বাংলাদেশ, রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা (২২৮) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে

 

মাননীয়,

   বঙ্গকন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে,

শ্রদ্ধেয় হাসিনা আপনারে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া বৈশ্বিক করোনাকালে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করিয়া নানান কল্যাণকর কর্মসুচী ও দেশের ভবিষ্যত হরেক রকম চিন্তা করিয়া দিনাতিপাত করিতেছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেলবারে  আপনারই মনোনিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।  ইতিপূর্বে যতবারই আপনার সমীপে গরম কথা লিখিয়াছি ততবারই মানুষের কল্যাণ হইয়াছে বলিয়া শুনিয়াছি।

হাসিনা আপনারে,

আপনি এই দেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় কন্যা। বিশ্বের ক্ষমতাশালী নারী নেত্রী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় ও আন্তর্জাতিভাবে বহু উপাধি ও পুরস্কারে ভূষিত অনন্য ব্যাক্তিত্ব আপনি। আপনার তুলনা শুধু আপনিই। ইন্দিরা গান্ধী, বেনজির ভুট্টো ইহাদের জনপ্রিয়তার চেয়েও আপনি পৃথিবী জুড়িয়া আলোচিত নারী নেত্রী। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিবার পর গোটা দুনিয়ার মানুষ আপনাকে ‘মানবতার মা’ বলিয়া ডাকিয়া থাকে। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া, খাবার সহ অন্যান্য বিষয়ে যোগান দেয়া এইসব দুঃসাহসিক কাজ গোটা দুনিয়াতে আর কেউ পারিবে বলিয়া মনে হইতেছে না। তাহা ছাড়া বৈশ্বিক করোনাকালে দেশবাসীকে সাহস দিয়া আস্তে আস্তে করোনা পূর্বকালে ফিরিয়া আনিবার জন্য আপনার প্রাণপন প্রচেস্টা দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর গভীর অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে দেখিতেছে। এই সবের পর বঙ্গবন্ধু টানেল, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ যথা নিয়মে চলিতেছে দেখিয়া আপনার প্রতি জনগণের আস্থা দিন দিন বাড়িতেছে। এই আস্থা আজীবন ধরিয়া রাখতে হইবে বলিয়া আপনার শুভাকাঙ্খীরা বলিতেছে।

আপারে,

জিকে শামীম, পাপিয়া, সাহেদ করিম ও ওসি প্রদীপকেও লইয়া গোটা দেশ জুড়িয়া গুজবের ফানুস উড়িতেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী প্রধানকে একসাথে কক্সবাজারে পাঠাইয়া উচিত কাজ করিয়াছেন বলিয়া আওয়ামী প্রেমী বুদ্ধিজীবিরা বলিতেছে। তাহারা বলিতেছে, প্রদীপ কান্ড লইয়া সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করিবার আর কাহারও সুযোগ রহিল না। নইলে, বিএনপিসহ অন্যান্য রজনৈতিক দলগুলো নানান কথা বলিয়া চিল্লাচিল্লি করিত। ফলে আমাদের দেশের কম ও অল্পশিক্ষিত জনগণ গুজবে পড়িয়া কুলকিনারা পাইত না। তখন টানেল ও সেতুর জন্য মানুষের মাথা লাগিবে এইরকম কিংবা ‘লবন গুজব’ এর কাণ্ড শুরু হইয়া যাইত।

আপারে,

দলে সাংগঠনিক কমিটিগুলোতে এইসব লোকগুলো কেন? হাইব্রীড, দুই নম্বরী ব্যবসায়ী, ইয়াবা পাচারকারী এই জাতীয় লোকগুলো কিভাবে দলের কমিটির পদ-পদবী পায়? আগে জাতীয়, জামাত, ইসলামী ফ্রন্ট কিংবা বিএনপি সাপোর্ট করিত এমন মানুষগুলো কীভাবে আওয়ামী লীগের মূল কমিটিতে ‘ইন’ হয়? খন্দকার মোশতাকের আগে পাশের লোকগুলোও এখন আপনার আওয়ামী লীগের কমিটিতে ঢুকিয়া পড়িয়াছে। শুনিতেছি, এই মাসে সারাদেশে শুদ্ধি অভিযান চালাইবেন। এই অভিযানে ছাত্র জীবনে যারা ছাত্র রাজনীতি করিত, যুবক জীবনে যুবলীগ এমন ব্যক্তিদের খুঁজিয়া সাংগঠনিক কমিটিতে ‘ইন’ করুন। চট্টগ্রামের  কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরীকে লইয়া ত্যাগী ও বঙ্গবন্ধু প্রেমিক আওয়ামী লীগের লোকেরাও নানান কথা বলিতেছে।শুনিয়াছি, খন্দকার মোসতাকের এপিএসের জিয়ের জামাই কর্ণফুলী উপজেলা ফারুক চৌধুরী বলিয়া নানান কানাগুষা চলিতেছে।

 আপারে

বহু কমিটিতে এক ব্যক্তি, স্থানীয় ইউপি/উপজেলা চেয়ারম্যান, আবার থানা কিংবা জেলা কমিটিতেও রহিয়াছে। এক ব্যক্তির এত পদ কেন? দলীয় চেয়ারম্যান হইলে থানা কিংবা ইউনিয়ন বা জেলা কমিটিতে আর কি দরকার আছে? এইভাবে থানা/জেলা কমিটির দায়িত্ব থাকিলে ইউপি/উপজেলা চেয়ারম্যান হইবার প্রয়োজন আছে বলিয়া অভিজ্ঞ লোকেরা মনে করিতেছে না। এক ব্যক্তির এক পদ হইলে অনেক ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করিতে পারিবেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করিয়া আপনি নির্দেশ দিলে অনেক ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হইবে এবং আওয়ামী লীগ তৃণমূল থেকে আরো মজবুত হইবে।

টাকা দিয়া কিছু কিছু এলাকায় পদ বিক্রি করিয়াছে আপনার দলের এমপিরা । ত্যাগী নেতারা টাকা পাইবৈ কোথায় ? ফলে অবৈধ ব্যবসায়ী ও হাইব্রীডরা টাকা দিয়া পদ কিনিয়া এখন বড় নেতা ! ফলে আওয়ামী লীগ ঘাটে ঘাটে নেতৃত্ব শুন্য হইতেছে।এমনো খবর পাইতেছি, তিনি আগে ছিলেন বিএনপির সভাপতি এখন টাকা দিয়া হইলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি। টাকার পরিমাণ কত কীভাবে দিয়াছে এইসব খবর আপনার তৃণমূল কর্মীরা বুঝিতে না পারিলেও দলবদল কাহিনী ঠিকই বুঝিতে পারিতেছে।বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগ কর্মীদের যাহারা লাঞ্চিত করিয়াছে তাহারা এখন হাইব্রীড আওয়ামী লীগ সভাপতি।ত্যাগী ও অরজিনাল আওয়ামী লীগ কর্মীরা এইসব তালবাহানা দেখিয়া আহাজারী করিতেছে। তাহাদের সান্তনা দিবার,দলে ধরিয়া রাখিবার, তাহাদের পাশে থাকিবার এখন আপনি ছাড়া আর কেউ নাই বলিয়া তাহারা বিশ্বাস করিতেছে।

আজ আর না। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায়, ইতি আপনারই

গ্রাম বাংলা অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া

গ্রন্হনা:ম আ হ

আগামী সংখ্যায় চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার সালেহ মো. তানভীর সমীপে ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা(২২৯) সম্প্রচার করা হইবে।

                                                    

 

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply