, সত্য মিথ্যার সুফল ও কুফল,অলস আয় ও পরিশ্রমের উপার্জন এসবের ব্যবধান, ধনী দরিদ্রের ভারসাম্য সর্বোপুরি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলিবার উপযোগী শিক্ষা পদ্ধতি দেশবাসী আশা করিয়া থাকেন।
ভাইজানরে,
মাধ্যমিক পর্যায়ে বলা যায় ৬ষ্ট শ্রেনী হইতে সামরিক শিক্ষা (আত্মরক্ষার কৌশল)পাঠ্য বইয়ে থাকিলে কেমন হয় ভাবিয়া দেখিবেন। তাহা হইলে বহু ক্ষেত্রে সামরিক ব্যয় কমাইয়া শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়াইতে পারিবেন। আমাদের সামরিক খাতের বাজেট অনুপাতে সুফল কী ভাবিয়া দেখিবেন। ভারত, পাকিস্তান ও বার্মা আমরা কাহাদের সাথে লড়াই করিয়া জিতিতে পারিব ? তাহা হইলে শারীরিক ফিটফাট লোক তৈরী করা নাকি মেধাবী সুশিক্ষিত নাগরিক তৈরী করা আমাদের দেশের জন্য উত্তম হইবে তাহা ভাবিয়া দেখিবেন। এই ক্ষেত্রে প্রতিটি মাধ্যমিক স্কুুল , কলেজ ও মাদ্রসায় সামরিক বাহিনী লোক নিয়োগ দেয়া যাইতে পারে ।
ভাইজানরে
তত্রতত্র কিন্ডার গার্ডেন, নুরানী মাদ্রসা এসব বাহারী নামের প্রতিষ্ঠানগুলো একটি নীতিমালায় নিয়া আসুন। জামাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা নিজেদেরকে নামের আগে অধ্যক্ষ পরিচয় দিয়া প্রকৃত অধ্যক্ষদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলিতেছে। বিষয়টি সঠিকতা যাচাই করিয়া প্রকৃত অধ্যক্ষদের মর্যদা অক্ষুন্ন রাখিবেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও বাস্তবতাকে কাজে লাগানোর দিকে নজর দিতে হইবে। নইলে এইসব প্রতিষ্ঠান থেকে যাহারা বাহির হইবে তাহারা দেশের উন্নতি বা কল্যাণে কোন কাজে আসিবে না।
আজ আর না। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনায় আপনারই গ্রাম বাংলা অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া গ্রন্থনা ম. আ. হ তারিখ ২২মে ২০২৬ । আগামী সংখ্যায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক মোঃ হাসান মারুফ সমীপে ঠান্ডা মিয়া গরম কথা (৩৫৯) সম্প্রচার করা হইবে ।



