বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীতে শ্রীপুর দেবোত্তর স্টেইটের নামে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজী : সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব

 আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ 

উদ্দেশ্যমূলক অসত্য ও ভূল তথ্য দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে নন জুডিসিয়াল স্টাম্পে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে বেআইনীভাবে হাটবাজার,বালিপাথর মহাল ও নৌকাঘাট ইজারা দিয়ে নতুন নতুন চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট গঠন করে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেট এর স্বঘোষিত প্রধান সেবাইত রাজন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। উক্ত রাজন চৌধুরীর সহযোগীতায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীতে শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেট এর নামে বেপরোয়াভাবে চাঁদা উত্তোলন করে যাচ্ছে স্থানীয় ঘাগরা গ্রামের আব্দুল বারিকের পুত্র আফজাল হোসাইন ও সোহালা গ্রামের আব্দুল মজিদ এর পুত্র মানিক সহ একদল চিহ্নিত চাঁদাবাজ। নদীতে বালিপাথর উত্তোলনে নিয়োজিত বারকী শ্রমিক,নৌকা,ইঞ্জিন নৌকা,বলগেড মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বকভাবে ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা হারে প্রকাশ্য দিবালোকেই নগদ চাঁদা উত্তোলন করছে তারা। চাঁদা আদায়ের অজুহাত হিসেবে তারা ব্যবহার করছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সাবেক উপ- পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনের ১৪/৬/২০২০ইং তারিখের একটি সরকারী পত্রকে। জানতে চাইলে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন,বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমি কোন বালিপাথর মহাল বা নৌকাঘাট কাউকে ইজারা দেইনি। আমি যতদুর জানি শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেইট এর সেবাইত রাজন চৌধুরী ও তার ইজারাদার আফজাল হোসাইন গং উচ্চ আদালতের আদেশ সহকারে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালকের কাছ থেকে একটি লিখিত অফিস আদেশ নিয়ে শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেট এর নামে নদীতে বৈধভাবে টোল ট্যাক্স আদায় করছে। চাঁদা উত্তোলনকারী আফজাল হোসাইন বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের সিভিল রোল নং ২৭৯/২০১৭ এফ.এম ও ৭৯৯/২০১৯ নং ভায়োলেশন এফ.এম মামলা বলে তাহিরপুর উপজেলার ঘাগরা থেকে লাউড়ের গড় পর্যন্ত বালুপাথর ও অন্যান্য মালামাল উঠানামা সংক্রান্ত নৌকাঘাট বা মহালে সরকারের বিরুদ্ধে এবং শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেট এর পক্ষে আদেশ হয়। চলতি বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় নৌকাঘাটসহ মহালটি ক্যালেন্ডার করতে গেলে বিজ্ঞ আদালতের ২৫/২/২০২০ইং তারিখের সর্বশেষ আদেশে উক্ত ক্যালেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং স্থগিতাদেশ এখনও বলবৎ আছে। তৎপ্রেক্ষিতে গত ৯/৬/২০২০ইং জেলা প্রশাসক বরাবরে শ্রীপুর দেবোত্তর স্টেইট এর প্রধান সেবাইত রাজন চৌধুরী আবেদন করলে উক্ত আবেদন প্রেক্ষিতে গত ১৪/৬/২০২০ইং স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক,তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে উচ্চ আদালতের আদেশ মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ মোতাবেক খাস কালেকশন বন্ধ করে দেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। ফলে আমরা   আইনগতভাবেই আমাদের মহালে ও নৌকাঘাটে টোল/ট্যাক্স আদায় করে যাচ্ছি। আফজাল বলেন,আমি শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেট এর প্রধান সেবাইত রাজন চৌধুরীর কাছ থেকে চলতি ১৪২৭ বাংলার ১লা বৈশাখ থেকে আগামী ৩০ চৈত্র পর্যন্ত উপজেলার ঘাগরা থেকে লাউড়ের গড় পর্যন্ত বালুপাথর ও অন্যান্য মালামাল উঠানামা সংক্রান্ত নৌকাঘাট মহাল যথারীতি ইজারা নিয়ে বৈধভাবে টোল/ট্যাক্স আদায় করে যাচ্ছি। শ্রীপুর দেবোত্তর স্টেইট এর প্রধান সেবাইত ও তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর গ্রামের (বর্তমানে শহরের উকিলপাড়া আবাসিক এলাকার) বাসিন্দা মৃত কালিকিংকর চৌধুরীর পুত্র রাজন চৌধুরী বলেন,তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজার,শ্রীপুর বাজার,যাদুকাটা নদী ও ফেরীঘাট এগুলো সরকার বা জেলা প্রশাসন কিংবা জেলা পরিষদের সম্পত্তি নহে।এগুলো শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেট এর সম্পত্তি হিসেবে আমরা একাধিক আদালতে রায় পেয়েছি এবং সরকারকে বারবার নিষেধ করা হয়েছে এসব সম্পত্তি ক্যালেন্ডার করা বা ইজারা দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য। তারপরও প্রশাসন অন্যায়ভাবে আমাদের সম্পত্তি ভোগদখলে আমাদেরকে প্রায়ই ডিস্টার্ব করে। এখন আমাদেরকে বাঁধা দেওয়ার আর কোন পথ নেই তাদের। তাই আমাদের মহাল আমরাই ভোগদখলে আছি। তিনি ফাজিলপুর বালিপাথর মহালে অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলনকারী এটিএম হায়দার বখত রমিন,আজাদ হোসেন ও তাদের বাহিনীকেও অবিলম্বে উচ্ছেদ করার দাবী জানান। পাশাপাশি শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেইট এর পক্ষে তার নিয়োজিত ইজারাদার আফজাল হোসাইনকে মহাল ভোগদখলে সহযোগীতা করার আহবাণ জানান।
বাদাঘাট ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকবৃন্দ বলেন, কোনপ্রকার রশিদ ছাড়াই চাঁদা আদায় করছে ইউপি চেয়ারম্যানের মোটর সাইকেল চালক আফজাল হোসাইন ও মানিকসহ তাদের সহযোগীরা। তারা সোহালা,পাটানপাড়া,কোনাট ছড়া,ঘাগরা,নোয়াগাঁও ও জিরো পয়েন্টে গিয়ে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা আদায়কৃত কোন স্থানেই তাদের কোন সাইনবোর্ড নেই। তারা যদি বৈধ ইজারাদার হতো বা আদালত যদি তাদেরকে কোন মহাল বা নৌকাঘাটের মালিক বলে ঘোষণা দিতো তাহলে জেলা বা উপজেলা প্রশাসন বৈধভাবে তাদেরকে দখল সমজিয়ে দিতো। কিন্তু আমরা চাঁদা উত্তোলনকারী আফজাল হোসাইন ও মানিককে কোন মহাল বা ঘাট সরকার কর্তৃক সমজিয়ে দিতে দেখিনি। তাই তাদের প্রক্রিয়াটার পুরোটাই চাঁদাবাজী। তারা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ- পরিচালক এমরান হোসেন মহোদয়ের পত্রে বর্ণিত অর্ডার পাস করা হয়েছে
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। এইপত্রে বিধি মোতাবেক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হয়েছে। কাউকে যাদুকাটা নদীতে বা কোন নৌকাঘাটে চাঁদা উত্তোলন করতে বলা হয়নি। যারা অবৈধভাবে যাদুকাটা নদীতে চাঁদা আদায় করছে,তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীজানান যাদুকাটা নদীর তীরবর্তি বাসিন্দারা। তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান বলেন,শ্রীপুর
দেবোত্তর এস্টেট বা আফজাল হোসাইনগং যদি কোন মহাল অথবা নৌকাঘাট এর ইজারাদার বা মালিক হতো তাহলে উপজেলা প্রশাসন,অবশ্যই পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় তাদেরকে ঘাট মহাল ভোগদখলের জন্য দখল সমজিয়ে দিতেন। কিন্তুএদেরকে প্রশাসন কোন ঘাট বা মহাল সমজিয়ে দেয়নি। তিনি আরো বলেন,স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন মহোদয়ের পত্রে বর্ণিত অর্ডার পাস করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। এইপত্রে বিধি মোতাবেক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হয়েছে। কাউকে যাদুকাটা নদীতে বা কোন নৌকাঘাটে চাঁদা উত্তোলন করতে বলা হয়নি। যারা অবৈধভাবে যাদুকাটা নদীতে চাঁদা আদায় করছে,তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সদ্য যোগদানকারী তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন,উপজেলা প্রশাসন যদি কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কোন মহাল অথবা নৌকাঘাট ইজারা দেয় তাহলে তাদেরকে দখল পজিশন সমজিয়ে দেয়। যেহেতু আমাদের সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার যিনি
আমার আগে তাহিরপুরে ছিলেন তিনি কাউকে কোন মহাল বা নৌকাঘাট ইজারা দেননি বা দখল পজিশন সমজিয়ে দেননি সেহেতু আজকে যারা শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেইট এর নামে নদীতে বা ঘাটে টাকা আদায় করছেন তারা সেটা বেআইনী প্রক্রিয়ায় চাঁদাবাজীই করছেন। আমি কালকের মধ্যেই বিস্তারিত খবর নিয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের চেষ্টা করবো। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন,বর্তমানে চলতি বছরে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়,ফাজিলপুর বালিপাথর মহাল কাউকে ইজারা দেয়নি। বর্তমানেও ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তারপরও যদি কোন অবৈধ ব্যক্তি,গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান এই মহালে রয়েলিটি বা টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজী করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার শাখার বর্তমান উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন,রাজন চৌধুরী অনেকবার ডিসি সাহেব ও আমার কাছে এসেছেন।
আমি তাকে বলে দিয়েছি তিনি যদি কোন অর্ডার আনতে পারেন তাহলে একটি নদী বা ২টি বাজার কেন পুরো তাহিরপুরের দখল আমরা তাকে সমজিয়ে দেবো।
আমরা মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছি। আমরা যাদুকাটা নদীতে বা নৌকাঘাট ইত্যাদি ক্যালেন্ডার করিনি ইজারাও দেইনি। তাই নদীতে বা নৌকাঘাটে এমনকি বালিপাথর মহালে সকল কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। সাবেক ডিডিএলজির পত্রের নির্দেশও তাই। এখন সরকারী পত্রের আদেশের ভূল ব্যাখ্যা করে শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেইট এর নামে কেউ যদি চাঁদা উত্তোলন করে তার জন্য তারাই দায়ী হবে এবং তারা যেই হউক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে তাহিরপুর উপজেলার সচেতন নাগরিক দাবী করেন,শ্রীশ্রী কালীকিঙ্কর দেবোত্বর স্টেট প্রকাশিত শ্রীপুর দেবোত্বর এস্টেট হচ্ছে শুধুমাত্র নামসর্বস্ব রেজিঃ সেবাইত প্রতিষ্টান। বাস্তবে এর কোন অস্তিত্বই নেই। এমনকি সাম্প্রতিক জরীপ ও এসএ রেকর্ডে কোন বালুমহাল,নৌকাঘাট বা হাটবাজার এই প্রতিষ্ঠানের নামে লিপিবদ্ধ হয়নি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্টানটি প্রভাবশালীদের দ্বারা সরকারি সম্পত্তি হরিলুটের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাহিরপুর থানার বিভিন্ন হাটবাজার,নৌকাঘাট,জলমহাল ও বালু মহাল এর সরকারি ইজারা বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে একজন ইজারাদার বানিয়ে কখনও উচ্চ আদালতে কখনো নিম্ন আদালতে মামলা করে স্থগিতাদেশ গ্রহন করে নেন এর সেবাইত রাজন চৌধুরী। উক্ত স্থগিতাদেশের বলেই প্রভাবশালী মহলরা বেআইনী চাঁদাবাজি করে সর্বত্র। অনেকগুলো মামলার রায়ে চুড়ান্ত শুনানীতে বর্ণিত দেবোত্তর এস্টেট এর কথিত সেবাইত পরাজিত হয়েছেন। উচ্চ আদালত তাদেরকে স্বত্ব মামলা করার আদেশ দিয়ে স্বত্ব প্রমান করার নির্দেশ দিলে একটি স্বত্ব মোকদ্দমা করেছেন তারা। কিন্তু বছরের পর বছর যায় এই স্বত্ব মামলা শুনানী করা হয়না। যখনি সরকার বাহাদুর তাদেরদাবীকৃত হাটবাজার,বালি পাথর মহাল ও নৌকাঘাট ইজারা ঘোষনা করেন,তখনি স্বত্ব মোকদ্দমার দোহাই দিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা টুকে দেন তিনি। আর এইভাবেই চলছে দীর্ঘদিন যাবত তাদের লুঠেরা বানিজ্য। ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। তাহিরপুর উপজেলায় চাঁদাবাজির এক স্বর্গরাজ্যে গড়ে তুলেছেন তিনি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি নিয়ে সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সফিউল আলম সরেজমিন তদন্ত করে শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেট এর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করেছিলেন। জেলা প্রশাসনের উচিৎ চাঁদাবাজী বন্ধ ও সরকারের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে অবিলম্বে সকল চাঁদাবাজদেরকে আটক করার পাশাপাশি নৌকাঘাট,বালিপাথর মহাল ও হাটবাজারগুলো ইজারা প্রদান কিংবা খাস কালেকশনের ব্যবস্থা গ্রহনসহ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply