বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া-বলিরহাট-কর্ণফুলী নদী ঘিরে চাক্তাই-কালুরঘাট সড়ক কাম বাঁধ, ফিশারিঘাট এলাকার চারদিকে প্রায় ১৫টি স্পটে দিন-রাত প্রশাসনের অনৈতিক যোগসাজশে চলছে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন ও বিক্রির রমরমা রাজত্ব। অভিযোগ রয়েছে- অবৈধ বালুমহালের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি, যুবদলের ছত্রছায়ায় নতুন ব্রিজ চত্বর, নোমান কলেজ রোড, বাস্তুহারা, ফিশারিঘাট, বাকলিয়া-চাক্তাইজুড়ে গড়ে তুলেছে এক ভয়াবহ ত্রাসের রাজত্ব!
সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু চক্র নদী থেকে অর্ধ শতাধিক ড্রেজার ট্রাক  ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলন করে দিন-রাত বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। হুমকির মুখে চউক নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ রোড, কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকারও।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-যুবদল, জামায়াত, আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-বাস্তুহারা লীগের কতিপয় বালুদস্যু, মাটিদস্যু, জলদস্যু, ভূমিদস্যু, মাদককারবারি ও কিশোরগ্যাং সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট এর কাছে জিম্মি বৃহত্তর বাকলিয়াবাসী ও নতুন ব্রীজ চত্বর ব্যবসায়ী সমাজ, ফিশারিঘাটের মৎস্যজীবী ব্যবসায়ীবৃন্দ ও আশপাশের এলাকাবাসী। এসব অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রির সেন্টারে দিনের বেলা কিছু নীরবতা থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত চলে কাটাকাটি।
প্রতি রাতে ২ শতাধিক গাড়ি মাটি ও বালু নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। দিন-রাত অর্ধ শতাধিক ড্রেজার তথা খননযন্ত্র দিয়ে কাটা হয় বালুমাটি। দিনে সুনসান নীরবতা। সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় মাটি ও বালু কাটা। চলে সারা রাত। এতে হুমকিতে পড়েছে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ কর্তৃক নির্মাণাধীন চাক্তাই-কালুরঘাট সড়ক কাম বাঁধ প্রকল্প। পাশাপাশি হুমকিতে পড়েছে এলাকার সড়ক এবং কর্ণফুলী গোল চতুর, শাহ আমানত সংযোগ সড়ক, ফিশারিঘাট, চাক্তাই, কোতোয়ালি, ফিরিঙ্গি বাজার সড়কসহ আশপাশের কয়েকশ বিঘা জমি ও বসতি। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচলও।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, রাতের আঁধারে মাটি-বালু কাটছেন যুবদল নেতা মুছা ও তার কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। এতে চরম ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। বিএনপির বিএনপি রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে যুবদল নেতা নামধারী বালুদস্যু ও ভূমিদস্যু এই মুছা ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড কিশোরগ্যাং সন্ত্রাসী টিপু পুরো বাকলিয়াজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, ডাকাতি, আওয়ামী লীগ ও কিশোরগ্যাং পুনর্বাসনসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ উঠেছে সরকারকে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় থানা পুলিশকে নিয়মিত মাসিক মাসোহারা দিয়ে সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু চক্র নদী থেকে অর্ধ শতাধিক ড্রেজার ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলন করে দিন-রাত বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে।

সংবাদ সূত্রে জানা যায়, এসব অবৈধ বালু মহালের মালিকরা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্মাণাধীন প্রকল্প চাক্তাই-কালুরঘাট সড়ক কাম বাঁধ ঘেঁষে কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছে প্রতিনিয়ত। ড্রেজার দিয়ে বেপরোয়াভাবে বালু তোলায় ইতোমধ্যে ধসে পড়তে শুরু করেছে সিডিএ’র প্রকল্প রক্ষা বাঁধ। প্রকল্পটিও হুমকির মুখে। সিডিএ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের বাঁধ ঘেঁষে যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তাতে যেকোনো দিন সড়ক কাম বাঁধ ভেঙে বিলীন হতে পারে জমি। বালুদস্যু মুছা ও বাস্তুহারা লীগের নেতা ভূমিদস্যু সরোয়ার গংসহ সর্বদলীয় একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু তুলছে বলে অভিযোগ। সরেজমিনে গিয়ে এ সময় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, বালু উত্তোলনকারীরা গণঅভ্যুত্থানের আগে সবাই ছিল পতিত স্বৈরাচারের দোসর। ৫ আগস্টের পরে রাতারাতি তাদের অনেকেই বিএনপির রাজনীতির ছত্রছায়ায় চলে আসে। মাসের পর মাস ধরে নদী ঘেঁষে বালু তোলা হচ্ছে।
যে কারণে এখন মেরিনড্রাইভ বাঁধসহ পুরো প্রকল্পটি হুমকির মুখে পড়েছে। তারা আক্ষেপের সঙ্গে জানান, যারা বালু কাটছেন, তাদের সঙ্গে নদীতে ট্রলারে অস্ত্রধারী থাকেন। তারা নিজেদের বাহিনী দিয়ে ড্রেজার নিয়ে নদীর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করে প্রতিনিয়ত। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কর্ণপাত না করে উল্টো ভয়ভীতি দেখিয়ে বালু উত্তোলন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ বালুখেকো গং। কালো টাকার মালিক ও সন্ত্রাসনির্ভর ব্যবসা হওয়ায় স্থানীয় কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন মালিকানাধীন জমি জবরদখল করে চসিক মেয়রের পিএস পরিচয়দানকারী স্থানীয় যুবদল নেতা বালুদস্যু চাঁদাবাজ মুছা, কিশোরগ্যাং টিপুসহ অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের থেকে নিজেদের জমি রক্ষা করতে কর্ণফুলী তীরবর্তী বাকলিয়া বলিরহাট ব্লুইস গেট সংলগ্ন স্পটে অবস্থান নেন জমির মালিকগণ।
বলিরহাট কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী মুছা ও টিপু গংকে ধাওয়া দিয়েছেন কয়েকশ এলাকাবাসী। সম্প্রতি অত্র এলাকায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় গ্রামবাসী ও অবৈধ বালুদস্যুর মধ্যে উত্তেজনা চলছে। জমির মালিক ও এলাকাবাসী বালুদস্যু মুছার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে বলে জানা যায়।
এলাকাবাসী ও বালুদস্যুদের মধ্যে যেকোনো সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ খুনখারাবির অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। বাকলিয়াবাসী অবিলম্বে কর্ণফুলী তীর ঘেঁষে সকল অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন এবং বিক্রির ব্যবসা বন্ধ করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় অবৈধ বালুদস্যু-জলদস্যু-ভূমিদস্যু-মাদক কারবারি কিশোরগ্যাং এর পক্ষ নেয়া সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী রাজপথে কঠিন আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ