বাংলাদেশ, বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২৯ এপ্রিলের আধাঁর রাতের ভয়াবহ স্মৃতি উপকূলবাসীকে এখনো কাঁদায়

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত 'ভিটে আছে ঘর নেই' এই নীতির আওতায় আনোয়ারায় ঘর নির্মাণের উদ্দোগ গ্রহণে এই অঞ্চলের জননেতা ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের শুভদৃষ্টি কামনা করেছেন উপকূলবাসী

আরমান হোসেন,আনোয়ারা প্রতিনিধি

সময়টা ছিল ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল। এদিনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে হানা দিয়েছিল।এতে,  প্রায় ১লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ নিহত এবং ১কোটি মানুষ সর্বস্ব হারা হয়েছিল।স্মরণকালের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ৯১-এর এই ঘূর্ণিঝড় একটি। ‘৯১-এর এই ভয়াল ঘটনা এখনও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলবাসীকে। ঘটনার এত বছর পরও স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না সেই দুঃসহ দিনটি। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায় জলোচ্ছ্বাস আর ঘূর্ণিঝড়ের কথা মনে হলে। নিহতদের লাশ, স্বজন হারানোদের আর্তচিৎকার আর বিলাপ বার বার ফিরে আসে তাদের জীবনে।

১৯৯১ সালের এদিনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকুলীয় অঞ্চল আনোয়ারাও লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এই দিনটির কথা আজও ভুলেনি আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন  গ্রামের মানুষ। দুঃখের বিষয় হলো এই এলাকায় এখনো সম্পন্ন হয়নি বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ।কয়দিন আগেও বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এছাড়া পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নেই আনোয়ারায়। ঘূর্ণিঝড় হানা দিলে উপকূলে বসবাসরত লোকজন আশ্রয় নেওয়ার জন্য ছুটে যান উপজেলার দূর-দূরান্তে। জীবন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হয় তাদের। ১৯৯১ সালে ২৯ এপ্রিল প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াল রাতে আনোয়ারার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।আজ স্বজনহারা বেদনা ও হতাশ হৃদয় নিয়ে তাদেরকে স্মরণ করতে হচ্ছে।আনোয়ারার মানুষের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগের বড়ই অভাব রয়েছে। চারপাশে বসবাস এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এলাকায় বাইরের অঞ্চলগুলিতে বাস করার জন্য সরকার ও এনজিওদের আরও কাজ করা উচিত। বর্তমান সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উন্নতির জন্য কাজ করছে। এটি দীর্ঘমেয়াদী এবং অব্যাহত থাকা উচিত। ২৯ এপ্রিলের সেই ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি বয়ে উপকূলীয় মানুষের কাছে দিনটি ফিরে আসে বার বার। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন।

‘৯১ সালের ক্ষতি এখনো পুষিয়ে উঠতে পারেনি অনেকে। ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে ঘরগুলো আর নির্মাণ করতে অনেকে পরিবার।শুধু রায়পুর ইউনিয়নে আজ অবদি আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে শতাধিক পরিবার ঘর নির্মাণ করতে পারেনি। ভিটে আছে ঘর নেই এমন পরিবার রয়েছে শতাধিক ।২৯ বছর অতিবাহিত হলেও ‘৯১এ ঘর হারা মানুষদের পূর্নবাসন হয়নি এখনো।প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ভিটে আছে ঘর নেই’ এই নীতির আওতায় আনোয়ারায় ঘর নির্মাণের উদ্দোগ গ্রহণে এই অঞ্চলের জননেতা ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের শুভদৃষ্টি কামনা করেছেন উপকূলবাসী।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply