বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পাল্টে যাওয়া কোতোয়ালী থানার নেপথ্য কারিগর ওসি মহসীন

 

এম.এন রায়হান চৌধুরী

নোংরা, স্যাতস্যাতে পরিবেশ আর দুর্গন্ধে পথচলা ছিল দায়। পথচারীদের মুখে থাকতো রুমাল আঁটা। সন্ধ্যার পরে ভূতুড়েও হয়ে উঠতো আশপাশের রাস্তা, হাঁটাচলায়ও অবলম্বন করতে হতো বিশেষ সাবধানতা। এমন দৃশ্য ছিল চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অব¯ি’ত কোতোয়ালী থানার। কিš‘ একজন ওসির যোগদানের পর থেকেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। থানায় সেবা দাতা ও গ্রহীতার মনস্তাত্তি¡ক উন্নয়নের জন্য থানার পরিবেশকে সকলের গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়েছে। পরিষ্কার-পরি”ছন্নতার পাশাপাশি থানাটি সেজেছে একটি নির্মল পরিবেশে। কোতোয়ালী থানার পুরাতন দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে থানাটির একজন পুলিশ সদস্য। তিনি হলেন থানাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন। থানায় যোগদানের পর নানা উদ্যোগ নিয়ে কোতোয়ালী থানাকে সাজিয়েছেন চিত্রকর্ম, দেয়াল লিখন ও অসংখ্য ফুলগাছ দিয়ে। সরকারি মুসলিম উ”চ বিদ্যালয় গেট থেকে কোতোয়ালী থানার পুরো দেয়ালজুড়ে ৫৯টি নান্দনিক চিত্রকর্ম ও দেয়াল লিখন। দেয়ালের নিচের অংশটি সাজানো হয়েছে অসংখ্য ফুলগাছ দিয়ে। কোতোয়ালী থানার ভেতর-বাইর এমনভাবে সাজিয়েছেন, যেন থানাটি পেয়েছে অন্য একরূপ। থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ‘সেবা ছাউনি’। তাই সেবা নিতে এসে কাউকে এদিক-ওদিক ঘুরতে হ”েছ না। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীনকে থানা এমন পাল্টে দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ থানায় যোগদান করতে চেয়েছি। সকলের দোয়ায় কোতোয়ালী থানায় যোগদান করতে পেরেছি। যোগদানের পর প্রথমে থানার পরিবেশকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে চেয়েছি। থানার কর্মকর্তারা যদি সুন্দর পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পান, তাহলে তাঁদের কাজে দ্রততা আসে। এতে সেবার মান বৃদ্ধি হয়। তাই আমি আমার থানাকে আমার মতো করে সাজানোর চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি চেয়েছি থানায় সেবা নিতে আসা কেউ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পরে। আমি সুন্দর পরিবেশে সহজ সেবা দিতে চাই। তিনি আরো বলেন, ‘কোতোয়ালী থানার অধীনে সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। সৌন্দর্য বর্ধনে যদি সকলের মনস্তাত্তি¡ক উন্নয়ন হয়, তাহলে আমাদের উচিত অন্তত নিজের অবস্হানটি সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা।

এছাড়াও আমার থানায় অনেক বিদেশী পর্যটক ও পুলিশরা আসেন। তারা যদি আমার থানায় এসে সুন্দর একটি পরিবেশ পান, তাহলে তারা অন্তত এ থানার একটি সুন্দর ছবি নিয়ে যাবেন। এতে আমাদের থানার পরিচিতি সুনামের সাথে বাড়বে।’ থানার পরিবেশকে সকলের গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য এমন আর কি ভাবনা আছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য আমি সেবা ছাউনি করেছি। আমি চাই, আমার থানায় আহত হয়ে আসা লোকজন যেন এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে। তাহলে দেখা যাবে, আমরা তাঁর সেবা দেয়ার সাথে সাথে তার বক্তব্য রেকর্ড করার সুযোগ পাবো। পরবর্তীতে তাঁকে ভালো চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে পাঠাবো। এমন সেবা দিতে পারলে, পুলিশের সাথে সকলের বন্ধুত্বটা সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে। সর্বোপরি আমি চাই আমার থানা আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করুক। কোতোয়ালী থানাকে নির্মল ও সুন্দর করে সাজাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (সিএমপি) নানা প্রতিষ্ঠান থানাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কোতোয়ালী থানাকে পাল্টে দেওয়া ছাড়াও জনগণের কাছে পুলিশি সেবাকে পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগে নিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছে এ পুলিশ কর্মকর্তা। নগরবাসী মনে করে নগরীর প্রত্যেক থানা ও থানায় কর্মকর্তারা কোতোয়ালী থানা ও  ওসি মহসীনের মত হলেই পুলিশ জনগণের বন্ধু কথাটি শতভাগ স্বার্থক হবে।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply