বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

লামায় সেগুন পাতায় পোকার আক্রমণ, বাগান মালিকরা উদ্বিগ্ন

মো.কামরুজ্জামান, লামা (বান্দরবান)
লামায় সেগুন গাছে ছিদ্রপোকার আক্রমণে অ-সময়ে পাতা ঝরে যাচ্ছে। যে মূহুর্তে সেগুন পাতার সবুজে ছেয়ে যাবে পুরো বাগান, ঠিক সেই মূহুর্তে বাদামি রঙ ধারণ করে শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে সেগুন গাছের পাতা। চলতি বছর সেগুনের ফুল আসার সাথে সাথে ছিদ্রপোকা আক্রমণ করে। বনবিভাগ বলছে এর ব্যাপক সংক্রমন হবেনা। অতি আদ্রতা বা শুস্কতার ফলে এই বালাই হতে পারে বলে ধারণা করছেন বনবিভাগ।
লামা উপজেলার কয়েকটি এলাকার পাহাড় জুড়ে সেগুন গাছের পাতা শুকিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সবাইকে বিস্মিত করে তুলেছে। বর্ষার ভর মৌষুমে পাতা শুকানোর কারণ অনুসন্ধানে জানাযায়, এক ধরণের লেদা পোকা সেগুন পাতা খেয়ে ফেলছে! সরজমিন দেখা যায়, সেগুন পাতার উপর হালকা সবুজ রঙের পোকাগুলো শৈল্পিকধারাই খেয়ে চলছে। কৃষি বিভাগের লোকদের মতে এগুলো ছিদ্রপোকা। কাছ থেকে প্রত্যক্ষ্য করা গেছে, প্রতিটি সেগুন পাতায় ৩/৪টি করে পোকা পাতার সবুজ অংশ খেয়ে চলছে। এসব পোকার আকৃতি লম্বাটে প্রায় ২ সেন্টিমিটার।
লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায়, আলীকদমের শীবাতলী গ্রামের কয়েকটি বাগানে সেগুন পাতার এই বালাই দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ সেগুন গাছের পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ার বিষয়টি বাগান মালিকদেরকে বিস্ময়ে হতাশ করে চলেছে। তবে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: কামাল আহমেদ জানান, বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে এসেছে, এ নিয়ে ভয়ের কোন কারণ নেই। তিনি বলেন বৈশ্বিক জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে এসব বালাই দেখা দিতে পারে। লামা বনবিভাগ এর আলামত সংগ্রহ করেছে, এগুলো বন গভেষনাগারে প্রেরণ করা হবে। তিনি আরো জানান, এর ফলে সেগুন গাছের বর্ধনে সামন্য টুকু ব্যাঘাত হবে, এতে তেমন ক্ষতি হবেনা। তবে পরবর্তী মৌসুমে এসব বাগানে নতুন করে আর এ পোকার আক্রমন হবেনা।
অতি উষ্ণতা ও আদ্রতার ফলে এই পোকার আক্রমন হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন পরিবেশ বিদরা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সরকারি রিজার্ভ বাগানের কোথাও এই পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি। এর সংক্রমণ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। জানাযায়, অন্য উদ্বিদের চেয়ে সেগুন পাতার ভিতর ও বাহিরের বৈশিষ্ট ভিন্ন। অনেকটা খসখসে ও পাতার রসের স্বাধ তিতো। তার উপর পোকার ব্যাপক আক্রমন! অন্যসব সবুজ প্রকৃতিতে কোন ধরণের মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে কিনা? সে আশংকা সবার।
বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিরষণের দাবী তুলেছেন স্থানীয়রা।

আরো খবর

Leave a Reply