বিশেষ প্রতিনিধি
র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ১৯ মার্চ গোয়েন্দা অনুসন্ধানের ফলশ্রুতিতে জানতে পারে যে, মায়ানমার ও দেশীয় চোরাচালানীদের “আনোয়ারা-গহিরা” হতে কয়েকটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্র মাছের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার চালান মায়ানমার হতে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রে টহল জোরদার করে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম রুটে বেশ কয়েকটি বড় চালান আটক করে র্যাব-৭। এজন্য বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে গহিরা, আনোয়ারা, পতেঙ্গা সী-বিচ, খেজুরতলা সী-বিচ, হালিশহর সী-বিচ, ভাটিয়ারি এবং কুমিরা অঞ্চলের অংশে সন্ধ্যায় বা গভীর রাতে খালাস করে। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-৭ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার ১টি চালান পতেঙ্গা থানাধীন চরপাড়া বেড়ী বাঁধ সংলগ্ন সুইজ গেইট এলাকায় খালাস করবে তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ মার্চ র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমদ এর নেতৃত্বে সুইজ গেইট এলাকায় লোকজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে র্যাব তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে মাদক ব্যবসায়ীরা দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টাকালে র্যাব ৮ জনকে আটক করে।
পরবর্তীতে তাদের দেখানো মতে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ৬ লক্ষ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় । গ্রেফতারকৃত ৮ জন আসামীর মধ্যে ৬ জন মায়ানমারের নাগরিক। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নামীয় পরিচয় হলো ১- নূর কবির (৪০), চলনদার/ম্যানেজার-বার্মা, পিতাঃ মৃত নুর আলম, উখিয়া, কক্সবাজার,২- মোঃ জামাল হোসেন (৪৫)- বার্মা, পিতাঃ মৃত আঃ হাকিম, ৩- মোঃ বশির আহমদ (৩৫)- বার্মা, পিতাঃ মৃত আঃ হক, উখিয়া, কক্সবাজার,৪- মোঃ জবি উল্লাহ (২৫)- বার্মা, পিতাঃ হাসু মিয়া, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প, উখিয়া, ৫- মোঃ বশি উল্লাহ (২৫)-বার্মা, পিতাঃ রহিম উল্লাহ, উখিয়া,৬- মোঃ আকতার হোসেন (২৩), বার্মা- পিতাঃ ফয়জুর রহমান, উখিয়া,৭- মোঃ আলী জোহর (৩৮), পিতাঃ মৃত আবু বক্কর, পটিয়া, – চট্টগ্রাম এবং ৮- মোঃ শাহজাহান (৪৫), পিতাঃ আঃ মান্নান, আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রাম কে আটক করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানাই মায়ানমার হতে ইয়াবা গুলো এনে চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্পটে সেল করে ্আটককৃত ইয়াবার মালিক আনোয়ারার পলাতক দুই ভাই মোঃ হাসান মাঝি (৪০) ও মোঃ সাবের আহমেদ (২৮), আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম এবং তাদের ভগ্নিপতি মোঃ হাসান মিয়া @ আজু, পিতাঃ জামাল আহমেদ, গ্রামঃ নতুন পাড়া আনোয়ারা চট্টগ্রাম।
ইতিপূর্বে তারা বেশ কয়েকটি চালান খালাস করেছে বলে র্যাব জানান। গত মাসেই ৮ লাখ ইয়াবা খালাস করে তা নাগরিকদের মাঝে ছড়িয়ে আটক কৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানান পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে এবং ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ২৪ কোটি টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা গুলো মাদক সংক্রান্ত আইনের আওতায় মামলার প্রস্ততি চলছে বলে র্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে।



