জানুয়ারি ২৩, ২০২২ ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

পোশকের আড়ালে চলছে এএসআই পলাশের মাদক ব্যবসা

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কর্নহার থানার পুলিশের পোশাক ব্যবহার করেই গড়ে তুলেছেন মাদকের সিন্ডিকেট। এমনই অভিযোগ উঠেছে এএসআই পলাশের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক সেবনেরও অভিযোগ। মুঠোফোনেই চলে রমরমা মাদক কারবার। অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের মতো মহান পেশার আড়ালে রমরমা মাদক বাণিজ্য করে আসছেন মহানগর ডিবির সাবেক এএসআই ও বর্তমানে কর্ণহার থানায় কর্মরত এএসআই পলাশ। তিনি নিজে মাদকসেবী হওয়ার কারণেই রয়েছে মাদককারবারি চক্রের সাথে পূর্ব সখ্যতা, সাথে পুলিশের পোশাক। সেজন্য ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে উঠতে বেগ পেতে হয়নি তাকে। দীর্ঘদিন থেকে এমন অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অডিও ক্লিপ সাংবাদিকদের হাতে এলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়। এই এএসআই পলাশ গত ৯ মাস আগে কর্ণহার থানায় যোগদানের আগে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। গোয়েন্দা শাখায় থাকাকালীন বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ইয়াবা, হেরোইন ও ফেনসিডিল ব্যবসায় নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন তিনি। পুলিশের পোশাককে ঢাল করে দির্ঘদিন এমন মাদক ব্যবসা পরিবচালনা করে এলেও তার বিষয়ে সবই ছিল অজানা। তার মুঠোফোনের মাধ্যমে মাদক বেচা-কেনার একাধিক অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। সে রেকর্ডে পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে মাদক বেচা-কেনা আর টাকা লেনদেনের কথা। অডিও রেকর্ড শুনে জানা যায়, বর্তমানে আরএমপির কর্ণহার থানায় কর্মরত এএসআই পলাশ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে ১০০/২০০/৫০০ পিচ ইয়াবার নিচে ব্যবসা করেন না। এমনকি মাদক বিক্রির টাকা খুব বেশিদিন বাকিও রাখেন না এএসআই পলাশ। জানা যায়, গত ৯ মাস আগে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন পলাশ। সে সময় গোয়েন্দা শাখার চৌকস ও সাহসী পুলিশ সদস্যদের সাথে বিভিন্ন মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতেন এএসআই পলাশ। পরে তাদের সাথে মাদক সেবনের মাধ্যমে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে শুরু করেন মাদক ব্যবসা, যা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। মাদকের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে কর্ণহার থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার আলী তুহীন বলেন, পুলিশ জনগণের সেবক। জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত থাকে, তারাই যদি মাদক গ্রহণ করে বা মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে জনগণ তার কাঙ্খিত সেবা পাবে না। এটা গুরুতর অপরাধ। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কোনো ব্যক্তির দায় পুরো পুলিশ বাহিনী নেবে না। মাদকের ব্যাপারে সব সময়ই আমাদের জিরো টলারেন্স। সেটা সবার জন্য সমান। এ বিষয়ে আরএমপি অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুহুল কুদ্দুস বলেন, মাদকের বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। যদি মাদকের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে তনন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply