বাংলাদেশ, সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ম্যানচেস্টার পাবলিক লাইব্রেরি প্রথমবারের মতো উদযাপন করেছে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। গত ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার ম্যানচেস্টার পাবলিক লাইব্রেরির হলরুমে দুপুর ২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে এ অনুষ্ঠান।কানেকটিকাটের প্রচুর সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেখানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে সফল করতে মার্কিনী বন্ধুদের সহযোগিতা করেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।
কানেকটিকাটের সাংস্কৃতিপ্রেমীরা বিভিন্নভাবে বিদেশী বন্ধুদের সামনে বাংলাদেশের শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। ম্যানচেস্টার অ্যাডাল্ট অ্যান্ড কন্টিন্যুয়িং এডুকেশনে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মি সানজিদা নীরা উক্ত অনুষ্ঠানটিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেতে বিদেশিদের সাথে কাজ করেছেন।
ম্যানচেস্টার অ্যাডাল্ট অ্যান্ড কন্টিন্যুয়িং এডুকেশন, ম্যানচেস্টার পাবলিক লাইব্রেরি, স্কুল রিডিনেস কাউন্সিল এবং ম্যানচেস্টারের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে অমর একুশের পটভূমিকায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। ড. সারাহ তাসনীমের সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন টু জেনারেশন ইএসএল কোলাব্রেটিভ টাস্ক ফোর্স এর কো চেয়ারম্যান রোলান্ড এক্সেলসন, লাইব্রেরিয়ান জেনিফার বার্টলেট, ডা. সাজ্জাদ আলি খান, ড. ফাহমীদ হায়দার, সানজিদা নীরা, হেমন্ত পালমা, ও নতুন প্রজন্মের নামিরা সৃষ্টি এবং পাপিয়া তরফদার। অনুষ্ঠানে ছিলো দেশাত্ববোধ ও মাতৃভাষা নিয়ে শিশু কিশোর ও বড়দের নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তি। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি পালনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন টু জেনারেশন ইএসএল কোলাব্রেটিভ টাস্ক ফোর্স এর কো চেয়ারম্যান রোলান্ড এক্সেলসন।
ম্যানচেস্টার পাবলিক লাইব্রেরি আয়োজিত অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এ অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি নাচ ও গানে অংশ নেন-শুদ্ধস্বর, সঙ্গীত একাডেমি, বিসিএসি গ্রুপ, আয়েশা দেওয়ান, বেলা চৌধুরী, রোকেয়া বেগম রেখা, কৌশলী ইমা, শান্তা নাগ, ফ্রান্সিস সরকার, লিটন গ্রেগরি, মার্ক হাওলাদার,ইম্মানুয়েল দত্ত, জলি বিশ্বাস, নিক্সন বিশ্বাস, আব্দুর রাজ্জাক রেজা, হারুন রশিদ, ফারহানা রশিদ, রেখা রোজারিও, কানন হাসান ও রুমানা আহমেদ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের শহীদ দিবস (২১শে ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক,জব্বার,শফিউল,সালাম,বরকত সহ অনেকেই। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।
১৯৯৮ সালে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরে বসবাসরত দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম প্রাথমিক উদ্যোক্তা হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে । ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসঙ্ঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে এখন থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে জাতিসংঘ। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে উত্থাপন করে বাংলাদেশ। মে মাসে ১১৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের তথ্যবিষয়ক কমিটিতে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply