সম্প্রতি আসন্ন পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মঙ্গলশোভাযাত্রা পালনকে বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী আজ এক বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, হাইকোর্টের সামনে থেকে জাতীয় আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধবিরোধী গ্রিক দেবীমূর্তির অপসারণ করবেন বলে প্রধানমন্ত্রী ওলামায়ে কেরামের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর মহাজোটের শরিক দল জাসদের সভাপতি ইনুসহ পতিত বাম-রামরা এখন এসব নিয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলা শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বিভ্রান্ত করা অপচেষ্টা করছেন। প্রকৃতপক্ষে ইনুরা হলো ফ্যাসিবাদী সমাজতন্ত্রী হিটলার-মুসোলিনির বঙ্গীয় উত্তরসূরী। এরা উগ্র সমাজতন্ত্রের নামে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। এরা ক্ষমতালোভী, ইতিহাসের বাতিল বাম-আবর্জনা। এরা ক্ষুদ্রসংখ্যক, নগণ্য। এদের অন্তরে মেজরিটির ভয় কাজ করে, ফলে প্রলাপ বকছে। হেফাজত আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সম্পর্কে অরুচিশীল ভাষায় কটূক্তি করছে। এরা উগ্র ও অভদ্র।
তিনি বলেন, মঙ্গলশোভাযাত্রা হচ্ছে মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের গণেশপূজার অংশ। হিন্দু পুরাণের দেব-দেবীর বাহনের মূর্তি নিয়ে এই শোভাযাত্রা হয়ে থাকে, যেমন: কার্তিকের বাহন ময়ূর, মা স্বরস্বতীর বাহন হাঁস, মা লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা। এছাড়া প্রাচীনকালের মতো শয়তানের উপাসনাস্বরূপ অমঙ্গলের প্রতীক কল্পিত রাক্ষস-খোক্কসের মুখোশ পরিধান করে সেগুলোকে সন্তুষ্ট করা হয়, যাতে শয়তান কোনো অমঙ্গল না ঘটায়। এই শোভাযাত্রায় এভাবে নতুন বছরে মঙ্গল কামনা করা হয়। সুতরাং এই পৌত্তলিক শোভাযাত্রা নিঃসন্দেহে মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদার বিরোধী। মুসলমানরা একমাত্র আল্লাহর কাছেই মঙ্গল কামনা করেন, দোয়া করেন। এর অন্যথা হলে সেটি অবশ্যই শিরক বলে গণ্য হবে। আর শিরক আল্লাহ তা’য়ালার কাছে ক্ষমার অযোগ্য কবীরা গুনাহ। যেসব মুসলমান এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয় এবং নিবে, তাদের ঈমান থাকবেনা। বৃহত্তর তৌহিদি জনতার ঈমান-আক্বিদা রক্ষার স্বার্থে আমরা সরকারকে অবিলম্বে এই নির্দেশ বাতিলের দাবি জানাই।
তিনি আরো বলেন, মঙ্গলশোভাযাত্রাকে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অঙ্গীভূত করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ঈমান-আক্বিদা ও তাদের মুসলিম জাতিসত্তার আত্মপরিচয়কে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই পহেলা বৈশাখের মতো একটি জাতীয় উৎসবের সাথে এই পৌত্তলিক শোভাযাত্রাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী সময়কালেও বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সাথে মঙ্গলশোভাযাত্রার কোনো সম্পর্ক ছিলনা। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের আমলে ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’ নামে এটির প্রথম সূচনা ঘটে। এরপর নব্বই-এর দশকে এসে সেটি ‘মঙ্গলশোভাযাত্রা’ নাম ধারণ করে। ব্রাহ্মণ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলশোভাযাত্রা, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও মঙ্গলসঙ্গীত ইত্যাদি হিন্দুদের পৌত্তলিক ধর্মাচারকে তথাকথিত হাজার বছরের বাঙলি সংস্কৃতি ও সার্বজনীনতার বিভ্রমের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ব্যাপক অপচেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদেরকে আমরা সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই। আসন্ন পহেলা বৈশাখে মঙ্গলশোভাযাত্রাকে বর্জন করুন। নিজের ঈমান-আক্বিদা রক্ষায় সচেষ্ট হোন; অন্যথায় ঈমান-আক্বিদা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আপনারা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বেন। পরিণামে আল্লাহর আজাব-গজব থেকে আমরা কেউই রেহাই পাবো না।
সর্বশেষ সংবাদ
- আনন্দবাজারের চোখে যে ৮ কারণে মমতার পতন
- বড় লোকসানের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ১ টাকা ৮৬ পয়সা ব্যয়
- কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে লবণ দেবে সরকার
- বনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণঃ বন কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম নিয়াজীর বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও বন উজাড়ের অভিযোগ
- কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করবে ভারত
- ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা ( ৩৫৬ ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ সমীপে
- কর্ণফুলী পুলিশের আশ্রয়ে মেলার আসরে রমরমা জুয়া
- আনোয়ারায় বিনামূল্যে হুইলচেয়ার ও ওয়াকিং স্ট্রেচার বিতরণ
- মেহনতি মানুষের দিন
- বিআরটিএ’র রাজস্ব কর্মকর্তা সলিম উল্যাহের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ



