করোনায় যখন পৃথিবী স্তব্ধ, এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রত্যেকই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক তখনই জীবনের মায়া ত্যাগ করে করোনায় বিপদে পড়া মানুষের জন্য দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “পাথওয়ে”।
গতকাল রাত ১২ টার দিকে সংগঠনের হট লাইনে কল আসে, একজন ডক্টর (তিনি একজন ফিজিওথেরাপিস্ট) করোনায় আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। খবর পেয়ে সাথে সাথে পাথওয়ে’র একটি টিম রওনা দেয় মৃত ব্যক্তির লাশকে দাফন করার জন্য। টিমটি যখন আসে তখন পাশে পায়নি কোন আত্মিয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশিদের। কেউ খাটিয়া ধরার জন্য এগিয়ে দেয়নি একটি কাঁধ। এলাকায় খুব পরিচিত মুখ হয়েও জীবনের শেষ সময় কাছে নেই কেউ। অথচ জীবনের সব সময়টুকু দিয়েছেন তিনি মানুষের সেবায়।
যখন মানুষ গভীর ঘুমে মগ্ন, অনেকে মুভি–চ্যাটিং আর নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু এর কোনটাতেই আটকে নেই এ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা প্রত্যেকই ব্যস্ত মানবতার সেবায়। পাথওয়ে’র স্বেচ্ছাসেবকরা এযাবৎ ২৭টি করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছে এই স্বেচ্ছাসেবকরা। এ স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে কেউ হয়তো সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় একদন্ড দাঁড়ানোরও সুযোগও পায়না। কেউ হয়তো সেই সকাল বেলা উঠেছে। সারাদিন কাজের মধ্যে কিভাবে অতিবাহিত হয়েছে বুঝতেই পারেনা। যখন সন্ধ্যা নাগাদ কোমর–পিঠ আর পেরে উঠছেনা, তখন হয়তো অনেকেই ভাবে আজ বাসায় গিয়ে গোসল দিয়ে একটা লম্বা ঘুম দিবে, সে ঘুম আর কোথায়। তার সেই ঘুম তো আজ মানবতার আড়ালে চাপা পড়েছে। এভাবে হাজারো ত্যাগ–কষ্ট, উৎকন্ঠা–জীবনের মায়া, শরীরি কষ্ট স্বীকার করেই কাজ করে যাচ্ছে মানবতার ফেরিওয়ালারা। অবিরত ফেরি করে যাচ্ছে মানবতা। বিনিময়ে নিচ্ছে এক টুকরো ভালোবাসা যাদের মূলধন মানবতা যা হয়তো অবিনিয়োগ যোগ্য কিন্তু অফুরন্ত।


