আনোয়ারা প্রতিনিধি
যদি উন্নয়ন চান তাহলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করুন । তাদের পুলিশে ধরিয়ে দিন। আমি সব ধরণের সহযোগিতা করে যাব।শনিবার বিকালে উপজেলার রায়পুরে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজার হাজার জনতার উদ্দেশে আনোয়ারার জনপ্রতিনিধি ভুমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এসব কথা বলেন।
গত এক বছর ৫০০কোটি টাকারও বেশী ইয়াবা খালাসের সংবাদ ছাপনো হয়েছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। আনোয়ারায় ইয়াবার ভয়াবহ বিস্তার ঘটে সম্প্রতি। প্রশাসনের নানা পদক্ষেপেও ইয়াবা কারবার বন্ধ হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাবশালী কারো কারো ইয়াবা কারবারে সম্পৃক্ততার কারণে ভয়াবহতা রোধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে বার বার। এই প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী আজ শনিবার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া হাজীর পাড়া সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াবা চোরাই কারবারীদের প্রতি কড়া হুসিয়ারী দেন। পরে একই ইউনিয়নে বিকালে গাজী ফুটবল টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠানেও ইয়াবা পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের ইঙ্গিত করে সুস্পষ্ঠ বক্তব্য রাখেন। উপস্হিত শান্তিপ্রিয় জনগণ তাঁর কথায় খুশী হন ও অনেকে মন্ত্রীর জন্য দোয়াও করেন।এদিকে এই অনুষ্ঠান দুটোতে স্হানীয় সাধারণ মানুষের নিশ্চিত চিহ্ণিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের উপস্হিতি দেখে নানান কানাগুষা শুরু হয়। অনেকে বলছেন, মন্ত্রী জানেন না ওরা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। আবার বিরুদ্ধবাদীরা বলেছেন, মন্ত্রী সবই জানেন এইসব আই -ওয়াশা মাত্র।আমাদের ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে লক্ষ্য করেছেন বেশ কয়েকজন ইয়াবা সিণ্ডিকেটের সদস্য ও দুশতাধিক পাচারকারী এ অনুষ্ঠানেই ছিলেন।সরকারী গোয়েন্দা সংস্হার তালিকায় এসবের নামদাম রয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় চাইলে এসবের নামদাম সংগ্রহ করে এদেরকে দলে অবস্হান শুন্য করে দিয়ে দলের ও মন্ত্রীর প্রতি ভাবমূর্তি উজ্জল ও গ্রহনযোগ্যদের ঠেনে এনে দলকে মজবুত করা কঠিন কিছু নয়।বিষয়টি নিয় মন্ত্রীর দৃষ্ঠি আকর্ষণের জন্য সাংবাদিকদের কাছে অনেকে পরামর্শও দিয়েছেন।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শীঘ্রই ২ শত ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধের উন্নয়ন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জনগণ নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে।
সড়ক উদ্বোধন শেষে ফুটবল টুর্ণামেন্টের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের, কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যদি নিজেদের ভালো চান এই কুকর্ম ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। নতুবা কারো পরিনাম ভালো হবে না। এর কঠিন ফল ভোগ করতে হবে। এ সময় স্থানীয় কয়েক হাজার জনতা মন্ত্রীর সাথে ইয়াবা ব্যবসা প্রতিরোধে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, নির্ভয়ে কাজ করুন, আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ সব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম, চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুম শাহ প্রমূখ উপস্হিত ছিলেন।


