বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লামায় ৪ সন্তানের জননী ধর্ষিত

 

লামা সংবাদদাতা : ২৯ অক্টোবর
গত চার বছর আগে আলীকদম উপজেলার রেপাড়পাড়া গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষনে ব্যার্থ হয়ে খুন করেছিল কে বা কারা।ধারণা করা হয়েছিল খুনিদেরকে চিনে ফেলায় ভিকটিম খুন হয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতংক বিরাজ করছিল। তখন থেকে ঘরে একা থাকা নারীরা চরম আশঙ্খায় রাত কাটাতে হয়।
এসব বিষয়ে সমাজ-পরিবার যেভাবে সজাগ-সতর্ক থাকার দরকার; তা হচ্ছেনা।সমাজে শিশু-কিশোররা নৈতিক-চারিত্রিকভাবে চরম অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হচ্ছে। কারণ মোবাইল সেটে এবং এলাকার হাঠ-বাজারের দোকানগুলোতে যৌন উত্তেজক ফ্লিম দেখে শিশু-কিশোরসহ যে কোন বয়সের মানুষ। আর এসব দেখে শিশু-কিশোররা যৌন কৌতুহল মেটানোর যেনতেন উপায় বেছে নেয়ার চেষ্টা করে। শিশু-কিশোর ছাড়াও পরিনত বয়সের অনেকের ভেতর শয়তানি প্রবৃদ্ধি জেগে উঠে।
এর ফলে সমাজে কিশোর-কিশোরীসহ বয়:বৃদ্ধ নারীরাও বিকৃত যৌন লাসার শিকার হন। যা বর্তমান দৃশ্যপটে সর্ব মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।বিশেষ করে বয়স সন্ধিলগ্নে উপনীত কিশোররা এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। যৌন উম্মাদনায়মত্ত এসব বখাটেদের কাছে সম্পর্কের পবিত্রতাটুকুও নিরাপদ নয়। সুতরাং পারিবারিক-সামাজিক এবং স্ব-স্ব ধর্মীয় অনুভূতি লালন করে প্রত্যেককে এই ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে হবে।
সম্প্রতি লামার সমাজ পরিমন্ডলেও এর বিরুপ প্রতিচ্ছায়া পড়তে শুরু করেছে। এর সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে লামায় ৪ সন্তানের জননীকে ঘুমন্তবস্থায় মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেছে কতিপয় কিশোর গ্যাং। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার রুপসিপাড়া ১ নং ওয়ার্ড পশ্চিম শীলের তুয়া নয়াপাড়া গ্রামে প্রাণের ভয় দেখিয়ে চাচা ভাতিজা দু’ কিশোর মিলে ধর্ষণ করেছে (৪ সন্তানের জননী) এক গৃহবধুকে। ধর্ষিতা ওই গৃহ বধু আদালতের স্বরণাপন্ন হবে বলে জানালেও এখনো কোন লিখিত অভিযোগ করেননি কোথাও। প্রায় একমাস আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সামাজিকভাবে সুরাহার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান ধর্ষিতাসহ স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধর্ষক কিশোর মোতালেব (১৮) ধর্ষিতার প্রতিবেশি হানিফ মিয়ার ছেলে। ২৮ অক্টোবর বিকেলে ধর্ষিতা সাংবাদিকদেরকে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তারিখ বলতে পারেননি। তবে ঘটনার দিন সোমবার ছিল (সম্ভবত ২৮ সেপ্টেম্বর) হবে বলে সে জানান। ওইদিন গভীর রাতে দু’কিশোর-মোতালেব ও জুয়েল ঘরে ঢুকে তাকে ঘুমন্তবস্থায় মুখ বেঁধে ধর্ষন করে ।  সে ইজ্জত রক্ষার চেষ্টা করলে ওই সময় ধর্ষকরা দা ও ছুরি দিয়ে তাকে এবং তার ঘুমন্ত সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকী দিলে মহিলাটি নিথর হয়ে যায়।
এই ঘটনায় হতবিহবল ধর্ষিতা লোক লজ্জায় কাউকে কিছু জানাননি। পরদিন রাতে আবারো মহিলার ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করে কিশোর মোতালেব গ্যাং । রাত ১২-২৫ মিনিটে ঘরের দরজায় কারোর আগমন টের পেয়ে মহিলা দা হাতে উঁৎপেতে ছিল। বাহির থেকে হাত দিয়ে ভিতরের দরজার লক খোলার সময় মহিলা দা দিয়ে কোপ দেয়। সাথে সাথে মাগো বলে চিৎকার দিয়ে মোতালেব দৌঁড়ে পালায় ; ওই সময় আরো তিন চারজনকে দৌঁড়ে পালাতে দেখে মহিলা।
ভিকটিম পরদিন সকালে বিষয়টি প্রতিবেশিদের নিকট সবিস্তার র্বণনা করেন। তার বর্ণনা মতে পাড়ার লোকজন দা’এর কোপের আঘাতের চিহ্ন ধরে ধর্ষককে চিহ্নিত করে। মহিলার স্বামী দিন মজুর দেলোয়ার হোসেন কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় শ্রমিকের কাজ করেন। সে জানায়, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার চাপ প্রয়োগসহ বর্তমানে তাকে নানান ধরণের হুমকী দিচ্ছে ধর্ষকের পরিবার।
এ ব্যাপারে লামা থানার ওসির নিকট অভিযোগ না হওয়ায় তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মার্মাও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ নেবেন। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আবু তাহেরসহ গ্রামের অনেকেই এ ঘটনার সত্যতা রয়েছে বলে জানান।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply