নিজস্ব প্রতিনিধি
ফৌজদারহাট ফরেস্ট স্টেশনে চলছে দিনে দুপুরে দুর্নীতি ও অনিয়ম । অনিয়ম ও দুনীতি যেন বাসা বেঁধেছে এখানে। অবৈধ কাঠ ধরে পরক্ষণেই টাকার বিনিময়ে আবার ছেড়ে দেয় এখানে এই দৃশ্য প্রতিদিন দেখা যায় । গোপনে ও প্রকাশ্য একটু লক্ষ্য করলেই যে কেউই এ অবস্থা বুঝতে পারবেন এখানে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে ডিসেম্বরে ফরেস্টার হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগের তথ্য মন্ত্রী হাসান মাহমুদের সুপারিশে সাতকানিয়ার মনজুরুল আলম ভাটিয়ারী ফরেস্ট স্টেশনের ফরেস্টার হিসেবে যোগদান করে। এরপর বেপরোয়া দুর্নীতি লাগামহীনভাবে বেড়ে যায় । যা এখনো চলমান রয়েছে।
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিটি কাঠের গাড়ি থেকে চালান রশিদ বাবদ নেওয়া হচ্ছে টাকা । প্রথমে চালান রশিদ নিয়ে খাতায় এন্ট্রি করে চালককে নিয়ে যাওয়া হয় ভিতরের একটি গোপন কক্ষে সেখানে টাকা নেওয়ার পর দেওয়া হচ্ছে না টাকার আর কোন রশিদ। ভিতর থেকে চালকেরা বাইরে আসলে টাকার বিষয়ে ভয়ে খুলতে নারাজ। এক কথায় জিম্মি করে প্রত্যেকটি গাড়ি থেকে নেওয়া হচ্ছে টাকা।

জানা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা গাড়িগুলো থেকে টাকা নেওয়ার আলাদা আলাদা রেইট রয়েছে যেমন বান্দরবান থেকে আসা প্রত্যেকটি গাড়ি থেকে নেওয়া হয় ২৭০০ টাকা,রাঙামাটি থেকে আসা গাড়ি থেকে নেওয়া হয় ৯০০ টাকা, বন্দর থেকে আসা প্রতিটি গাড়ি থেকে নেওয়া হয় ৫০০ টাকা, লামা থাকে আসা গাড়ি থেকে ২৫০০ টাকা, এভাবে ৪ কিংবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন গাড়ি থেকে প্রতিদিন নিয়ে থাকেন ভাটিয়ারী ফরেস্ট স্টেশনের লোকজন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টাকা নেওয়ার বিষয়ে কোন নির্দেশনা না থাকলেও ফরেস্ট গার্ড ইসমাইলের নেতৃত্বে এখানে গাড়ি প্রতি টাকা তুলেন ফ্রি ম্যান শুভকে দিয়ে।
জানা যায়, ফরেস্টার স্টেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগী মোঃ ইসমাইল এখানে দুর্নীতির আখড়া হিসাবে গড়ে তুলেছেন। এদের দুজনের নেতৃত্বে অন্য কর্মকর্তারাও এখন পুরোপুরি দুর্নীতির সাথে যুক্ত। অস্থায়ী হিসেবে ফ্রি ম্যান শুভ এখানে কাজ করছেন সেই সুবাদে শুভকে দিয়েই টাকা তুলেন সাজ্জাদ ও গার্ড ইসমাইল। শুভকে দিয়েই প্রতিনিয়ত এই দুর্নীতির টাকা তোলেন তারা। বিশেষ মুহুর্তে তারা এই ‘শুভ’কে চিনেন না বলেও বলে থাকেন । অবশ্য শুভ এখানে চাকুরীও করে না।
জানা গেছে, এই ফরেস্ট স্টেশনে প্রতিদিন অবৈধ কাঠ পাচারে দুই লাখ টাকার চাঁদাবাজি হয় । এটার নেতৃত্ব দেয় স্বয়ং ফরেস্টার সাজ্জাদ হোসেন নিজেই। হিসেব করলে দেখা যায় প্রতিদিন দুই লক্ষ টাকা করে মাসে ৬০ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি হয় এখানে। বছরে ৭কোটি ২০ লাখ । এই টাকা কোথায় যাচ্ছে ? সরকারি খাতে কি জমা হচ্ছে ? এই প্রশ্ন এখন কাঠ ব্যবসায়ী ও চালকদের যারা প্রতিনিয়ত এই অর্থ বাধ্য হয়ে যোগান দিয়ে থাকেন ।
সুত্র মতে , এই টাকার অংশ সাজ্জাদ হোসেন গং-এর পকেটে ও পেটে যাচ্ছে বলে দাবী করছে বলে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে এই চাঁদার ভাগ উত্তর বন বিভাগের বড় এক কর্তাও পায় বলে জানা গেছে।
পূর্ব বাংলা পত্রিকার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘২৩-২৪ সালে এই সাজ্জাদ হোসেন ইছামতী রেঞ্জে কর্মরত ছিলেন।তখন তার বিরুদ্ধে গাছ ও জায়গা বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠে। বিভিন্ন ইট ভাটা, করাত কল থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিতেন এই সাজ্জাদ । এছাড়াও সরকারী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অনুকুল বরাদ্ধকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিপুল পরিমান বাঁশ পাচার , ভুয়া দাখিলা ও টিপির মাধ্যমে কাঠ পাচারে অর্থের বিনিময়ে সহায়তাও করত এই সাজ্জাদ হোসেন।
উত্তর বনবিভাগের ডিএফও এস. এম কাওসার সাহেবের মোবাইলে এসব বিষয়ে জানার জন্য ফোন করা হয়। ফোন রিসিভ না হওয়ায় তাঁর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এসব বিষয়ে ফৌজদারহাট বিট-কাম-চেক ষ্টেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন থেকে জানার জন্য মোবাইলে কল দিলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।



