বাংলাদেশ, শনিবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্কুলের সব শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে স্কুলের সব শ্রেণিতে পরীক্ষার বদলে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১০ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে লটারির মাধ্যমে ভর্তির আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়াটির বিস্তারিত জানানো হবে। গতকাল বুধবার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক সময় স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হলে স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা যাবে। লটারিতে ভর্তির সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে তিনটি বিকল্প ছিল। এক, শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে, এমন পরিস্থিতিতে সেই ঝুঁকি আমরা নিতে চাই না। অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার একটি অপশন ছিল। কিন্তু অনেকের অনলাইন ব্যবহারের সুবিধা বা সুযোগ নেই বলে সেটিও গ্রহণ করা হয়নি। প্রতি বছর প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হয়ে থাকে। তবে এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সব শ্রেণিতেই পরীক্ষার বদলে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হবে। তিনি জানান, আবেদনের পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে হবে।

ঢাকা মহানগরীতে স্থানীয় কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তির (ক্যাচমেন্ট কোটা) সুযোগ আগের ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একেকজন শিক্ষার্থী একেক ক্লাস্টারে পছন্দক্রম হিসেবে পাঁচটি স্কুলের তালিকা দিতে পারবে। আগে প্রতিবছর প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো।

পেছাতে পারে এসএসসি ও এইচএসসি

আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যেহেতু করোনা পরিস্থিতির কারণে গত এক বছর শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে গেছে, এ জন্য তিন মাসের একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হলে এ সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা হয়তো হবে না। দুই-এক মাস হয়তো পেছাবে। এর মধ্যে তিন মাসে যতটুকু পড়ানো হবে ততটুকু নিয়েই পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিবছর পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমান এবং পহেলা এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয়ে আসছে। এবার এসএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া গেলেও করোনার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এসএসসির ৭৫ শতাংশ ও জেএসসির ২৫ শতাংশ নিয়েই এইচএসসির ফল

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির ফল ৭৫ শতাংশ এবং জেএসসির ২৫ শতাংশ গুরুত্ব দিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করা হবে। এই আলোকেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে সব পরীক্ষার্থীকে পাস ঘোষণা করা হয়েছে। এসএসসি-সমমান এবং জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলের মাধ্যমে গ্রেড নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য আমরা একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করি। তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে আমাদের কাছে একটি গ্রেড নির্ণয়ের জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। যারা ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল তাদের ফলাফল কীভাবে দেওয়া হবে—সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদেরও আগের পরীক্ষার ফলের ওপর মূল্যায়ন করে নম্বর দেওয়া হবে। সম্মেলনে জানানো হয়, করোনার কারণে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা বাতিল করা হলেও শিক্ষার্থীদের সনদ দেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো।সবটুকু খবর পড়তে ক্লীক করুন

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply