পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচার: সংবিধান ও আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা
সম্প্রতি একটি বিশেষ মহল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিয়োগকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি ও সাম্প্রদায়িক ধোঁয়াশা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছে যে, এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে কেবল ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ ছাড়া অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায় না-যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, আইনবহির্ভূত এবং দেশের সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন।
এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারেক রহমান রাজনৈতিক দর্শন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলমগীর নূর আজ এক বিবৃতিতে বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা গঠন ও মন্ত্রী নিয়োগের পূর্ণ এখতিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। সংবিধানে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জন্য কোনো বিশেষ অঞ্চল বা জাতিগোষ্ঠীর জন্য ‘কোটা’ বা ‘সংরক্ষণের’ কথা উল্লেখ নেই। অর্থাৎ, দেশের যেকোনো যোগ্য সংসদ সদস্য যেকোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অধিকারী। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কোনো বিধিমালাতেও এমন কোনো শর্ত নেই যা মাননীয় মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন-এর নিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের অনার বোর্ড এবং ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতীতেও বিভিন্ন পটভূমি ও অঞ্চলের ব্যক্তিরা অত্যন্ত সফলতার সাথে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সুতরাং, বর্তমানে যে দাবিটি তোলা হচ্ছে তা কেবল ঐতিহাসিকভাবে মিথ্যাই নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও অখন্ডতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব অরেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন হলো ‘জাতীয়তাবাদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’। এখানে কোনো অঞ্চল বা গোষ্ঠীকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন-এর মতো একজন যোগ্য ও আইনি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকান্ড আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ হবে। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ।
বিবৃতিতে আলমগীর নূর আরও বলেন, ‘একটি চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পাহাড়ে অস্থিরতা তৈরি করতে এবং সাধারণ মানুষকে বিশ্রান্ত করতে এই ধরনের মনগড়া তথ্য হড়াচ্ছে। সংবিধানের উর্ধ্বে গিয়ে কোনো সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠীগত দাবি এ দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মেনে নেবে না। আমরা শাস্তি, সম্প্রীতি ও সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী।’
আমরা সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরুন। পার্বত্য চট্টগ্রামের শাস্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আমরা বর্তমান প্রশাসনে পাশে আছি।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ