সাঈদুর রহমান লিটন
একুশে ফেব্রুয়ারির আগের দিন বিকেল বেলা। স্কুল ছুটি হতেই আনিস উত্তেজিত কণ্ঠে বলল,
— শোন সাকিব, কাল একুশে ফেব্রুয়ারি। আমি নিজ হাতে মালা গেঁথে শহীদ মিনার-এ দেব। প্রভাত ফেরিতে খালি পায়ে হাঁটব। আর গান গাইব— আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…
সাকিব মুগ্ধ হয়ে বলল, সাবাস বন্ধু! আমিও আছি তোর সাথে। তাহলে আজ রাতেই ফুল চুরি হবে। হালদার বাড়ির বাগানে অনেক সুন্দর ফুল ফুটেছে। রাত বারোটায় সবচেয়ে সুন্দর মালা দেব।
রাত নামতেই দু’জন চুপিচুপি হালদার বাড়ির বাগানের পাশে গেল। ফুলে ভরা গাছগুলো চাঁদের আলোয় ঝলমল করছিল। আনিস হাত বাড়াতেই হঠাৎ ভেতর থেকে কাশির শব্দ শোনা গেল। দু’জন থমকে দাঁড়াল।
হালদার কাকু দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন। কিন্তু রাগ না করে শান্ত গলায় বললেন, তোমরা কি ফুল নিতে এসেছ? শহীদ মিনারে দেওয়ার জন্য?
লজ্জায় মাথা নিচু করে আনিস বলল, জি কাকু… শহীদদের জন্য মালা বানাবো বলে…
কাকু মৃদু হেসে বললেন, শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে চুরি করতে হয় না বাবা। এসো, আমি নিজেই তোমাদের ফুল দিচ্ছি। তবে মনে রেখো, দেশপ্রেম মানে সৎ থাকা।
দু’জনের চোখে জল এসে গেল। তারা কাকুর হাত থেকে ফুল নিয়ে ধন্যবাদ জানাল।
ভোরে খালি পায়ে প্রভাত ফেরিতে হাঁটতে হাঁটতে আনিস মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, দেশকে ভালোবাসবে, কিন্তু কখনো অন্যায় পথে নয়। শহীদ মিনারের বেদিতে মালা রেখে তারা গেয়ে উঠল,
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…



