রামগঞ্জ ( লক্ষ্মীপুর ) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী হাসপাতাল একজন ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা । এতে শত শত রোগী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সরকারী হাসপাতালে সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে বহিঃবিভাগে নাজমুল হক নামের একজন ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা । হাসপাতালের অন্য ডাক্তারগন অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ও অনেকেই বাড়ি ঘরে ফিরে যেতে হচ্ছে । হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা ডা. গুনময় পোদ্দার ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোস্তাক আহম্মদ, মেডিকেল অফিসার ডা. রৌশন জামিল, ডা. আল আমিন, ডা. রেজাউল করিমসহ বেশ কয়েকজন ডাক্তারের রোগী দেখার চেম্বার বন্ধ দেখা গেছে । এ রকম প্রতিনিয়তই হাসপাতালের ডাক্তারগন ছুটি, ট্রেনিংয়ে আছে বলেই বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এ সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারদের জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় অর্থলোভী ডাক্তারগন ও বহিরাগত দালালরা বেআইনি কার্যকলাপে উৎসাহীত হচ্ছে। উপজেলা সরকারী হাসপাতালে বেশ কয়েকজন রোগীদের সাথে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার দৈন্যদশার চিত্র পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ডাক্তাররা হাসপাতালে উপস্থিত থেকে রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও বেশীর ভাগ ডাক্তারই তা মানছেন না। অনেকেই সকাল ১০টার পরে এসে আবার দুপুর ১টার আগেই চলে যান। প্রায়ই ডাক্তার প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফোন আসা মাত্রই রোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে সেখানে ছুটে যান। সরকারি ঔষদের সরবরাহ থাকলেও হাসপাতাল থেকে রোগীদের তেমন কোন ঔষধ সরবরাহ হয় না, বাহির থেকে ঔষধপথ্য কিনতে হয়। জরুরী বিভাগে টাকা ছাড়া কোন চিকিৎসা সেবা হয় না। সুশীল সমাজের লোকজন বলেন, রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতাল নিজেই রোগী, উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট, রোগীদের চিকিৎসা কি করেই হবে। হাসপাতালে এক্সরে মিশিন, এম্বুল্যান্স দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নষ্ট হয়ে রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের ভেতরেই ময়লা আর্বজনা ফেলে ডাষ্টবিন বানিয়ে রাখা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ