বাংলাদেশ, শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এই প্রথম দেশের ইতিহাসে দৈনিক পত্রিকা বিহীন চট্টগ্রাম আজ

 চট্টগ্রামে আজ এক  বিরল  ঘটনা সৃষ্টি  হয়েছে সংবাদপত্র জগতের ইতিহাসে। ‘৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও নিয়মিত দৈনিক আজাদী পত্রিকা বের হতো।দেশজুড়ে এই পত্রিকার খ্যাতি ও সুনাম বিদ্যমান। এমনকি  ১৬ ডিসেম্বর ‘৭১ সালেও   ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’  শিরানামে এবং  ১৯৯১ সালে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের দিনও দৈনিক আজাদী পত্রিকা প্রকাশিত হয়।আজ ব্যতিক্রম হয়েছে দৈনিক আজাদীর ক্ষেত্রে।একযোগে আজ ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার আজাদী, পূর্বকোন,  পূর্বদেশ, চট্টগ্রাম মঞ্চ ও সুপ্রভাত  প্রকাশিত হয়নি। যা চট্টগ্রামে এক বিরল ইতিহাস।
 সুত্রমতে,  দীর্ঘদিন ধরে চলা  সাংবাদিক, সম্পাদক ও পত্রিকার মালিকদের মধ্যে নিরব আন্দোলনের ফলে এই  সিদ্ধান্ত নেয় প্রকাশকরা। সরকার ঘোষিত ওয়াজবোর্ড  বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম দৈনিক পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরা বিভিন্ন সময় চট্টগ্রামে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, মালিক ও প্রকাশকদের সাথে বেশ কয়েক বছর ধরে চলা আন্দোলনের ফলে চট্টগ্রামের দৈনিক পত্রিকাগুলোর এই দশা।  চট্টগ্রামের হঠাৎ দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত না হওয়ায় পাঠকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চলছে অভিজ্ঞ মহলের চুলছেড়া বিশ্লেষন। সকালে চট্টগ্রামের দৈনিক পত্রিকা না পাওয়ায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম জুড়ে পাঠকেরা হতাশ হয়েছে। প্রসংগত সাংবাদিকেরা দাবী বাস্তবায়ণের জন্য চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদকের বাসস্থান ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে সাংবাদিকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের সম্পাদক পরিষদের সিদ্ধান্তের পর পত্রিকা প্রকাশিত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
       চট্টগ্রামের দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত না হওয়ায় বিজ্ঞাপন দাতাদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের যারা হারানো বিজ্ঞপ্তি  , সং শোধন, হলফনামা বিজ্ঞাপন দিয়ে জরুরি কাজে ব্যবহার করে তাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের এই সময় বন্দর, কাস্টস, সিটি কর্পোরেশন দৈনিক বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছে। এই বিজ্ঞাপনের কারণে সরকারি-বেসরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে এই সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগরীতে ঈদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে। যা জনগণ অনুসরণ  করে থাকে । পত্রিকা প্রকাশিত  না হবার কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ জনগণ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার ভাষ্য , আমরা সরকারি নিয়ম নীতি মেনে সরকার ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্যে বিজ্ঞাপনের মূল্য পরিশোধ করে থাকি। কিন্তু আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক সাধারণ মানুষ যারা হারানো বিজ্ঞপ্তি  , সংশোধন, হলফনামা বিজ্ঞাপন দিয়েছে তারা বেশ বেকাদায় পড়েছে।
নিয়মিত পাঠকেরা কোন দৈনিক পত্রিকা না পেয়ে আজ চট্টগ্রামে এক প্রকার হা হুতাশ করেছে।হকারেরা হয়েছে বিব্রত ও ক্ষতির শিকার।পত্রিকার স্টল মালিকেরাও পাঠকদের সঠিক জবাব দিতে পারেনি।কবে, কখন আবার নিয়মিত চট্টগ্রামের মানুষ দৈনিক পত্রিকা পড়তে পারবে তা কেউ এই মুহূর্তে বলতে পারছে না।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply