বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০, ৩০ আষাঢ়, ১৪২৭

সংবাদ পর্যালোচনা: করোনায় চিকিৎসা কর্মি সুরক্ষা জরুরী জনসচেতনতা না বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে

খন্দকার মাহ্বুবুল আলম
গত ৮ মার্চ ২০২০ হতে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস তার অদৃশ্য থাবায় বাংলাদেশে কেড়ে নিল দেশের দেড় সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ। সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে এ পরিস্থিতির সামনের কাতারের যোদ্ধা ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, সাংবাদিক সহ সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন পেশার ও বয়সের মানুষ মৃত্যুর এই মিছিলে শামিল হচ্ছে দিন দিন। এক্ষেত্রে ডাক্তার-নার্সরা করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রোগীদের কাছাকাছিতে থাকলেও অনেকে সর্বোচ্ছ সতর্কতার অভাবে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু বরণও করেছে। চিকিৎসকদের এমন মৃত্যুর ঘটনা শুধু বাংলাদেশে কেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ঘটেছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে অনেক চিকিৎসা কর্মী করোনাক্রান্তে প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও এখন করোনা রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য ডাক্তারের প্রয়োজনেই বেশী। এ সময়ে চিকিৎসা কর্মি ও ডাক্তারদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক অনেক বেশী। চিকিৎসা কর্মিদের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব না দিলে তাদের বেলায় অনাকাঙ্কিত এমন মৃত্যু বৃদ্ধি পেতে থাকলে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ২ (দুই) হাজার ডাক্তার নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ও সরকার অতীতের তুলনায় বরাদ্ধ বেশী রেখেছে। যার পরিমান ১০ হাজার কোটি টাকা। যা ভূক্ত ভোগী জনেমনে আমার সঞ্চার সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ করেনা পরিস্তিতি ক্রমশ আরো খারোপের দিকে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ অভিমত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে পরিস্থিতির পিক টাইম এখনও শুরু হয়নি। কবে নাগাদ সংক্রমনের এই পিক শুরু হতে পারে তা নিযে পরিষ্কার কোন ধারণা এখনও পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা।

গত ডিসেম্বর, ২০১৯ এর শেষের দিকে চীনের উহান প্রদেশ থেকে শুরু হওয়া এই করোনা ভাইরাস বিশ্বের প্রায় দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম এর সংক্রমন ধরা পড়ে গত ৮ মার্চ, ২০২০ তারিখে। সংক্রমন ধরা পড়ার ১০ দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপর থেকে আক্রান্ত ব্যাক্তি শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মৃত্যুর হারও বাড়তে থাকে ঢেউয়ের তালে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত ছাব্বিশে মার্চ ২০২০ তারিখ হতে সাধারণ ছুটি নামীয় ‘লক ডাউন’ প্রক্রিয়া শুরু হলেও শুরু থেকেই তা আশানুরূপ ভাবে কার্যকর হতে দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে আমলে না নিয়ে যত্রতত্রভাবে কারনে – অকারণে গৃহের বাইরে বেরিয়ে পড়ে পরিস্থিতিকে ক্রমশ আরো জঠিল করে তুলে। এক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই ছিলনা যেমন, তেমনি অনেকে মুখে মাস্ক না পরে বাইরে চলাচল করতে থাকে। যতই মানুষ বেরিয়েছে সুরক্ষা বিহীন ততই আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্বারা সংক্রমন ঘটিয়েছে, তেমনি অন্যরাও সংক্রামিত হয়েছে। এভাবেই সামাজিক ভাবে সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পেয়ে আসছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ যাবৎ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৮৬ জন। এ সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে কত ডিজিটে গিযে পৌঁছে তা সময়ই বলে দেবে।

সরকার দেশের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে জীবন ও জীবিকাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পূর্বের ‘লক ডাউন’ প্রক্রিয়ায় শৈতীল্যতা এনে এলাকা ভিত্তিক লাল, হলুদ ও সবুজ রং চিহ্নিত জোন ভিত্তিক ‘লক ডাউন’ প্রক্রিয়ার পথে হাঁটছে। তবে এসব অঞ্চলে মানুষ তার সুরক্ষা বিধি মেনেই চলাচল করতে পারবে বলে সরকার তরফ থেকে জানানো হয়েছে যাতে মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটোই রক্ষা পায় সেই নীতি অবলম্বনেই সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে শনাক্ত বা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চলাচল থাকবে না। সুরক্ষা বিধি বা নিয়ম গুলো মানার ব্যাপারে জনগনকে আরো উদ্যোগী ও সচেতন করে না তুললে তারা নিজের ও অন্যের জন্য বিপদ বাড়িয়ে ফেলতে পারে বলে সচেতন মহলের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

পরিস্থিতির শুরুর তুলনায় মানুষ এখন খানিকটা সচেতন হলেও আবার অনেকের মধ্যে সচেতনতার পূর্নাঙ্গ মাত্রা এখনও অনুপস্থিত। এ ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরো জঠিল হতে পারে।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply