নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর পোরশায় পিতাকে খুন করার দায় স্বীকার করায় ছেলে, মেয়ে, জামাই ও স্ত্রীসহ চার জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। নিহত ব্যক্তি হলেন পোরশা উপজেলার গঙ্গুরিয়া ইউনিয়নের বালিয়াচান্দা গ্রামের মৃতু মালেকের ছেলে আব্দুল খালেক।

আটককৃতা হলেন খালেকের স্ত্রী ফাইমা (৪৫), ছেলে খাইরুল ইসলাম (২৮), মেয়ে নাজমা খাতুন (২৫) ও জামাই ঘাটনগর শাহুপাড়া গ্রামের মৃতু হোসেন মোল্লার ছেলে মোদাচ্ছের (৩০)।

স্থানীয়, পারিবারিক ও পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, পরকিয়ার কলহের জের ধরে গত ৪ ফেব্রুয়ারী  রাতে নিহতের বাড়িতে খালেকের ছেলে খাইরুল ও মেয়ে নাজমা খাতুন তার বাবার গলায় মাফলার পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। হত্যার পরে লাশ গুম করার জন্য ছেলে খাইরুল মোটরসাইকেল যোগে তার কর্মস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের শ্রীরামপুর হাফেজিয়া মাদরাসার পিছনে ড্রেনের মধ্যে ফেলে দিয়ে লাশ গুম করে। এর কয়েকদিন পরে এলাকার লোকজন লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বেওয়ারীশ লাশ হিসাবে স্থানীয় কবর স্থানে দাফন করেন। এ সংক্রান্তে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। নিজেদের বাঁচানোর জন্য হত্যার বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে ভিকটিমের একমাত্র ভাই জাকির আলমের চাপে ভিকটিমের ছেলে গত ৮ মার্চ পোরশা থানায় একটি জিডি করে। ওই জিডির সূত্র ধরে পোরশা থানা পুলিশ হত্যার আসল রহস্য উৎঘাটন ও হত্যাকারীদের চিহিৃত করতে সক্ষম হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পোরশা থানা পুলিশ ওই চার জনকে বালিয়াচান্দা নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন এবং আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় আজ বুধবার দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার উক্ত হত্যা ঘটনার এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দিবাগত রাতেই পোরশা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে আজ বুধবার জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে.এম মামুন খান চিশতী, সাপাহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিনয় কুমার, সহকারী পুলিশ সুপার সুরাইয়া খাতুন, পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ শফিউল আজম সহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকতাগন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ